নাজমুল হুদা বাশার, ব্যুরো চিফ ফরিদপুর
“করবো কাজ, গড়বো দেশ — সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তুলে ধরতে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) ফরিদপুর জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক জনাব মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা তথ্য অফিস, ফরিদপুর।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ সোহরাব হোসেন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মহানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা বাশার, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, অমিত সরকার, শেখ শাহীন,সহ সংগঠনের অন্যান্য সাংবাদিক বৃন্দ,ফরিদপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ ফয়েজ আহমেদ, মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হায়দার খানসহ জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ সোহরাব হোসেন সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচির আওতায় দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, হিজড়া ও বেদে সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, এক একর বা তার কম জমির মালিক, অতি দরিদ্র নারী-প্রধান পরিবার এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষ।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত দেশের ১৩ জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এ পর্যায়ে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম ফরিদপুর জেলার খাল পুনঃখনন ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ১১টি খাল পুনঃখনন ও পূর্ণখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে আলফাডাঙ্গায় একটি, ভাঙ্গায় দুটি, বোয়ালমারী-মধুমতি ও লংকারচর এলাকায় দুটি, চরভদ্রাসনে দুটি, সদরপুরে দুটি, নগরকান্দায় দুটি এবং সালথায় তিনটি খালের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্রিফিংয়ে সরকারের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক মানবিক উদ্যোগও তুলে ধরা হয়। ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজকদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা কার্যক্রম চালুর বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪০টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৯৬টি গির্জাকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
এ কর্মসূচির আওতায় প্রতি মসজিদে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে সম্মানী। অন্যদিকে মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারের ধর্মীয় সেবাদানকারীরাও মাসিক ভাতা পাবেন। ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের কৃষি ঋণ মওকুফ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, প্রায় ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণ মাফ হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের নতুন উদ্যোগ হিসেবে নারী চালক, নারী কন্ডাক্টর ও নারী হেলপার দ্বারা পরিচালিত বিআরটিসির “মহিলা বাস” চালুর বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের জন্য “ক্রীড়া কার্ড” এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য “ক্যাপ্টেন কার্ড” চালুর বিষয়েও আলোচনা করা হয়। ক্রীড়া কার্ডের আওতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারীরা মাসিক ভাতা ও সম্মাননা পাবেন। অন্যদিকে ক্যাপ্টেন কার্ডধারীরা ভিআইপি গ্যালারিতে প্রবেশাধিকার ও বিশেষ পার্কিং সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা তথ্য অফিসের বাস্তবায়িত বিভিন্ন গণসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় উঠান বৈঠক ও কমিটি সভা ১ হাজার ২১টি, নারী সমাবেশ ২০২টি, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ১৬০টি, সড়ক প্রচার ৩ হাজার ২৪৮ ইউনিট, অনলাইন প্রচারণা ২ হাজার ৩১৬টি, কৃষক সমাবেশ ১৪টি, ফ্যামিলি সমাবেশ ২২টি, লাইভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রচার ৩৪০টি এবং নৈতিকতা উন্নয়নবিষয়ক সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা ১৪টি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার, দুর্নীতি ও সহিংসতা প্রতিরোধ, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সংস্কৃতির বিকাশে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি সময়ে ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা বাশার বলেন ফরিদপুর সাংবাদিক মহলে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এই বৈষম্য দূরীকরণ সহ ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বাইরে যারা সাংবাদিকতা করে এবং তারা বিভিন্ন সংগঠনে জরিতো আছে তাদের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান,কারন যেহেতু ফরিদপুর প্রেস ক্লাব তাদের ব্যক্তি স্বার্থে তারা অন্য সাংবাদিকদের সদস্য করছে না পাশাপাশি অন্য সংগন পরিচালিত হোক তাঁরা চাইনা সুতরাং আমাদের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করে দিবেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার বিস্তারিত জবাব দেন। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল তথ্যবহুল, প্রাণবন্ত এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরার একটি কার্যকর উদ্যোগ।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬