ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যা রহস্য উদঘাটন, নারীসহ গ্রেফতার ৩

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ৮৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

  • রেজাউল করিম-ফরিদপুর

ফরিদপুরে সাত বছরের শিশু আইরিন আক্তার বিনা (ওরফে কবিতা) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আজমির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কোতয়ালী থানাধীন গেরদা ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আইরিন। পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না মেলায় ২৫ এপ্রিল শিশুটির বাবা কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর ৩০ এপ্রিল সকালে বাখুন্ডা এলাকার একটি কলাবাগান থেকে শিশুটির পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তদন্তে নামে।

তদন্তে কোতয়ালী থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অভিযুক্ত ইসরাফিল মৃধা চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে ঘটনা ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় সে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরবর্তীতে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরে নাছিমা বেগমের নির্দেশে তার ছেলে শেখ আমিনসহ সহযোগীরা মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাখুন্ডা কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন রেললাইনের পাশের একটি কলাবাগানে ফেলে আসে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, ৩০ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তে দ্রুত অগ্রগতি এনে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যা রহস্য উদঘাটন, নারীসহ গ্রেফতার ৩

আপডেট সময় : ১১:৩৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

 

  • রেজাউল করিম-ফরিদপুর

ফরিদপুরে সাত বছরের শিশু আইরিন আক্তার বিনা (ওরফে কবিতা) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আজমির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কোতয়ালী থানাধীন গেরদা ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আইরিন। পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না মেলায় ২৫ এপ্রিল শিশুটির বাবা কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর ৩০ এপ্রিল সকালে বাখুন্ডা এলাকার একটি কলাবাগান থেকে শিশুটির পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তদন্তে নামে।

তদন্তে কোতয়ালী থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অভিযুক্ত ইসরাফিল মৃধা চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে ঘটনা ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় সে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরবর্তীতে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরে নাছিমা বেগমের নির্দেশে তার ছেলে শেখ আমিনসহ সহযোগীরা মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাখুন্ডা কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন রেললাইনের পাশের একটি কলাবাগানে ফেলে আসে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, ৩০ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তে দ্রুত অগ্রগতি এনে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।