ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোয়ালচামটে সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ: জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে, দ্রুত ব্যবস্থা চায় নগরবাসী পহেলা বৈশাখে শুভেচ্ছা জানালেন সমাজসেবিকা নাসিমা খাতুন ফরিদপুরে অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে করণীয় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সদরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ক্ষমা চেয়ে রক্ষা, বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার—সতর্ক বার্তা দিলেন সাংবাদিকরা ফরিদপুরে বিএসটিআই’র মোবাইল কোর্ট অভিযান: অনিয়মে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ফরিদপুর মেডিকেলে ‘পর্দা কেলেঙ্কারি’: ৬ জন খালাস, ৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু ফরিদপুরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া  শিশুটি ফিরে পেলো তার পরিবার কালিয়াকৈর চৈএের তীব্র গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে অতিষ্ঠ ধামইরহাট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট আটক শিবচরে সাংবাদিকদের ঈদ পূর্ণমিলনী নৌ বিহার ভ্রমণ

সদরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ক্ষমা চেয়ে রক্ষা, বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার—সতর্ক বার্তা দিলেন সাংবাদিকরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

শিমুল তালুকদার (সদরপুর ফরিদপুর) 

“সাংবাদিকদের ওপর হামলা করলে আর ছাড় নয়”—প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি-
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তেল পাচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত তেলের ডিপো মালিক প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করায় সাংবাদিকরা তাদের ঘোষিত ‘সংবাদ বর্জন’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার সদরপুরে একটি তেলের ডিপোতে অবৈধ তেল পাচারের অভিযোগে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ডিপো মালিকের লোকজন। এতে কয়েকজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও হেনস্তার শিকার হন। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়।
ঘটনার পরদিন সকালে সাংবাদিকরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দিয়ে বের হওয়ার সময় থানার ভেতরেই তাদের ওপর পুনরায় হামলার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সদরপুরের সকল সংবাদকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘সংবাদ বর্জন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে পুরো উপজেলায় সংবাদ পরিবেশনে অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অভিযুক্ত তেলের ডিপো মালিক নিজের ভুল স্বীকার করে ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার অঙ্গীকার করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা বৃহত্তর স্বার্থে তাদের ঘোষিত ‘সংবাদ বর্জন’ কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা বলেন,
“আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বারবার হামলা ও বাধার মুখে পড়ছি। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির আপাত সমাধান হলেও ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে কঠোর ও সর্বাত্মক কর্মসূচি নেওয়া হবে।”
তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে সংবাদকর্মীরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হয়রানির কোনো ঘটনা সহ্য করা হবে না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সদরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ক্ষমা চেয়ে রক্ষা, বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার—সতর্ক বার্তা দিলেন সাংবাদিকরা

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

 

শিমুল তালুকদার (সদরপুর ফরিদপুর) 

“সাংবাদিকদের ওপর হামলা করলে আর ছাড় নয়”—প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি-
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তেল পাচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত তেলের ডিপো মালিক প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করায় সাংবাদিকরা তাদের ঘোষিত ‘সংবাদ বর্জন’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার সদরপুরে একটি তেলের ডিপোতে অবৈধ তেল পাচারের অভিযোগে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ডিপো মালিকের লোকজন। এতে কয়েকজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও হেনস্তার শিকার হন। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়।
ঘটনার পরদিন সকালে সাংবাদিকরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দিয়ে বের হওয়ার সময় থানার ভেতরেই তাদের ওপর পুনরায় হামলার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সদরপুরের সকল সংবাদকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘সংবাদ বর্জন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে পুরো উপজেলায় সংবাদ পরিবেশনে অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অভিযুক্ত তেলের ডিপো মালিক নিজের ভুল স্বীকার করে ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার অঙ্গীকার করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা বৃহত্তর স্বার্থে তাদের ঘোষিত ‘সংবাদ বর্জন’ কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা বলেন,
“আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বারবার হামলা ও বাধার মুখে পড়ছি। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির আপাত সমাধান হলেও ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে কঠোর ও সর্বাত্মক কর্মসূচি নেওয়া হবে।”
তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে সংবাদকর্মীরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হয়রানির কোনো ঘটনা সহ্য করা হবে না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।