নাজমুল হুদা বাশার - ফরিদপুর
ফরিদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা গ্রামে গৌতম সাহা যিনি আবার ডাক্তার শাহরিয়ার কবির নামে রোগী দেখেন কোথাও কোথাও। জানা যায় ডাক্তার না হয়েও এই গৌতম সাহা সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে তিনি পরিচয় দেন একজন এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে শুধু তাই নয় তার ছদ্মবেশী পেশার আড়ালে রয়েছে একের পর এক ভয়ংকর নারী লিপ্সা। গৌতম সাহা ওরফে ডাক্তার শাহারিয়া কবীর এর ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকরা হঠাৎ হাজির হন গৌতম সাহার ভাড়া বাড়িতে, সেখানে গিয়ে দেখা যায় গৌতম সাহা সেখানে অবস্থান করছেন তার কথিত স্ত্রী সাজিয়া আফরিনকে নিয়ে। এমন সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে গৌতম ও সাজিয়া প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও পরে তারা কথা বলেন। বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পর ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির খবর যা অনেক দীর্ঘ। যেখানে বেরিয়ে আসে গৌতম সাহার মতো ভয়ংকর চরিত্রের অধিকারী তার কথিত স্ত্রী সাজিয়া আফরিনের আরো অনেক অপকর্ম। গৌতম এবং সাজিয়ার বিয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বিয়ের কাগজ দেখান সেখানে দেখা যায় গৌতম সাহার প্রথম স্ত্রীর নকল স্বাক্ষর। তালাকের স্বাক্ষরের ব্যাপারে গৌতমের প্রথম স্ত্রী জুথি রানী সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- গৌতম একজন প্রথম শ্রেণীর প্রতারক ও অমানুষ ও আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছে, আমি আমার দুই কন্যা সন্তান কে নিয়ে ভয়ানক জীবনযাপন করছি ওর সাথে, ও আমাকে মেরে ড্রেনে ফেলে দেওয়ার প্লান করেছিল যাতে আমার লাশ কেউ না পায়, ওর লাম্পট্যের কারনে আমার জীবন দুর্বিষহ, ও কিছুদিন পর পর মুসলিম ধর্মের বিভিন্ন বয়সী মেয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক করে, এসব দেখে আমি খুবই ক্লান্ত, উপায়ান্তর না দেখে আমি আমার মেয়ে দুটিকে নিয়ে বর্তমানে আমি আমার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছি। কিন্তু গৌতমের সাথে আমার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি, এমনকি আমি কোন কাগজপত্র বা স্ট্যাম্পে সই স্বাক্ষর করিনি বলে জানান। গৌতম সাহার প্রথম স্ত্রী জুথি রানী সাহা কান্না বিজড়িত কন্ঠে আরো বলেন বছর দুয়েক আগেও ধোপাডাঙ্গা এলাকায় রহিমা নামে একটি মেয়ের সাথে দীর্ঘকাল সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল পরবর্তীতে এলাকার লোকজন তাদেরকে ধরে স্থানীয়ভাবে বিচার করে আমি আমার দুই কন্যা সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে অনেক ধৈর্য ধরে সংসার
করেছিলাম কিন্তু সময় অসময়ে আমাকে মারধর করতো ও বিভিন্ন অপকর্মের কারনে আমি আমার কন্যা দুজনের জীবন বাঁচানোর জন্য আমার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছি। এ সময় তিনি আরো জানান গৌতম এতটাই পাষণ্ড পুরুষ যে, আমার কোন খোঁজ খবর তো নেয়ই না এমনকি আমার কন্যা সন্তান দুটির ও কোন খোঁজ খবর নেয় না অথচ- ঠিক ও অন্য নারীদের সাথে আমত ফুর্তি করে বেড়াচ্ছে। গৌতম এর স্ত্রী জুথি সাহা খুবই কষ্ট ও হতাশার কন্ঠে জানান, আমি খুবই আশ্চর্য হয়েছি তখন যখন গৌতম আমাকে বাধ্য করে সাজিয়ার সাথে একই ঘরে আমাকে ও মেয়ে দুটিকে নিয়ে প্রায় ছয় মাস একসাথে থাকতেও। গৌতম আমাকে সামনে দাঁড় করিয়ে ও সাজিয়ার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতো, তখন আমার মেয়ে দুটির কাছে ও লজ্জা না পেলেও আমি চরম লজ্জা অপমানে পাথর হয়ে যেতাম। আমি প্রতিবাদ করতে চাইলে ও ভয় দেখাতো এই বলে যে, এলাকার মুসলমানরা খুব খারাপ যদি জানতে পারে তবে আমাদেরকে মেরে ফেলবে এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেবে, আমার মেয়ে দুটির ভালো কোথাও বিয়ে হবে না, এ সমস্ত কথা শুনে আমি কিছুদিন চুপ থাকার পরেও যদি আবার প্রতিবাদ করতাম তবে আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে রক্তাক্ত করে ফেলতো। আসলে এই গৌতম একজন এমন ধরনের বিকৃত রুচীর মানুষ, মুসলিম মেয়েদের প্রতি ওর চরম দুর্বলতা ও যৌনাচারে এতটাই বেসামাল এবং নিলজ্জ যে কারো পরয়ানা করে না। ওর টাকার কাছে সবাই দুর্বল এমনকি আমি মনে করি যদি আপনারা ওর কথা না শুনেন তবে ও আপনাদেরও ক্ষতি করবে, সাবধানে থাকবেন। জুথি সাহা, আরো বলেন ও যে সাজিয়া আফরিনকে আমার সই স্বাক্ষর নকল করে বিয়ে করেছে সেও আরেক ভয়ংকর চরিত্রের নারী যা আপনারা একটু খোঁজখবর নিলেই পেয়ে যাবেন বলে জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬