ঢাকা ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শোক সংবাদ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ২৫০ শয্যার, নির্মাণের উদ্যোগ ১৫ তলা আধুনিক ভবনের পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিবচরে যুবলীগ নেতার দাপট, ভয়-ভীতি ও মারধর করে জমি দখলের অভিযোগ সদরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ও বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত অনিয়ম ও অবহেলা সহ্য করা হবে না: সদরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৩ সেবিকা বদলি

ফরিদপুর পৌরসভার বিল্ডিং কোড অমান্য করে আলিশান ভবন নির্মাণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫ ২১৬ বার পড়া হয়েছে

oplus_2

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

রেজাউল করিম, ফরিদপুর প্রতিনিধি

 

ফরিদপুর পৌরসভার বিল্ডিং কোড ও অনুমোদন ছাড়াই চারতলা বিশিষ্ট একটি আলিশান ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী শেখ আতিয়ার রহমান এর বিরুদ্ধে। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার রঘুনন্দপুর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডে অবস্থিত জমিতে এ ভবনের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ভবনটির দ্বিতল পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভবন নির্মাণের কারণে প্রতিবেশী আব্দুল লতিফ শেখ নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে ফরিদপুর পৌরসভায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে উক্ত জমিতে নির্মাণ কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেন। জমির তথ্য অনুযায়ী, মৌজা নং ১২৮, বিএস খতিয়ান ১৬৮৯, বিএস দাগ নং ৩০১১, মোট ১৬ শতক জমির আংশিক অংশ বিশেষ লতিফ শেখ ও শিখা বেগম এর মালিকানাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেখ আতিয়ারের ভবন নির্মাণের অংশ আব্দুল লতিফ শেখ ও শিখা বেগমের জমির ভেতর আংশিক ঢুকে গেছে। ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করে ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করে কেন অনুমোদন ছাড়া নির্মিত দালান ভেঙে ফেলা হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে তিন দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে। এ সংক্রান্ত চিঠির শারক নং ৪৬.৬০.২৯৪৭.২০৭.০১.০৩৮.২৫-৬৯৭(১)৫।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর পৌরসভার সার্ভেয়ার মো. জাহিদুর রহমান শেখের সহিত মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,

“আতিয়ার শেখের পিতা শাহজাহান শেখ পৌরসভার বিল্ডিং কোড অমান্য করে ভবন নির্মাণ করছেন। পাশের দুই ভুক্তভোগীর আট ইঞ্চি করে জায়গা দখল করে ভবনের মূল কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ভবনের উঁচু অংশ ও পাশের গাছের ডালপালা অপসারণের জন্য বলা হলেও তা মানা হয়নি। বিষয়টি তদন্তের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে অম্বিকাপুর ভূমি কর্মকর্তা সেলিমের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখ সকাল ৯টায় পৌরসভার সার্ভেয়ার জাহিদুর রহমান শেখের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে সাইট পরিদর্শন ও স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। ওই সময় ভুক্তভোগী লতিফ শেখ ও শিখা বেগমের দখলীয় জমির পশ্চিম পাশে থাকা গাছের ডালপালা কেটে দুপাশের সানসেট অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং দ্বিতীয় পক্ষকে ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য পৌরসভায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশ অমান্য করে শেখ শাহজাহান ও তার পুত্র আতিয়ার শেখ নিজের ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী হওয়ায় আতিয়ার শেখ তার প্রভাব খাটিয়ে পৌরসভার আইন-নিয়মকে উপেক্ষা করে বিল্ডিং নির্মাণ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় আতিয়ার শেখ পূর্বে কানাইপুর পল্লী বিদ্যুতে চাকরি করা কালীন সময়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ থাকায় তাকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অন্যত্র বদলি করে দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ,

১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও কাজ বন্ধ হয়নি। প্রশাসনের চোখের সামনে অবৈধভাবে এই ভবন নির্মাণ চলেছে।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আঃ লতিফ শেখ এর বাড়ি ও শিখা বেগম এর বাড়ি ক্ষতিগরস্ত হতে পারে বলে  প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুর পৌরসভার বিল্ডিং কোড অমান্য করে আলিশান ভবন নির্মাণ

আপডেট সময় : ০২:০০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

 

 

রেজাউল করিম, ফরিদপুর প্রতিনিধি

 

ফরিদপুর পৌরসভার বিল্ডিং কোড ও অনুমোদন ছাড়াই চারতলা বিশিষ্ট একটি আলিশান ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী শেখ আতিয়ার রহমান এর বিরুদ্ধে। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার রঘুনন্দপুর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডে অবস্থিত জমিতে এ ভবনের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ভবনটির দ্বিতল পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভবন নির্মাণের কারণে প্রতিবেশী আব্দুল লতিফ শেখ নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে ফরিদপুর পৌরসভায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে উক্ত জমিতে নির্মাণ কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেন। জমির তথ্য অনুযায়ী, মৌজা নং ১২৮, বিএস খতিয়ান ১৬৮৯, বিএস দাগ নং ৩০১১, মোট ১৬ শতক জমির আংশিক অংশ বিশেষ লতিফ শেখ ও শিখা বেগম এর মালিকানাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেখ আতিয়ারের ভবন নির্মাণের অংশ আব্দুল লতিফ শেখ ও শিখা বেগমের জমির ভেতর আংশিক ঢুকে গেছে। ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করে ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করে কেন অনুমোদন ছাড়া নির্মিত দালান ভেঙে ফেলা হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে তিন দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে। এ সংক্রান্ত চিঠির শারক নং ৪৬.৬০.২৯৪৭.২০৭.০১.০৩৮.২৫-৬৯৭(১)৫।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর পৌরসভার সার্ভেয়ার মো. জাহিদুর রহমান শেখের সহিত মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,

“আতিয়ার শেখের পিতা শাহজাহান শেখ পৌরসভার বিল্ডিং কোড অমান্য করে ভবন নির্মাণ করছেন। পাশের দুই ভুক্তভোগীর আট ইঞ্চি করে জায়গা দখল করে ভবনের মূল কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ভবনের উঁচু অংশ ও পাশের গাছের ডালপালা অপসারণের জন্য বলা হলেও তা মানা হয়নি। বিষয়টি তদন্তের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে অম্বিকাপুর ভূমি কর্মকর্তা সেলিমের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখ সকাল ৯টায় পৌরসভার সার্ভেয়ার জাহিদুর রহমান শেখের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে সাইট পরিদর্শন ও স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। ওই সময় ভুক্তভোগী লতিফ শেখ ও শিখা বেগমের দখলীয় জমির পশ্চিম পাশে থাকা গাছের ডালপালা কেটে দুপাশের সানসেট অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং দ্বিতীয় পক্ষকে ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য পৌরসভায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশ অমান্য করে শেখ শাহজাহান ও তার পুত্র আতিয়ার শেখ নিজের ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী হওয়ায় আতিয়ার শেখ তার প্রভাব খাটিয়ে পৌরসভার আইন-নিয়মকে উপেক্ষা করে বিল্ডিং নির্মাণ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় আতিয়ার শেখ পূর্বে কানাইপুর পল্লী বিদ্যুতে চাকরি করা কালীন সময়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ থাকায় তাকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অন্যত্র বদলি করে দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ,

১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও কাজ বন্ধ হয়নি। প্রশাসনের চোখের সামনে অবৈধভাবে এই ভবন নির্মাণ চলেছে।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আঃ লতিফ শেখ এর বাড়ি ও শিখা বেগম এর বাড়ি ক্ষতিগরস্ত হতে পারে বলে  প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।