ফরিদপুর-৩ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য একে আজাদের বাসভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিবর্গদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ১১:০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬১ বার পড়া হয়েছে

পার্থ প্রতিম ভদ্র, ক্রাইম রিপোর্টার:
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ফরিদপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একে আজাদের নিজ বাসভবনে ফরিদপুর সদর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মতবিনিময় সভায় দেওয়া একে আজাদের বক্তব্যের পর নিজ এলাকায় একে আজাদের ফের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
যদিও তিনি ওই সভায় আমন্ত্রিতদের নির্বাচনের কথা ভেবে ডাকেননি বলে জানিয়েছেন।
তবে তিনি না চাইলেও ভোটারদের মাঝে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলেও অনেকে মনে করছেন।
শারদীয় দূর্গা পূজার প্রথম দিনে রোববার সন্ধ্যায় শহরের ঝিলটুলীস্থ বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ফরিদপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা উদযাপন পরিষদ,ইসকন মন্দিরের প্রতিনিধি ছাড়া, শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনের প্রতিনিধি, রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ, ফরিদপুর সদর উপজেলার সকল পূজা মন্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য একে আজাদ বলেন, “সত্যি আশা করতে পারিনি এতো লোকের সমাগম হবে আর এতো লোক আপনারা আসবেন। যারা আজকে আসছেন, আমি পূজার পরে তাদের সবার কাছে যাবো। তাদের কথা শুনবো। তাদের কথা আমার শোনা দরকার।”
তিনি বলেন, “আমার অনেক শেখার আছে। আমি নির্বাচনের জন্য আপনাদেরকে আমন্ত্রণ জানাই নাই। আমি আসছি আমার ভালোবাসা জানানোর জন্য, কৃতজ্ঞতা বোধ জানানোর জন্য।”
“গত পূজায় আমার আসা সম্ভব হয় নাই। আমার বড় ভাই, আমার ছোট ভাই যতটুকু পারে আপনাদের কাছে গিয়েছে। এবার আমি সব জায়গায় যাবো, সবার সাথে আমি সাক্ষাৎ করবো।” এই ঘোষণাও জানিয়ে দেন তাঁর বক্তব্যে।
আর তাঁর এই বক্তব্য জানার পর ফরিদপুর বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভ জানিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
শহরের ঝিলটুলীতে একে আজাদের আগমন উপলক্ষে তার বাসভবনে জনগণের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।
একে আজাদের মিডিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার দিনব্যাপী ফরিদপুর সদরের পূজা মন্ডপ গুলো পরিদর্শন করবেন এবং আয়োজকদের হাতে তুলে দিবেন ২০০০০/০০ ঢাকা অনুদান।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারীর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী একে আজাদ দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে এমপি নির্বাচিত হন।
তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের পক্ষে ফরিদপুরে এসে জনসভা করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর চিরাচরিত স্বভাবে শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে একে আজাদকে তীব্র আক্রমণাত্মক ভাষায় অপমানিত করে শামীম হককে নৌকায় বিজয়ী করার নির্দেশ দিয়ে যান।
ওই নির্বাচনে ১৮ সালের মতোই প্রতিপক্ষের নির্বাচনী ক্যাম্প ভেঙেচুরে পুড়িয়ে দিয়ে, প্রতিপক্ষ কর্মীদের কুপিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের দুদিন আগে থেকে চরম ত্রাসের সৃষ্টি করা হয়।
ভোটের আগের দিন কুপিয়ে আহত করা হয় একে আজাদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট সামসুল হক ভোলা মাস্টারকে।
তবে ভোটের দিনে শেষ পর্যন্ত মাঠে টিকে থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকাকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন একে আজাদ।
তবে শেখ হাসিনার পলায়নের পর সংসদ ভেঙ্গে গেলে সংসদ সদস্যদের প্রায় সবাই পালিয়ে যান। অনেকে গ্রেফতার হন।
তবে এই সময়েও একে আজাদকে দেখা যায় ভিন্ন চিত্রে। ফরিদপুরে একটা জল্পনা কল্পনা চলছিল একে আজাদের প্রত্যাবর্তনের।
জানা যায়, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন এ আসনের একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক এমপি ও মন্ত্রী মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা, যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুবুল হাসান ভুঁইয়া পিংকু। জামাতের প্রার্থী রয়েছেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব।
এদের পাশাপাশি একে আজাদ প্রার্থীতার কথা এখনো ঘোষণা না দিলেও তাকে নিয়ে জনমনে কৌতুহল রয়েছে ব্যাপক।
সম্প্রতি সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী আমীর খসরুর নেতৃত্বাধীন বিএনপির প্রতিনিধি দলের সাথে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎকালে ওই প্রতিনিধি দলে সাবেক সংসদ সদস্য একে আজাদও ছিলেন।
এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুরে এবার একে আজাদ সশরীরে মাঠে নামবেন বলে মনে করছেন সকলে। আর এটি হলে আসনটি হাতছাড়া হতে পারে বলে বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও নেতৃবৃন্দ তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ পদধারী নেতারা সহ দলের ছোটবড় সকল পর্যায়ে এজন্য দলের মধ্যে একাধিক গ্রুপিংয়ের কারণে সৃষ্ট বিরোধকে দায়ী করছেন।
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব পূজার প্রথমদিন সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মতবিনিময় ও প্রীতিভোজের আয়োজন করেন হা- মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য একে আজাদ।
এ সময়ে ফরিদপুর সদরের ১৯৮টি দূর্গা পূজা মন্ডপের আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রোববার সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলিতে এ.কে. আজাদের বাসভবন মিলনায়তনে ওই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সামসুল হক ভোলা মাস্টার, কোতয়ালী বিএনপির বহিস্কৃত সভাপতি রউফউন্নবী, চিত্তরঞ্জন ঘোষ, অ্যাডভোকেট রবীন্দ্রনাথ সাহা, প্রফেসর অসীম কুমার সাহা, বিধান কুমার সাহা, রাম দত্ত, সিতাংশু মিত্র কিংকং,সুকেশ সাহা, প্রমুখ।
















