নাজমুল হুদা বাশার- ফরিদপুর
এবার ফরিদপুরে পুলিশের ট্রেইনি কনস্টেবল পদে মাত্র ২২০ টাকায় সরকারি ফি' দিয়ে ২৩ জন প্রার্থী সফলভাবে নিবাচীত হয়েছে। জানা গেছে, তারা প্রায় প্রার্থী অসচ্ছল পরিবারের।তারা বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের সারথি হয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা রেখেই তারা পুলিশের চাকুরী বেছে নিয়েছেন বলে জানান।
এব্যাপারে ফরিদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, আগস্ট মাসে পুলিশের কনস্টেবল পদে ফরিদপুর থেকে মোট ১২১১ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এরপর থেকে সরকারি নিয়ম নীতি অনুসরণ করে প্রতিটি কঠিন ধাপ অতিক্রম করে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৩৪৩ জন। এর মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ হন। পরে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ২৩ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। এরমধ্যে চূড়ান্ত নিয়োগ পরীক্ষায় ২৩ জনের মধ্যে তন্দ্রা আক্তারী একমাত্র নারী কনস্টেবল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার ঘনশ্যামপুর গ্রামের মোঃ তোরাব বিশ্বাসের কন্যা। তন্দ্রা আক্তারীর চাকুরীর খবর পেয়ে হাসি ফুটেছে বাবা-মা আত্মীয়-স্বজন সহ এলাকার বাসির। অভাব অনটন সংসারের মাহিন্দ্রা চালক বাবার কন্যা তন্দ্রা আক্তারী (১৮)। মাহিন্দ্রা চালক বাবার স্বপ্ন পূরণে আর পরিবারের অসচ্ছলতার মাঝে তাঁর যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি কনস্টেবল পদে নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ২২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পাওয়া
তন্দ্রা আক্তারী বলেন- আমার বাবা একজন মাহিন্দ্রা চালক। আমার যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হয়েছে, মাত্র ২২০ টাকার বিনিময়ে চাকরিটা হয়েছে। একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে আমার বাবার পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত আমার বাবা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাকে লেখাপড়া করিয়েছেন আজ আমি আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে আমি আনন্দিত
রঘুনন্দন এলাকার সুমন মন্ডলের ছেলে তামীম মন্ডল চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আমার বাবা ট্রাক চালক মাত্র ২২০ টাকায় পুলিশের চাকরি হবে ভাবতেই পারিনি।
বন্ধুর পোশাক ধার করে আমি মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। সিয়াম মোল্যা বলেন, আমার বাবা লাবলু মোল্যা পেশায় একজন কৃষি শ্রমিক। ছোট কাল থেকে স্বপ্ন ছিল পুলিশ হওয়ার। বাবার সাথে কৃষি কাজ করে পড়ালেখা করেছি৷ আমার মেধাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ সাফল্য আমার বাবার হাত ধরেই পেয়েছি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের পুলিশ ট্রেইনি কনস্টেবল পদের নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার(এসপি) মো. আব্দুল জলিল বলেন, পুলিশের নিয়োগে অনেক সময় নানা ধরনের বিষয় নিয়ে অভিযোগ উঠলেও ফরিদপুরে স্বচ্ছ ভাবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ২৩ জন নির্বাচিত হয়েছে।।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬