রেজাউল করিম, ফরিদপুর
ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মোঃ কামাল হোসাইনের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কবিরপুর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোঃ কামাল হোসাইনের সঙ্গে প্রতিবেশী আব্দুর ওহাব মন্ডলের দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে বিষয়টি বর্তমানে ফরিদপুর জেলা আদালতে দেওয়ানি মামলা হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময় তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ জুন (শুক্রবার) সকালে আব্দুর ওহাব মন্ডলের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি অতর্কিতভাবে কামাল হোসাইনের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মোসাঃ সাবিনা ইয়াসমিন, ওবায়দুল মন্ডল, ওহাব শেখ, তোফাজ্জেল হোসেন, মোরাদ মন্ডল, সুজন মন্ডল, উর্মি আক্তার ও কাদের মন্ডলসহ আরও কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা বাড়ির বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় এবং নির্মাণাধীন একটি সেপটিক ট্যাংক ভেঙে ফেলে। এতে তাদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া হামলার সময় পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। সেপটিক ট্যাংক ভাঙচুরে বাধা দিতে গেলে কামাল হোসাইনের স্ত্রী ও ছেলেকে মারধর করা হয়, ফলে তারা আহত হন।
মোঃ কামাল হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি জানান, মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ৬৫ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। হামলায় নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পানি ব্যবহার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “সেপটিক ট্যাংকটি ভেঙে দেওয়ায় মাদ্রাসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”
মোঃ কামাল হোসাইন আরও বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তারপরও প্রতিপক্ষ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আমার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমার স্ত্রী ও সন্তানকে মারধর করা হয়েছে এবং নির্মাণাধীন স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, হামলার প্রভাব শুধু তার পরিবারের ওপরই নয়, তার পরিচালিত মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়েছে। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি পূরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই হাসান শিকদার জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দায়ের করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল আদালতে বিচারাধীন জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ ধরনের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬