ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৭ দেশের বাজার হারিয়েছে কাঁচাপাট, কমেছে রপ্তানি।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫ ৯৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

গেল দু,যুগে ১৭ টি দেশের কাঁচা পাটের বাজার হারিয়েছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও দফায় দফায় রপ্তানিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা সহ বিভিন্ন কারনে বিদেশের বাজার হারিয়েছে। এতে পাট রপ্তানিকারকরা যেমন আর্থিকভাবে লোকসানের সম্মুখীন, তেমনই ব্যাংকের ঋন খেলাপিও হয়েছেন। এসব কারনে দেশের অন্যতম কাঁচা পাটের মোকাম খুলনার দৌলতপুর ও নারায়নগঞ্জে মন্দাভাব বিরাজ করছে। জুলাই থেকে মৌসুম শুরু হলেও ব্যাংক রপ্তানিকারকদের ঋন দিতে নারাজ। এদিকে স্থল বন্দর গুলোতে বিধি- নিষেধের কারনে রপ্তানি কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। তেমনি বিপাকে পড়েছে ভারতীয় পাট ব্যবসায়ীরাও। পাট রপ্তানিকারকদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে। একসময় ২৯ টি দেশে পাট রপ্তানি হতো। সেখানে ১৭ টি দেশ কমে এখন ১২ টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কমেছে রপ্তানির পরিমানও। বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন ও পাট অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০০৪ – ২০০৫ অর্থ বছরে ভারত,পাকিস্তান, চীন, ইতালি, রাশিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, ইরান, নেপাল, স্পেন, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, জার্মাননিসহ ২৯ টি দেশে পাট রপ্তানি হয়েছে। অথচ বিদায়ী বছরে ১২ টি দেশে রপ্তানি হয়।

যে ১৭ টি দেশের বাজার হারিয়েছে কাঁচাপাট : বেলজিয়াম, কিউবা, মিশর, এলসাভোডোর, ইথিওপিয়া, জার্মানি,হল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালি,রাশিয়া, দক্ষিন আফ্রিকা, স্পেন, তানজানিয়া, জায়ার,রোমানিয়া, ও ফিলিপাইন।

যে ১২ টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে :  ভারত, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ব্রাজিল, ইউকে, ভিয়েতনাম, তিউনেশিয়া, দক্ষিন কোরিয়া, আইভরিকোস্ট থাইল্যান্ড ও ইউএসএ।

বাজার হারানোর পেছনের কারন: পাট ব্যবসায়ীরা বলছেন মধ্যপ্রচ্যে যুদ্ধ, দফায় দফায় রপ্তানিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা, করোনা, ডলারের মুল্যে উঠানামা বিশ্ব বাজার হারানোর অন্যতম কারন।

কমেছে রপ্তানি : ২০১০-২০১১ অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ বেল পাট রপ্তানি হয়। যা থেকে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৯০৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর গেল বছরে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা মুল্যের ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৯ বেল রপ্তানি হয়েছে।  পাটের বাজার হারোনোর বিষয়ে গাজী জুট ইন্টারন্যাশনালের রপ্তানিকারক গাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, ” পাট উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে সবচেয়ে মান সম্মত পাট আমাদের দেশে হয়। এই পাট রপ্তানিতে বিভিন্ন সময়ে বাধা আসে। ২০০৯ – ২০১০ সালের পর দুই – তিন দফায় পাট রপ্তানি বন্ধ হয়। যেসব দেশ বাংলাদেশের পাটের উপর নির্ভরশীল, রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় সেসব দেশের মিল গুলো বন্ধ হয়ে যায়। একারনে পাটের বাজার কমেছে। তিনি আরো বলেন, আগে সড়ক পথে ভারতে পাট যেতো। কিন্তু বর্তমানে জল পথে জাহাজে পাঠাতে সময় ও ব্যয় বেড়েছে। অবশ্য এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভারতের ব্যবসায়ীরা। কয়েকগুন খরচ বেড়েছে তাদের। দৌলতপুর সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের রপ্তানিকারক বদরুল আলম মার্কিন বলেন, ” বাজারে চাহিদা কমেছে”। বিভিন্ন দেশের মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানি কমেছে। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে পাট রপ্তানি করে থাকি। বর্তমানে এই তিনটি দেশ পাটের সবচেয়ে বড় বাজার। বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশনের ( বিজেএ) চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ আকন্দ বলেন, ” মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শুরু থেকে রপ্তানি বাধা গ্রস্ত হয়। রপ্তানি শুরুর পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে রপ্তানি বন্ধের সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারনে বাহিরের মিল গুলো বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য বাজার কিছুটা হারিয়েছি এবং রপ্তানিও কমেছে। বাজার সৃষ্টি করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন,  ব্যবসায়ীরা খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে তা কিন্তু নয়। ভারত স্থল বন্দর বাদ দিয়ে সমুদ্র বন্দর দিয়ে জাহাজে পাঠানো দিয়েছে এতে আমাদের রপ্তানি কিছুটা ধীর গতি হয়ে যাচ্ছে। তবে একারনে ভারতের ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

১৭ দেশের বাজার হারিয়েছে কাঁচাপাট, কমেছে রপ্তানি।

আপডেট সময় : ১১:১৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

 

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

গেল দু,যুগে ১৭ টি দেশের কাঁচা পাটের বাজার হারিয়েছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও দফায় দফায় রপ্তানিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা সহ বিভিন্ন কারনে বিদেশের বাজার হারিয়েছে। এতে পাট রপ্তানিকারকরা যেমন আর্থিকভাবে লোকসানের সম্মুখীন, তেমনই ব্যাংকের ঋন খেলাপিও হয়েছেন। এসব কারনে দেশের অন্যতম কাঁচা পাটের মোকাম খুলনার দৌলতপুর ও নারায়নগঞ্জে মন্দাভাব বিরাজ করছে। জুলাই থেকে মৌসুম শুরু হলেও ব্যাংক রপ্তানিকারকদের ঋন দিতে নারাজ। এদিকে স্থল বন্দর গুলোতে বিধি- নিষেধের কারনে রপ্তানি কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। তেমনি বিপাকে পড়েছে ভারতীয় পাট ব্যবসায়ীরাও। পাট রপ্তানিকারকদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে। একসময় ২৯ টি দেশে পাট রপ্তানি হতো। সেখানে ১৭ টি দেশ কমে এখন ১২ টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কমেছে রপ্তানির পরিমানও। বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন ও পাট অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০০৪ – ২০০৫ অর্থ বছরে ভারত,পাকিস্তান, চীন, ইতালি, রাশিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, ইরান, নেপাল, স্পেন, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, জার্মাননিসহ ২৯ টি দেশে পাট রপ্তানি হয়েছে। অথচ বিদায়ী বছরে ১২ টি দেশে রপ্তানি হয়।

যে ১৭ টি দেশের বাজার হারিয়েছে কাঁচাপাট : বেলজিয়াম, কিউবা, মিশর, এলসাভোডোর, ইথিওপিয়া, জার্মানি,হল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালি,রাশিয়া, দক্ষিন আফ্রিকা, স্পেন, তানজানিয়া, জায়ার,রোমানিয়া, ও ফিলিপাইন।

যে ১২ টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে :  ভারত, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ব্রাজিল, ইউকে, ভিয়েতনাম, তিউনেশিয়া, দক্ষিন কোরিয়া, আইভরিকোস্ট থাইল্যান্ড ও ইউএসএ।

বাজার হারানোর পেছনের কারন: পাট ব্যবসায়ীরা বলছেন মধ্যপ্রচ্যে যুদ্ধ, দফায় দফায় রপ্তানিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা, করোনা, ডলারের মুল্যে উঠানামা বিশ্ব বাজার হারানোর অন্যতম কারন।

কমেছে রপ্তানি : ২০১০-২০১১ অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ বেল পাট রপ্তানি হয়। যা থেকে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৯০৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর গেল বছরে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা মুল্যের ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৯ বেল রপ্তানি হয়েছে।  পাটের বাজার হারোনোর বিষয়ে গাজী জুট ইন্টারন্যাশনালের রপ্তানিকারক গাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, ” পাট উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে সবচেয়ে মান সম্মত পাট আমাদের দেশে হয়। এই পাট রপ্তানিতে বিভিন্ন সময়ে বাধা আসে। ২০০৯ – ২০১০ সালের পর দুই – তিন দফায় পাট রপ্তানি বন্ধ হয়। যেসব দেশ বাংলাদেশের পাটের উপর নির্ভরশীল, রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় সেসব দেশের মিল গুলো বন্ধ হয়ে যায়। একারনে পাটের বাজার কমেছে। তিনি আরো বলেন, আগে সড়ক পথে ভারতে পাট যেতো। কিন্তু বর্তমানে জল পথে জাহাজে পাঠাতে সময় ও ব্যয় বেড়েছে। অবশ্য এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভারতের ব্যবসায়ীরা। কয়েকগুন খরচ বেড়েছে তাদের। দৌলতপুর সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের রপ্তানিকারক বদরুল আলম মার্কিন বলেন, ” বাজারে চাহিদা কমেছে”। বিভিন্ন দেশের মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানি কমেছে। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে পাট রপ্তানি করে থাকি। বর্তমানে এই তিনটি দেশ পাটের সবচেয়ে বড় বাজার। বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশনের ( বিজেএ) চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ আকন্দ বলেন, ” মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শুরু থেকে রপ্তানি বাধা গ্রস্ত হয়। রপ্তানি শুরুর পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে রপ্তানি বন্ধের সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারনে বাহিরের মিল গুলো বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য বাজার কিছুটা হারিয়েছি এবং রপ্তানিও কমেছে। বাজার সৃষ্টি করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন,  ব্যবসায়ীরা খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে তা কিন্তু নয়। ভারত স্থল বন্দর বাদ দিয়ে সমুদ্র বন্দর দিয়ে জাহাজে পাঠানো দিয়েছে এতে আমাদের রপ্তানি কিছুটা ধীর গতি হয়ে যাচ্ছে। তবে একারনে ভারতের ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বেড়েছে।