ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিয়াকৈরে ইভটিজিংয়ের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড কামড় দেওয়া জীবিত গোখরা সাপ নিয়েই হাসপাতালে যুবক  ফরিদপুরে নিখোঁজের ৬ দিন পর শিশুর গলিত লাশ উদ্ধার  প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি   ভূবনেশ্বর নদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে পাকা স্থাপনা উলিপুরে জমি দখল: মৃত বড় ভাইয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার ফরিদপুরে বিএসটিআই’র মোবাইল কোর্ট অভিযান: ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইজার চুরি, আটক ১ জন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইজার চুরি, আটক ১ জন ফরিদপুরে শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন রাসুল সামদানী আজাদ। কালিয়াকৈরে স্ত্রীর করা নির্যাতন মামলায় আবু তালহা আটক

সাভারে শিশুর চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা, অভিযুক্ত বোন জামাই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রুবেল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার :

সাভারে আট বছর বয়সী এক শিশুকে অমানুষিক নির্যাতন করে তার দুই চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার আপন বোন জামাইয়ের বিরুদ্ধে। মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে শনিবার সকালে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয় পথচারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির বাড়ি সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লায়। শনিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের বংশী নদীর তীরবর্তী একটি পার্কের পাশের নির্জন রাস্তার পাশে শিশুটিকে ছটফট করতে দেখে পথচারীরা এগিয়ে যান। এ সময় শিশুটি আর্তনাদ করে বলছিল, “আমাকে বাঁচান, আমি কিছু দেখতে পারছি না।”
কাছে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটির শরীরজুড়ে মারধরের চিহ্ন রয়েছে এবং তার দুই চোখের পাতা আঠা (সুপার গ্লু) দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। চোখ দিয়ে রক্ত ও পানি ঝরছিল।
পথচারী শিরিনা আক্তার জানান, শিশুটির আর্তনাদ শুনে অন্য কেউ এগিয়ে না এলেও তিনি নিজেই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার চোখের ভেতরে রাসায়নিক আঠা থাকায় দৃষ্টিশক্তির মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি অস্পষ্ট কণ্ঠে জানায়, তার আপন বোন জামাই রাজ্জাক তাকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং একপর্যায়ে দুই চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তবে কী কারণে এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিশুটির রিকশাচালক সৎ বাবা নাজিমুদ্দিন বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে তিনি শিশুটির মাকে বিয়ে করেন। শিশুটিকে তিনি নিজের সন্তানের মতোই দেখাশোনা করেন। সকালে জানতে পারেন, শিশুটির বোন জামাই রাজ্জাক তাকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছে।
শিশুটির মা সাহিদা বেগম বলেন, তিনি গার্মেন্টসে চাকরি করেন এবং সারাদিন বাসার বাইরে থাকেন। হঠাৎ খবর পান তার মেয়ে জামাই রাজ্জাক ছোট ছেলেকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে চোখে আঠা লাগিয়ে দিয়েছে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদ আল হাসান জানান, শিশুটির দুই চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত বর্বরোচিত। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে আসে। তিনি জানান, শিশুটির বোন জামাই রাজ্জাক এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে শিশুটিকে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেটি ধামরাই থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি ধামরাই থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সাভারে শিশুর চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা, অভিযুক্ত বোন জামাই

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

 

রুবেল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার :

সাভারে আট বছর বয়সী এক শিশুকে অমানুষিক নির্যাতন করে তার দুই চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার আপন বোন জামাইয়ের বিরুদ্ধে। মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে শনিবার সকালে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয় পথচারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির বাড়ি সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লায়। শনিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের বংশী নদীর তীরবর্তী একটি পার্কের পাশের নির্জন রাস্তার পাশে শিশুটিকে ছটফট করতে দেখে পথচারীরা এগিয়ে যান। এ সময় শিশুটি আর্তনাদ করে বলছিল, “আমাকে বাঁচান, আমি কিছু দেখতে পারছি না।”
কাছে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটির শরীরজুড়ে মারধরের চিহ্ন রয়েছে এবং তার দুই চোখের পাতা আঠা (সুপার গ্লু) দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। চোখ দিয়ে রক্ত ও পানি ঝরছিল।
পথচারী শিরিনা আক্তার জানান, শিশুটির আর্তনাদ শুনে অন্য কেউ এগিয়ে না এলেও তিনি নিজেই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার চোখের ভেতরে রাসায়নিক আঠা থাকায় দৃষ্টিশক্তির মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি অস্পষ্ট কণ্ঠে জানায়, তার আপন বোন জামাই রাজ্জাক তাকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং একপর্যায়ে দুই চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তবে কী কারণে এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিশুটির রিকশাচালক সৎ বাবা নাজিমুদ্দিন বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে তিনি শিশুটির মাকে বিয়ে করেন। শিশুটিকে তিনি নিজের সন্তানের মতোই দেখাশোনা করেন। সকালে জানতে পারেন, শিশুটির বোন জামাই রাজ্জাক তাকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছে।
শিশুটির মা সাহিদা বেগম বলেন, তিনি গার্মেন্টসে চাকরি করেন এবং সারাদিন বাসার বাইরে থাকেন। হঠাৎ খবর পান তার মেয়ে জামাই রাজ্জাক ছোট ছেলেকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে চোখে আঠা লাগিয়ে দিয়েছে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদ আল হাসান জানান, শিশুটির দুই চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত বর্বরোচিত। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে আসে। তিনি জানান, শিশুটির বোন জামাই রাজ্জাক এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে শিশুটিকে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেটি ধামরাই থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি ধামরাই থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।