
মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ফরিদপুরের তাম্বুলখানা বীজ উৎপাদন খামারে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনের মাধ্যমে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখা ও সাধারণ মানুষের নাগালে কম দামে পেঁয়াজ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিএডিসি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২০২৬ উৎপাদন বর্ষে তাম্বুলখানা খামারে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের দুটি উন্নত জাতের আবাদ করা হয়েছে। জাত দুটি হলো—১) বারি পেঁয়াজ–৫
২) বিএডিসি পেঁয়াজ–০০৬। পেঁয়াজের রোপণ কার্যক্রম শুরু হয় ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এবং শেষ হয় ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. এখানে সর্বমোট ৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপন করা হয়।
এ বিষয়ে তাম্বুলখানা বিএডিসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ শামীম রেজা বলেন, বিএডিসি মূলত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে পেঁয়াজের সংকট এবং বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার বিষয়টি মাথায় রেখেই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষ কম দামে পেঁয়াজ পেতে পারে। এই লক্ষ্যেই বিএডিসি খামারে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন,
এই মৌসুমে আমরা শুধু পেঁয়াজ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকছি না, একইসঙ্গে বীজ উৎপাদনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছি। উৎপাদিত বীজ ভবিষ্যতে সাধারণ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে, যাতে তারা ব্যাপকভাবে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ করতে পারেন।
শামীম রেজা আরও জানান, এই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ রোপণের ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই উত্তোলনযোগ্য হয়। উত্তোলনের সময় একটি গাছে গড়ে চার থেকে পাঁচটি পেঁয়াজ থেকে প্রায় এক কেজি ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষকরা যদি এই জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেন, তাহলে সারা বছরই পেঁয়াজ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বর্তমানে এই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ শুধু ফরিদপুরেই নয়, পাবনা ও ঝিনাইদহের দত্তনগরসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলাতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বিএডিসির খামারের সঙ্গে যুক্ত কৃষকরা জানান, এ ধরনের ব্যতিক্রমী পেঁয়াজ আমরা আগে কখনো দেখিনি। পেঁয়াজের রঙ, আকার ও গঠন একেবারেই আলাদা। যদি আমরা আমাদের নিজস্ব চাষের জমিতে এই জাতের পেঁয়াজ রোপণ করতে পারি, তাহলে বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব হবে এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়া যাবে।
তারা আরও দাবি জানান, সরকার যেন এই উন্নত জাতের পেঁয়াজের বীজ আরও বেশি পরিমাণে উৎপাদন করে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেয়। সব মিলিয়ে, বিএডিসির এই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন উদ্যোগ ভবিষ্যতে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখা, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬