আব্দুল মতিন মুন্সী (ফরিদ পুর জেলা প্রতি নিধি)
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন, ঠিক সেই সময়ে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মনিরুজ্জামান মনিরের জমকালো মোটরসাইকেল রোডশো ঘিরে দলজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার এ আচরণকে ‘চরম অসংবেদনশীল’ ও ‘ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রকাশ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
---
শোডাউন শুরু মধুখালী থেকে
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল থেকে মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে মধুখালী থেকে শুরু হয় দীর্ঘ মোটরসাইকেল শোডাউন। এটি বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শতাধিক মোটরসাইকেল ও কয়েক শ’ নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে শোডাউনটি শক্তি প্রদর্শনের রূপ নিয়েছে।
কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়—পুরো শোডাউনে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি বা সুস্থতা কামনায় কোনো স্লোগান বা ব্যানার দেখা যায়নি। এ নিয়ে দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—
“নেত্রী এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এই সময়ে আমাদের সব মনোযোগ থাকা উচিত তার সুস্থতা এবং সুচিকিৎসার দাবীতে। আর ঠিক তখন একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী এভাবে শক্তি প্রদর্শন করছে—এটি দলের মূল ভাবনার সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে বেমানান।”
স্থানীয় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী জানান—
“শোডাউন না করে নেত্রীর আরোগ্য কামনায় দোয়া মাহফিল জোরদার করা উচিত ছিল। একজন ব্যক্তির নির্বাচনী প্রচারণা দলের ভেতরে ভুল বার্তা দিচ্ছে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে মনিরের এই রোডশো তার শক্তি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা।
তবে দলের শীর্ষ নেত্রীর সংকটময় অবস্থায় এককভাবে প্রচারণা চালানো তাকে দলের অভ্যন্তরে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
মনিরুজ্জামান মনিরকে ফোনে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেননি।
বিকেলে তিনি খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল আয়োজন করবেন বলে ফোন কেটে দেন এবং পরে ছবি পাঠানোর আশ্বাস দেন।
দলীয় সূত্র জানায়—ফরিদপুর-১ আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা না করলেও মনিরের এ কর্মকাণ্ড কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এসেছে। বিষয়টি দলের শীর্ষ মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
শুধু ফরিদপুর-১ আসনটি এখনো ঝুলে রয়েছে, যা মনিরের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আরও বাড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
--
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬