উত্তরায় বাবার সামনে থেকে স্কুলছাত্রী অপহরণ, ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার—স্বস্তির মাঝেও রয়ে গেছে বহু প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ০১:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর উত্তরার ব্যস্ত সড়কে দিনের আলোয় বাবার সামনে থেকে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার নয় দিন পর অপহৃত ওই শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে স্বস্তি ফিরলেও পুরো ঘটনাকে ঘিরে এখনো নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
জানা যায়, ঢাকার উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে পরীক্ষা শেষে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয় কয়েকজন যুবক। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে, উপস্থিত বাবা প্রতিরোধের সুযোগই পাননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপহরণের পর মেয়েটিকে বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করা হয়, যাতে তাকে সহজে শনাক্ত করা না যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি লামীন ইসলাম (১৯) আগে থেকেই মেয়েটির ওপর নজর রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে, এই অপহরণে সে একা ছিল না; তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী জড়িত, যারা এখনো পলাতক রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রযুক্তির সহায়তা এবং স্থানীয় তথ্যের সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের পূবাইল এলাকা থেকে লামীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—
দিনের বেলায় জনবহুল এলাকায় কীভাবে এমন অপহরণ সম্ভব হলো? অপহরণকারীদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচয় ছিল কি না? এটি কি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা? এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোথায় ঘাটতি রয়ে গেছে?
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে—এটি ব্যক্তিগত আসক্তির ফল, নাকি কোনো বড় অপরাধচক্রের অংশ।
এ ঘটনায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। একজন বাবার সামনে থেকে সন্তানের অপহরণ শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
এখন দেখার বিষয়, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায় কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।














