ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শোক সংবাদ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ২৫০ শয্যার, নির্মাণের উদ্যোগ ১৫ তলা আধুনিক ভবনের পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিবচরে যুবলীগ নেতার দাপট, ভয়-ভীতি ও মারধর করে জমি দখলের অভিযোগ সদরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ও বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত অনিয়ম ও অবহেলা সহ্য করা হবে না: সদরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৩ সেবিকা বদলি

১২ লাখ হেকেছে ৩৫ মণের ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫ ৬২৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

রাসেল মোল্লা নড়াইল

ঈদুল আজহা সামনে রেখে নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামের ‘চিত্রা অ্যাগ্রো’ খামারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত হয়েছে বিশালদেহী একটি ষাঁড়, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’। ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৫ মণ, দৈর্ঘ্য ১১ ফুট এবং উচ্চতা ৬ ফুট। কুচকুচে কালো রঙের ষাঁড়টি জেলার সবচেয়ে বড় ষাঁড় বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টি শান্ত স্বভাব ও সুস্থ অবয়বের জন্য আলাদাভাবে নজর কাড়ছে।

প্রায় তিন বছর আগে যশোরের সাতমাইল হাট থেকে ৫০০ কেজির একটি ষাঁড় কিনেছিলেন চিত্রা অ্যাগ্রোর মালিক মিল্টন শিকদার। তখনই স্থির করেছিলেন—এটিকে বড় করে তোলাই হবে লক্ষ্য। স্নেহ, যত্ন আর পুষ্টিকর খাদ্যে ধীরে ধীরে বেড়েছে ষাঁড়টির গড়ন। শরীরের রঙ কুচকুচে কালো হওয়ায় ষাঁড়টির নাম রাখা হয় ‘ব্লাক ডায়মন্ড’। গত কোরবানির ঈদের আগে ওজন দাঁড়ায় ৯০০ কেজিতে। তখন বিক্রি করার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলান—আরও এক বছর রেখে দেখবেন কী হয়। সেই ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ডের’ বয়স এখন প্রায় সাড়ে চার বছর। দাঁত ছয়টি, আর ওজন প্রায় ১৪০০ কেজি!

মিল্টন শিকদার বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে, কোনো ধরনের কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ না করে ঘাস, খৈল, ভূট্টার গুঁড়া ও চিটাগুড় খাইয়ে ধীরে ধীরে ষাঁড়টিকে বড় করেছেন। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করলে এবং অতিরিক্ত খাবার দিলে ষাঁড়টির ওজন আরো অনেক বেশি হত। তবে তাতে শরীরে চর্বি বেড়ে যেত এবং ষাঁড়টি ঝিমিয়ে পড়ত। কিন্তু পরিমিত প্রাকৃতিক খাবার দেওয়ার কারণেই ‘ব্লাক ডায়মন্ড’ সুঠাম দেহের অধিকারী এবং অত্যন্ত প্রাণবন্ত। কোরবানির জন্য যেমন পশু প্রয়োজন, তাঁর অনন্য উদাহরণ ‘ব্লাক ডায়মন্ড’।

তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর ষাঁড়টিকে আমরা সন্তানের যত্নে লালন-পালন করেছি। এ বছর ষাঁড়টি বিক্রি করার ইচ্ছা রয়েছে৷ তবে হাটে নিয়ে গিয়ে কষ্ট দিতে চাই না, খামার থেকেই বিক্রি করতে চাই। আমরা খুব বেশি লাভের কথা ভাবছি না। সুলভ মূল্য হিসেবেই ষাঁড়টির দাম ১২ লাখ টাকা চাচ্ছি।”

রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, তারাপুর গ্রামে বিলের ভেতর খোলামেলা পরিবেশে খামারটি তৈরি করা হয়েছে। এতে মোট ৬০ টি গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। তবে খামারে ঢুকতেই টের পাওয়া যায় ব্লাক ডায়মন্ডের রাজকীয় উপস্থিতি। বিশাল দেহের অধিকারী ব্ল্যাক ডায়মন্ড দাঁড়িয়ে আছে অত্যন্ত শান্তভাবে। এছাড়া খামারে আরো ৫৬টি ষাঁড় এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সেগুলো সাইজে ছোট থেকে মাঝারি সাইজের।

ষাঁড়গুলোর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বলেন, খামারের সবচেয়ে বড় গরু ব্লাক ডায়মন্ড। তবে বিশাল দেহের অধিকারী হলেও ষাঁড়টি খুবই শান্ত প্রকৃতির। তবে কোনো কারণে রেগে গেলে ষাঁড়টিকে সামলাতে বেগ পোহাতে হয়। খামার থেকে বের করতে হলে ১৫-২০ জন লোকের প্রয়োজন হয়। ষাঁড়টি খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করে। অন্য সবার থেকে ষাঁড়টিকে বিশেষ যত্নে লালনপালন করতে হয়।

ষাঁড়টি দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন মানুষ। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ দাঁড়িয়ে মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছেন তার দেহের গঠন আর সৌন্দর্য।
ষাঁড়টি দেখতে আসা দর্শনার্থী রাসেল হুসাইন বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটা দেখে আসলাম। সামনে থেকে দেখে তো চোখই সরাতে পারছি না। এমন ষাঁড় জীবনে দেখিনি—একেবারে রাজকীয় চেহারা!”

নড়াইল সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার কুন্ডু প্রথম আলোকে বলেন, “ তারাপুরের খামারটিতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরুগুলোর স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খুবই ভালো। খামারের সবচেয়ে বড় গরুটির নাম ‘ব্লাক ডায়মন্ড’। সেটিও খুবই আকর্ষণীয়। আমরা খামারির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি, ষাঁড়টি কাঙ্ক্ষিত দামেই বিক্রি হবে৷ ”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১২ লাখ হেকেছে ৩৫ মণের ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

 

 

রাসেল মোল্লা নড়াইল

ঈদুল আজহা সামনে রেখে নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামের ‘চিত্রা অ্যাগ্রো’ খামারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত হয়েছে বিশালদেহী একটি ষাঁড়, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’। ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৫ মণ, দৈর্ঘ্য ১১ ফুট এবং উচ্চতা ৬ ফুট। কুচকুচে কালো রঙের ষাঁড়টি জেলার সবচেয়ে বড় ষাঁড় বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টি শান্ত স্বভাব ও সুস্থ অবয়বের জন্য আলাদাভাবে নজর কাড়ছে।

প্রায় তিন বছর আগে যশোরের সাতমাইল হাট থেকে ৫০০ কেজির একটি ষাঁড় কিনেছিলেন চিত্রা অ্যাগ্রোর মালিক মিল্টন শিকদার। তখনই স্থির করেছিলেন—এটিকে বড় করে তোলাই হবে লক্ষ্য। স্নেহ, যত্ন আর পুষ্টিকর খাদ্যে ধীরে ধীরে বেড়েছে ষাঁড়টির গড়ন। শরীরের রঙ কুচকুচে কালো হওয়ায় ষাঁড়টির নাম রাখা হয় ‘ব্লাক ডায়মন্ড’। গত কোরবানির ঈদের আগে ওজন দাঁড়ায় ৯০০ কেজিতে। তখন বিক্রি করার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলান—আরও এক বছর রেখে দেখবেন কী হয়। সেই ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ডের’ বয়স এখন প্রায় সাড়ে চার বছর। দাঁত ছয়টি, আর ওজন প্রায় ১৪০০ কেজি!

মিল্টন শিকদার বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে, কোনো ধরনের কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ না করে ঘাস, খৈল, ভূট্টার গুঁড়া ও চিটাগুড় খাইয়ে ধীরে ধীরে ষাঁড়টিকে বড় করেছেন। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করলে এবং অতিরিক্ত খাবার দিলে ষাঁড়টির ওজন আরো অনেক বেশি হত। তবে তাতে শরীরে চর্বি বেড়ে যেত এবং ষাঁড়টি ঝিমিয়ে পড়ত। কিন্তু পরিমিত প্রাকৃতিক খাবার দেওয়ার কারণেই ‘ব্লাক ডায়মন্ড’ সুঠাম দেহের অধিকারী এবং অত্যন্ত প্রাণবন্ত। কোরবানির জন্য যেমন পশু প্রয়োজন, তাঁর অনন্য উদাহরণ ‘ব্লাক ডায়মন্ড’।

তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর ষাঁড়টিকে আমরা সন্তানের যত্নে লালন-পালন করেছি। এ বছর ষাঁড়টি বিক্রি করার ইচ্ছা রয়েছে৷ তবে হাটে নিয়ে গিয়ে কষ্ট দিতে চাই না, খামার থেকেই বিক্রি করতে চাই। আমরা খুব বেশি লাভের কথা ভাবছি না। সুলভ মূল্য হিসেবেই ষাঁড়টির দাম ১২ লাখ টাকা চাচ্ছি।”

রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, তারাপুর গ্রামে বিলের ভেতর খোলামেলা পরিবেশে খামারটি তৈরি করা হয়েছে। এতে মোট ৬০ টি গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। তবে খামারে ঢুকতেই টের পাওয়া যায় ব্লাক ডায়মন্ডের রাজকীয় উপস্থিতি। বিশাল দেহের অধিকারী ব্ল্যাক ডায়মন্ড দাঁড়িয়ে আছে অত্যন্ত শান্তভাবে। এছাড়া খামারে আরো ৫৬টি ষাঁড় এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সেগুলো সাইজে ছোট থেকে মাঝারি সাইজের।

ষাঁড়গুলোর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বলেন, খামারের সবচেয়ে বড় গরু ব্লাক ডায়মন্ড। তবে বিশাল দেহের অধিকারী হলেও ষাঁড়টি খুবই শান্ত প্রকৃতির। তবে কোনো কারণে রেগে গেলে ষাঁড়টিকে সামলাতে বেগ পোহাতে হয়। খামার থেকে বের করতে হলে ১৫-২০ জন লোকের প্রয়োজন হয়। ষাঁড়টি খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করে। অন্য সবার থেকে ষাঁড়টিকে বিশেষ যত্নে লালনপালন করতে হয়।

ষাঁড়টি দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন মানুষ। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ দাঁড়িয়ে মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছেন তার দেহের গঠন আর সৌন্দর্য।
ষাঁড়টি দেখতে আসা দর্শনার্থী রাসেল হুসাইন বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটা দেখে আসলাম। সামনে থেকে দেখে তো চোখই সরাতে পারছি না। এমন ষাঁড় জীবনে দেখিনি—একেবারে রাজকীয় চেহারা!”

নড়াইল সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার কুন্ডু প্রথম আলোকে বলেন, “ তারাপুরের খামারটিতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরুগুলোর স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খুবই ভালো। খামারের সবচেয়ে বড় গরুটির নাম ‘ব্লাক ডায়মন্ড’। সেটিও খুবই আকর্ষণীয়। আমরা খামারির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি, ষাঁড়টি কাঙ্ক্ষিত দামেই বিক্রি হবে৷ ”