রেজাউল করিম, বিশেষ প্রতিনিধি
একসময় ফরিদপুর পৌরসভা থেকে একটি নাগরিকত্ব সনদ কিংবা বিভিন্ন ধরনের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নথি পাঠানো হতো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে প্রতিবেদন পেতে বিলম্ব হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তেন সেবাপ্রত্যাশীরা। অনেক ক্ষেত্রে একটি প্রত্যয়নপত্র পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্রে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী দায়িত্ব গ্রহণের পর নাগরিকসেবাকে সহজ ও দ্রুত করতে একাধিক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। মাত্র চার মাসের মধ্যেই তাঁর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সেবা প্রদানের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার সেবাগ্রহীতারা।
পৌরসভায় বর্তমানে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিকত্ব সনদ ও প্রত্যয়নপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে বিকল্প একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তার ওপর অর্পণ করেন। আবেদন যাচাই করে তাঁর সুপারিশের ভিত্তিতেই এখন প্রয়োজনীয় সনদ প্রদান করা হচ্ছে। ফলে নাগরিকদের আর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে না। যে সেবা আগে পেতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগত, বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা এক থেকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে।
শুধু সনদ প্রদান নয়, পৌরসভার সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও আনা হয়েছে শৃঙ্খলা। দীর্ঘদিনের নানা অনিয়ম ও অপচয় রোধে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছেন। পৌরসভার যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই সপ্তাহে একদিন উপস্থিত থেকে তেল সরবরাহ কার্যক্রম তদারকি করেন। এতে অপচয় ও অনিয়ম অনেকাংশে কমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন অভিযোগ ও বিভাগীয় তদন্তের ভিত্তিতে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িত প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছিল জনসেবার মানোন্নয়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। যদিও এসব পদক্ষেপে অসাধু স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি মহলের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে, নাগরিকসেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তাও নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আবেদন যাচাই, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত সুপারিশ প্রদানের মাধ্যমে তিনি সেবাপ্রার্থীদের সময় ও দুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। পৌরবাসীর অনেকেই বলছেন, আগের তুলনায় এখন সেবা গ্রহণ অনেক সহজ, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্ত হয়েছে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৩৩তম ব্যাচের কর্মকর্তা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা এই কর্মকর্তা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে ২০১৪ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের বৃত্তি নিয়ে কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও পাবলিক পলিসি বিষয়ে ডিস্টিংশনসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রায় এক যুগের প্রশাসনিক কর্মজীবনে তিনি সততা, পেশাদারিত্ব ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থানের জন্য পরিচিতি পেয়েছেন। ফরিদপুরে যোগদানের আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে স্বচ্ছ প্রশাসন ও নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের জন্যও তিনি প্রশংসিত হন।
ফরিদপুর পৌরসভায় তাঁর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই প্রশাসনিক পরিবর্তন ইতোমধ্যে নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে বর্তমান উদ্যোগগুলো ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬