আল-আমিন হোসেন বিজয়, নগরকান্দা, ফরিদপুরঃ
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ছাত্রদলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আংশিক কমিটি ঘোষণার পরপরই সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
একদিকে পদবঞ্চনার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একাংশের নেতাকর্মীরা, অন্যদিকে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
গত (২২ জুন) জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু ও সাধারণ সম্পাদক তানজিদুল হাসান কায়েস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সালথা উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে রেজাউল ইসলাম রাজকে সভাপতি এবং সোহেল মাতুব্বরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
কমিটি ঘোষণার একদিন পর মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে সালথা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম অভিযোগ করেন, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে মনগড়া একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, একাধিক মামলা মোকাবিলা করা এবং দলের দুর্দিনে পাশে থাকা অনেক নেতাকর্মীর নাম নতুন কমিটিতে রাখা হয়নি। এমনকি জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তার নিজের নামও কমিটির কোনো পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সাইফুল আলম আরও দাবি করেন, যাদের অনেকেই সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্বের প্রতি কমিটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে প্রকৃত ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানান।
এদিকে, নতুন কমিটি ঘোষণার পর উপজেলা ছাত্রদলের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মী ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলমকে কোনো পদে না রাখায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একটি অংশও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, দলের দুর্দিনে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হওয়া একজন নেতাকে কমিটির বাইরে রাখা অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সাইফুল আলমকে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক অবদানের ভিত্তিতে যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন একই সময়ে সালথা বাজার এলাকায় নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেন। পরে তারা মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাসে অংশ নেন। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের দাবি, জেলা নেতৃত্ব যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়েই নতুন কমিটি গঠন করেছে।
তাদের মতে, দীর্ঘ এক যুগ পর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার ফলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর কোনো সংগঠনের কমিটি গঠন হলে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রেখে মতপার্থক্য নিরসন করা নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সালথা উপজেলা ছাত্রদলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে, যেখানে একদিকে কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে উচ্ছ্বাসও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এখন কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্ব বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং পদবঞ্চিতদের অভিযোগের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই নজর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬