রেজাউল করিম -ফরিদপুর
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় গ্রেপ্তারকৃত এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হাতকড়া অবস্থায় পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশের পাঁচ সদস্যকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার মুন্সিরচর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযুক্ত চরহরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কবির খান (৫২)কে একটি বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কবির খানের সমর্থক ও লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের মারধর ও লাঠিপেটা করা হয়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা হাতকড়া পরা অবস্থায় কবির খানকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চরভদ্রাসন থানার এসআই রফিকুল ইসলাম, এসআই কাজী রিপন, এসআই মোজাম্মেল হক বিশ্বাস, এএসআই সোহেল গাজী ও কনস্টেবল উজ্জ্বল হোসেন। আহতদের স্থানীয় চরভদ্রাসন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কবির খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ভোরে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে হামলার মুখে পড়ে পুলিশ তাকে হেফাজতে রাখতে ব্যর্থ হয়।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চরাঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন কবির খান। তার বিরুদ্ধে ভূমি দখল, জবরদখল, হামলা, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গত প্রায় দেড় দশকে পদ্মার চরের বিস্তীর্ণ জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কবির খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬