মোঃ রাকিবুল হাসান মিঠু,মধুখালী উপজেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা পরিষদের বাউন্ডারির ভেতর থেকে প্রায় অর্ধ শতাধিক সরকারি গাছ গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি,গত কয়েকমাস সুযোগ বুঝে বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ অনুমোদন ছাড়াই কেটে বিক্রি করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়,পরিষদের ভবনের চারপাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ দীর্ঘদিন ধরে লাগানো ছিল। এসব গাছ উপজেলা পরিষদের সরকারি সম্পত্তি হলেও সম্প্রতি কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতার মাধ্যমে বেশ কিছু গাছ বিক্রি করা হয়েছে।
তবে এ গাছ বিক্রির বিষয় স্থানীয় কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায় তারা বলেন প্রায়ই আমাদেরকে বলে গাছ কিনতে তবে মাঝেমধ্যে কিনি,তবে এটা উপজেলার কর্মকর্তাদের অনুমতি না থাকলে তারা বিক্রি করে কিভাবে। আমরা তো এত কিছু জানি না যে তারা এগুলো গোপনে বিক্রি করছে। আমরা তো মনে করি এটা বৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে তাই আমরা কিনি।
উপজেলা পরিষদের এক সহকারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,আমরা হঠাৎ দেখি এক সকালে কয়েকটি বড় গাছ নেই। পরে শুনেছি রাতেই ট্রাকযোগে গাছ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনুমতি কারা দিয়েছে তা আমরা জানি না।
ঘটনার বিষয়ে মধুখালী উপজেলা বন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
সরকারি নিয়মের বাইরে এসব গাছ গোপনে বিক্রি করা অপরাধ। গাছ বিক্রির প্রয়োজন হলে সরকারি বিধি মোতাবেক যেমন:
কমিটি গঠন:মূল্য নির্ধারণ এবং নিলাম প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য একটি সুপারিশ প্রদানকারী কমিটি গঠন করা হয়।এই কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকেন।
নিলাম প্রক্রিয়া:নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী দরপত্রের মাধ্যমে বা নিলামে গাছ বিক্রি করা হয়।
প্রকল্পের জন্য গাছ কর্তন:উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গাছ কাটার প্রয়োজন হলে, এই কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি সম্পদ এভাবে গোপনে বিক্রি করা দুর্নীতির শামিল এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রাসেল এর হুয়াটচাপে খুদে বার্তার মাধ্যমে জানতে চাইলে তিনি গাছ বিক্রির বিষয়ে কোন উত্তর দেননি।
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, সরকারি এলাকায় গাছ কাটা শুধু অনৈতিক নয়, পরিবেশের জন্যও বড় ক্ষতি। তারা দ্রুত দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬