নিজস্ব প্রতিবেদক দৈনিক ফরিদপুর মহানগর বার্তা
ফরিদপুর শহরের ভাটিলক্ষীপুর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলা, কুপিয়ে জখম, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটিলক্ষীপুর এলাকায় মো. শহিদুল ফকিরের বসতবাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আ. কুদ্দুস বেপারী (৫৮), তপন বেপারী (৩২), নাইম বেপারী (২২), আজিম বেপারী (১৮), রাকিব (২৩), আবির (১৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ব বিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা রামদা, ছেনদা, চাপাতি ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহিদুল ফকিরের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে হামলা শুরু করে।
হামলার একপর্যায়ে শহিদুল ফকিরের মা সালমা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ভাগ্নে রিপন প্রামাণিকের মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ দেওয়া হয়। এছাড়া তার বাম পায়ের উরুতেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে শহিদুল ফকিরের পিতা ফজলু ফকিরের বাম পায়ের উরুতেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। হামলার সময় শহিদুল ফকির ও তার বোন শিল্পীকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা ও জখম করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারটির দাবি, হামলাকারীরা শুধু শারীরিক হামলাতেই ক্ষান্ত হয়নি; তারা বসতঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৮৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। একই সঙ্গে ঘরে থাকা গরুর ব্যবসার নগদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে একটি স্বর্ণের চেইন, একটি ব্রেসলেট এবং এক জোড়া কানের দুল রয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার সময় ভুক্তভোগীদের ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার আগে তারা পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত ফজলু ফকিরকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া সালমা বেগম, রিপন প্রামাণিক ও শিল্পীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শহিদুল ফকির জানান, আহত স্বজনদের চিকিৎসা ও হাসপাতালে ভর্তি সংক্রান্ত ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যেতে পারেননি। পরে সুস্থভাবে বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলা নং-২০, তারিখ: ০৯ জুন ২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৪২৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬