নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
ফরিদপুর শহরের বাইপাস সড়কসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ঘরে বসবাসকারী অসহায় ব্যক্তি মো. মামুন প্রামানিক (পিতা: মোজাম্মেল প্রামানিক,নাটর সদর উপজেলার বাসিন্দা। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল ও পরিত্যক্ত সামগ্রী সংগ্রহ করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন মামুন। সমাজের প্রান্তিক এই মানুষটি শহরের বাইপাস সড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, ওই এলাকায় বসবাসরত ইয়াবা সেবনকারীদের মুল হোতা মোঃ সৈকত, মোঃ হোসেন, কিবরিয়া, , ও সুব্রত নামের কয়েকজন যুবক প্রায়ই মামুনের কাছে গ্যাস লাইট চাইতেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা ওই লাইট ব্যবহার করে মাদক সেবন করতেন এবং ব্যবহারের পর লাইট নষ্ট অবস্থায় ফেরত দিতেন। একপর্যায়ে প্রতিদিনের মতো আবারও গ্যাস লাইট চাইলে মামুন তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে তারা তাকে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার হাত-পা গুরুতরভাবে ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মামুনের দাবি, নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা তার হাতে মাত্র ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে সাইচা গ্রামের এক কবিরাজের কাছে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তিনি আবার নিজের পরিত্যক্ত আশ্রয়ে ফিরে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পরিত্যক্ত ঘরে পড়ে থেকে যন্ত্রণায় দিন-রাত চিৎকার করছিলেন মামুন। বিষয়টি নজরে এলে এলাকার কিছু মানবিক মানুষ উদ্যোগ নিয়ে তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করান।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের কাছে মামুন বলেন, "আমি খুব অসহায় মানুষ। প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে খেয়ে বাঁচি। আমাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। আমি এই মাদকসেবীদের বিচার চাই। প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন, যেন আমাকে ন্যায়বিচার দেওয়া হয়।"
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে অসহায় ও দরিদ্র মামুন প্রামানিকের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
একজন অসহায় মানুষের আর্তনাদ আজ ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায়। সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল মহলের কাছে প্রশ্ন—অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কি নিশ্চিত হবে, নাকি দরিদ্র ও অসহায় হওয়ার কারণে মামুনের এই কান্না চাপা পড়ে যাবে?
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬