ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোয়ালচামটে সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ: জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে, দ্রুত ব্যবস্থা চায় নগরবাসী পহেলা বৈশাখে শুভেচ্ছা জানালেন সমাজসেবিকা নাসিমা খাতুন ফরিদপুরে অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে করণীয় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সদরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ক্ষমা চেয়ে রক্ষা, বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার—সতর্ক বার্তা দিলেন সাংবাদিকরা ফরিদপুরে বিএসটিআই’র মোবাইল কোর্ট অভিযান: অনিয়মে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ফরিদপুর মেডিকেলে ‘পর্দা কেলেঙ্কারি’: ৬ জন খালাস, ৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু ফরিদপুরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া  শিশুটি ফিরে পেলো তার পরিবার কালিয়াকৈর চৈএের তীব্র গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে অতিষ্ঠ ধামইরহাট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট আটক শিবচরে সাংবাদিকদের ঈদ পূর্ণমিলনী নৌ বিহার ভ্রমণ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব: সদরপুরে ডিজেল সংকটে ব্যহত সেচ, বোরো ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

​শিমুল তালুকদার, সদরপুর (ফরিদপুর) থেকে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে শুরু হওয়া জ্বালানি সংকটের ধাক্কা লেগেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের গায়ে। তীব্র ডিজেল সংকটের কারণে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ। ফলে বোরো আবাদের ভরা মৌসুমে সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারছেন না চাষিরা। পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠ, যার ফলে বোরো ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সদরপুর ও বাইশরশি (২২ রশি) এলাকায় মাত্র দুটি তেলের পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে জাকের ফিলিং স্টেশনটিতে কোনো তেল মজুদ না থাকায় সেটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, সদরপুর ফিলিং স্টেশনে সামান্য তেল থাকলেও সেখানে যানবাহন ও কৃষকদের উপচে পড়া ভিড়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক্টর চালক মতি মিয়া জানান, “সেচ কাজের জন্য তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ডিজেল না পেলে সেচ দেওয়া যাবে না। চার দিন আগে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছিলাম।”

​কৃষকদের অভিযোগ, তাঁরা পাম্পে ৫ লিটারের ক্যান বা বোতল নিয়ে গেলে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। আবার খুচরা দোকানে বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল।

স্থানীয় কৃষক তৈয়ব বেপারী জানান,

​”২ বিঘা জমিতে ব্রি-২৯ ধানের আবাদ করেছি। ডিজেলের অভাবে ঈদের আগে থেকেই ঠিকমতো সেচ দিতে পারছি না। মাঝে হালকা বৃষ্টিতে কিছুটা উপকার হলেও এখন জমি আবার শুকিয়ে খটখটে। ঠিকমতো সেচ দিতে না পারলে ধানের থোড় বের হবে না, পোকা লাগারও ভয় আছে।”

​একই সংকটের কথা জানালেন আরেক কৃষক জাফর শেখ। তিনি বলেন, “৩ বিঘা জমিতে ব্রি-৮৯ আবাদ করেছি। সময়মতো সেচ ও সার দিতে পারলে বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ ফলন হতো। এখন যে অবস্থা, তাতে ফলন কমে বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মণে নামতে পারে।”

​উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০টি সেচ পাম্প রয়েছে। এসব পাম্প সচল রাখতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৩ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে পাম্পগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার (১ এপ্রিল) পর্যন্ত মোট ডিজেল মজুদ আছে মাত্র ১ হাজার ১৫৮ লিটার—যা দৈনিক চাহিদার অর্ধেকেরও কম।

​এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীটুল রায় জানান, “এখন বোরো ধানের থোড় আসার মোক্ষম সময়। এই মুহূর্তে সেচ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে না পারলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। সার্বিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে অবগত করা হয়েছে। আমরা দাবি জানিয়েছি, প্রতিদিন পাম্পে যে পরিমাণ ডিজেল আসবে, তার অন্তত ৩০ শতাংশ যেন কৃষকদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব: সদরপুরে ডিজেল সংকটে ব্যহত সেচ, বোরো ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

​শিমুল তালুকদার, সদরপুর (ফরিদপুর) থেকে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে শুরু হওয়া জ্বালানি সংকটের ধাক্কা লেগেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের গায়ে। তীব্র ডিজেল সংকটের কারণে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ। ফলে বোরো আবাদের ভরা মৌসুমে সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারছেন না চাষিরা। পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠ, যার ফলে বোরো ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সদরপুর ও বাইশরশি (২২ রশি) এলাকায় মাত্র দুটি তেলের পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে জাকের ফিলিং স্টেশনটিতে কোনো তেল মজুদ না থাকায় সেটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, সদরপুর ফিলিং স্টেশনে সামান্য তেল থাকলেও সেখানে যানবাহন ও কৃষকদের উপচে পড়া ভিড়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক্টর চালক মতি মিয়া জানান, “সেচ কাজের জন্য তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ডিজেল না পেলে সেচ দেওয়া যাবে না। চার দিন আগে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছিলাম।”

​কৃষকদের অভিযোগ, তাঁরা পাম্পে ৫ লিটারের ক্যান বা বোতল নিয়ে গেলে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। আবার খুচরা দোকানে বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল।

স্থানীয় কৃষক তৈয়ব বেপারী জানান,

​”২ বিঘা জমিতে ব্রি-২৯ ধানের আবাদ করেছি। ডিজেলের অভাবে ঈদের আগে থেকেই ঠিকমতো সেচ দিতে পারছি না। মাঝে হালকা বৃষ্টিতে কিছুটা উপকার হলেও এখন জমি আবার শুকিয়ে খটখটে। ঠিকমতো সেচ দিতে না পারলে ধানের থোড় বের হবে না, পোকা লাগারও ভয় আছে।”

​একই সংকটের কথা জানালেন আরেক কৃষক জাফর শেখ। তিনি বলেন, “৩ বিঘা জমিতে ব্রি-৮৯ আবাদ করেছি। সময়মতো সেচ ও সার দিতে পারলে বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ ফলন হতো। এখন যে অবস্থা, তাতে ফলন কমে বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মণে নামতে পারে।”

​উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০টি সেচ পাম্প রয়েছে। এসব পাম্প সচল রাখতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৩ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে পাম্পগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার (১ এপ্রিল) পর্যন্ত মোট ডিজেল মজুদ আছে মাত্র ১ হাজার ১৫৮ লিটার—যা দৈনিক চাহিদার অর্ধেকেরও কম।

​এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীটুল রায় জানান, “এখন বোরো ধানের থোড় আসার মোক্ষম সময়। এই মুহূর্তে সেচ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে না পারলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। সার্বিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে অবগত করা হয়েছে। আমরা দাবি জানিয়েছি, প্রতিদিন পাম্পে যে পরিমাণ ডিজেল আসবে, তার অন্তত ৩০ শতাংশ যেন কৃষকদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়।”