বিরোধিতা নয় শুধুমাত্র বাংলাদেশের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও পবিত্র ভালবাসার কারনেই উপলব্ধি থেকে বলছি।
- আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫ ৪৪০ বার পড়া হয়েছে

সম্পাদকীয়ঃ—-
** শাপলা ❀ গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র প্রতিক।বিশেষভাবে সাদা রংয়ের শাপলা ফুল বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিক।।**
বিগত বাংলাদেশের ফ্যাসিস্ট সরকারকে মসনদ ও দেশ থেকে বিতাড়িত করার সফল অগ্রনায়কেরা হোলো এদেশের ছাত্রছাত্রী সমাজ এবং পরবর্তীতে আরও বেগবান করেন দেশপ্রেমিক জনতা,এবং ছায়া হয়ে শক্তি যোগায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামিলীগ রাজনৈতিক দলের বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলগুলো,মোদ্দা কথা বাংলাদেশের অধিকাংশ সকল জনগণ।
কিন্তুু ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা অনন্য ও অনস্বীকার্য।আর একারণেই আমি আপ্লূত চিত্তে জুলাই বিপ্লবে বলেছিলাম – বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ বিশ্বের এক বিস্ময়।।
আমার মনেহয় রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক দল এক নয়,যদিও বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে যে দল বিজয়ী হবে সে দলটিই নির্দিষ্ট মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।একটি রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সকল রাষ্ট্রের সাথে নিজ রাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করে আর একটি রাজনৈতিক দল আভ্যন্তরীণ প্রতিনিধিত্ব বা সেবা করে।।
সম্প্রতি আমাদের সকলের প্রিয় বাংলাদেশে কিছু নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে যা বাংলাদেশের গনতন্ত্র চর্চার অবাধ এক দৃষ্টান্ত এবং অন্যরকম এক দেশ গঠন ও জনসেবাদানের বিভিন্ন অঙ্গীকারবদ্ধ এসকল সম্ভাবনাময় নতুন রাজনৈতিক দলগুলো।নতুন দলগুলোর মধ্যে ছাত্রজনতার সমন্বয়ে অন্যরকম এক আত্মবিশ্বাস ও উদ্দীপনা নিয়ে গঠিত হয়েছে রাজনৈতিক দল ** এনসিপি** নতুন এ দলের প্রত্যাশা তাদের দলকে যেনো দলীয় প্রতীক – শাপলা ফুল দেওয়া হয়।এখন দেশরক্ষার অগ্রনায়ক ছাত্রসমাজের নিকট বিরোধিতার সূত্রে নয় অথবা পক্ষপাতিত্বের দৃষ্টিতে নয় বরং দেশকে দেশের মতোই চিন্হিত করতে আমার এবং অনেকেরই আবেদন আপনাদের সকলের নিকট,আপনারা রাজনৈতিক দলের প্রতীকী চিন্হের ব্যাপারে একটু গভীরভাবে চিন্তা করবেন।যদিও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগনকে আপনারা জাতীয় ফুল শাপলার অর্থবোধকের মতো অবদান রেখেছেন এজন্য বাঙ্গালী ও 🇧🇩 গর্বিত কিন্তু রাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অনন্য।
রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিক অবশ্যই ভিন্ন ও অন্য এক।ছাত্রসমাজ যুগেযুগে সবসময়ই সকল পরিবর্তনের অগ্রনায়ক এবং সকল বিপ্লবের শানিত হাতিয়ার ও বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নির্মাতা পরিচালক আর একারণেই দলীয় প্রতীক শাপলার আবেদনটি সুচারুভাবে উপলব্ধি করবেন আবেগ দিয়ে নয়।মনে রাখতে হবে ব্যাক্তি ও দলের উত্থান পতন পরিবর্তন ও বিলুপ্তি হয় কিন্তু রাষ্ট্র অন্যরকম এক অবকাঠামোর গঠন যন্ত্র।
** শাপলা ফুলের চিন্হ বিশ্ব দরবারে লালসবুজ পতাকার ভূ-খন্ডকে ও তার সকল জনগনের প্রতিনিধিত্ব করে কিন্তু সকল জনগনই কিন্তু এক বা একক রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেন না।সেকারনেই এবং আরও বিভিন্ন কারনে * শাপলা * ফুল বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে নির্ধারন কতটুকু যৌক্তিক হবে এটা কিন্তু ভাববার বিষয়।
বাংলাদেশের জাতীয় একটি প্রতীক সাদা শাপলা যার তাৎপর্য হচ্ছে- সাদা রং মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং শাপলার পাপড়ি গুলোর মত জনগনকে একত্রিত করে।
ঠিক বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব ২০২৪ এ যেমনটি হয়েছিলো এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবার জন্য সর্বপ্রথম ১৯৭১ সালের মতো।
১৯৭১ সালের ১২ই মার্চ চিত্র শিল্পীদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলা ভবনে যে সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন পূর্বপাকিস্তানের বিখ্যাত শিল্পী – পটুয়া কামরল হাসান,তার উত্থাপিত আবেদন সকলের সম্মতিক্রমে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা ফুল নির্বাচিত করা হয়।
জুলাই বিপ্লব ২০২৪ এ বাংলাদেশের এক অদম্য স্বৈরশাসকের পতন ঘটে ঠিক এই শাপলার প্রতীকী অর্থের জৌলুশের মতোই কিন্তু তথাপিও জনতা ও রাজনৈতিক সংগঠন কখনও এক বস্তু নয় যদিও জনতা ও রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রের অন্যরকম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।।
সকল জনগণ ও দলগুলোকে অবশ্যই অনুরোধ রাষ্ট্রকে অনন্য উচ্চতায় স্হান দিয়ে রাষ্ট্রের সেবা করুন এবং নিজেদের রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের চর্চা এবং বিস্তার করুন।আমরা সকলেই বিশ্বাস করি – ব্যাক্তির চেয়ে দল বড় কিন্তু ব্যাক্তি ও দলের চেয়ে দেশ বড় সর্বোপরিভাবে সবার উপরে বাংলাদেশ।।
কোনো দলমতের বিরোধিতা নয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বতন্ত্রতার স্বার্থে বলছি শাপলা ফুল বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক এটা যেনো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের কোনো আলোকে ম্লান ও প্রশ্নবিদ্ধ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সংকট তৈরী না করে।সবার আগে বাংলাদেশ এই প্রত্যাশায় আজকের মতো বিদায় কোনো ভূল হলে ক্ষমা ও সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে প্রত্যাশা করছে।( মিঞা মোঃ নাজমুল হুদা বাশার,সম্পাদক ও প্রকাশক- (দৈনিক ফরিদপুর মহানগর বার্তা।)
























