ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোয়ালচামটে সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ: জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে, দ্রুত ব্যবস্থা চায় নগরবাসী পহেলা বৈশাখে শুভেচ্ছা জানালেন সমাজসেবিকা নাসিমা খাতুন ফরিদপুরে অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে করণীয় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সদরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ক্ষমা চেয়ে রক্ষা, বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার—সতর্ক বার্তা দিলেন সাংবাদিকরা ফরিদপুরে বিএসটিআই’র মোবাইল কোর্ট অভিযান: অনিয়মে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ফরিদপুর মেডিকেলে ‘পর্দা কেলেঙ্কারি’: ৬ জন খালাস, ৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু ফরিদপুরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া  শিশুটি ফিরে পেলো তার পরিবার কালিয়াকৈর চৈএের তীব্র গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে অতিষ্ঠ ধামইরহাট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট আটক শিবচরে সাংবাদিকদের ঈদ পূর্ণমিলনী নৌ বিহার ভ্রমণ

নগরকান্দায় এ বিদ্যুৎ সংকট ও তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নগরকান্দায় এ বিদ্যুৎ সংকট ও তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন—কৃষিতে চরম ক্ষতি, অবহেলার অভিযোগ তীব্র
ফরিদপুর-২ তথা নগরকান্দা সালথা আসনের অন্তর্ভুক্ত নগরকান্দা উপজেলা ও সালথা উপজেলা জুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং এবং অসহনীয় তাপদাহে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রতিদিন ও রাতে ২/৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট তুলনামূলক সহনীয় থাকলেও এই দুই উপজেলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু ও বয়স্করা মারাত্মক কষ্টে দিন পার করছেন। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ছোট ছোট শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে রাতের পরিবেশ—রাত ১টা-২টা পর্যন্তও মিলছে না স্বস্তির ঘুম।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাশের ফরিদপুর-৩ ও ফরিদপুর-৪ আসনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও শুধুমাত্র ফরিদপুর-২ এলাকাতেই এই চরম সংকট বিরাজ করছে। ফলে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। বিদ্যুৎ ও ডিজেলের অভাবে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সেচ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “বিদ্যুৎ নাই, ডিজেল কিনতে পারি না—কিভাবে জমিতে পানি দিবো? ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, এই আসনে একজন প্রতিমন্ত্রীসহ একাধিক সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করলেও স্থানীয়দের অভিযোগ—এলাকার মৌলিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। বরং দিন দিন অবহেলা বাড়ছে বলেই মনে করছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি:
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা
কৃষি সেচে বিশেষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা
ডিজেল পাম্প এ সরবরাহ করতে হবে মূল্য সহনীয় রাখা ও সহজলভ্য করা
দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপে জনদুর্ভোগ লাঘব
উপসংহার:
“কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ”—এই বাস্তবতা সামনে রেখে ফরিদপুর-২ এর চলমান সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এই অবহেলা ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নগরকান্দায় এ বিদ্যুৎ সংকট ও তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট সময় : ০৩:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

নগরকান্দায় এ বিদ্যুৎ সংকট ও তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন—কৃষিতে চরম ক্ষতি, অবহেলার অভিযোগ তীব্র
ফরিদপুর-২ তথা নগরকান্দা সালথা আসনের অন্তর্ভুক্ত নগরকান্দা উপজেলা ও সালথা উপজেলা জুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং এবং অসহনীয় তাপদাহে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রতিদিন ও রাতে ২/৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট তুলনামূলক সহনীয় থাকলেও এই দুই উপজেলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু ও বয়স্করা মারাত্মক কষ্টে দিন পার করছেন। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ছোট ছোট শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে রাতের পরিবেশ—রাত ১টা-২টা পর্যন্তও মিলছে না স্বস্তির ঘুম।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাশের ফরিদপুর-৩ ও ফরিদপুর-৪ আসনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও শুধুমাত্র ফরিদপুর-২ এলাকাতেই এই চরম সংকট বিরাজ করছে। ফলে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। বিদ্যুৎ ও ডিজেলের অভাবে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সেচ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “বিদ্যুৎ নাই, ডিজেল কিনতে পারি না—কিভাবে জমিতে পানি দিবো? ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, এই আসনে একজন প্রতিমন্ত্রীসহ একাধিক সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করলেও স্থানীয়দের অভিযোগ—এলাকার মৌলিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। বরং দিন দিন অবহেলা বাড়ছে বলেই মনে করছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি:
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা
কৃষি সেচে বিশেষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা
ডিজেল পাম্প এ সরবরাহ করতে হবে মূল্য সহনীয় রাখা ও সহজলভ্য করা
দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপে জনদুর্ভোগ লাঘব
উপসংহার:
“কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ”—এই বাস্তবতা সামনে রেখে ফরিদপুর-২ এর চলমান সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এই অবহেলা ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।