ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভেজালবিরোধী ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জেলা প্রশাসন, বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয় ফরিদপুর, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার রয়েল ফিলিং স্টেশনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত ট্যাংকলরির ক্যালিব্রেশন সনদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এ জরিমানা করা হয়।
একই এলাকার রয়েল হাইওয়ে ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণ, বাসি খাবার পরিবেশন, কর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ না থাকা, খাদ্য তৈরির স্থানে মাছিসহ বিভিন্ন প্রাণীর উপদ্রব এবং ভেজাল ঘি ও নন-ফুডগ্রেড রং ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া কানাইপুরের মেহেদী ফুড প্রোডাক্টসের বেকারি পণ্য উৎপাদনস্থলে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়ায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শেফ ফুড ইন্ডাস্ট্রিজে চানাচুর ও চিপস তৈরিতে পোড়া তেল ব্যবহারের বিষয়টি ধরা পড়ে। পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ফ্লেভারড ড্রিংকস ও এডিবল জেল পণ্যের লেবেলে ভুল তথ্য, খাদ্যপণ্যে অননুমোদিত রঙের ব্যবহার এবং ফুড কালারের বোতলে আমদানিকারকের সিল না থাকার মতো অনিয়মও পাওয়া যায়। এসব অপরাধে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ জান্নাতুল সুলতানা।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই ফরিদপুরের পরিদর্শক (মেট) মো. খালিদ হাসান, জেলা খাদ্য ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ খান এবং ফিল্ড অফিসার (সিএম) প্রকৌশলী এস এম সোহরাব হোসেন।
বিএসটিআই ফরিদপুর জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাজমুল হুদা বাশার ০১৭১১২৫৩৬৭৬
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রেজাউল করিম ০১৭১১৯২৯৪৭৩
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬