ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেগম খালেদা জিয়াকে এদেশের মানুষ কখনো ছেড়ে যাবে না : মিলন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৪:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫ ২৯৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মোঃ আশিকুর রহমান বিপ্লব
জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শত নির্যাতন, বাধা ও দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশ ত্যাগ না করে দেশের মানুষকেই নিজের আপনজন হিসেবে পাশে রেখেছেন। তাঁর এই ত্যাগ ও দেশপ্রেমের কারণেই জনগণ বারবার তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে—বুধবার বিকেলে মিয়াপুর বাজারে পবা উপজেলা যুবদলের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

মিলন বলেন, বিএনপি জনগণের দল। এ দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মানুষ নিরাপদে থাকে, দেশের উন্নয়ন হয়। তিনি স্মরণ করেন—১৯৭৫ সালের পর সৈনিক-জনতার আন্দোলনে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর কৃষিখাতে বিশেষ জোর দেন। খাল খনন, সেচ ব্যবস্থা এবং শ্যালোমেশিন আমদানির মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে দেশের কৃষি ও অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যায়। তিনি তলাবিহীন বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে রূপান্তর করেন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যার পরে বেগম খালেদা জিয়া ঘর থেকে বের হয়ে রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। সে সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং জামায়াতের আমীর গোলাম আজম যুগপৎ আন্দোলনে গেলেও ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের ‘জাতীয় বেইমান ও মোনাফেক’ হিসেবে পরিচিত করেছেন বলে দাবি করেন মিলন। অন্যদিকে খালেদা জিয়া আপসহীনভাবে এককভাবে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, এজন্যই তিনি ‘আপোসহীন নেত্রী’ ও ‘গণতন্ত্রের মানষ কন্যা’ হিসেবে সম্মান পান।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় বেগম জিয়াকে দেশ ছাড়তে চাপ দেওয়া, তাঁর দুই ছেলেকে আটক রেখে নির্যাতন করা এবং সেই নির্যাতনের শব্দ তাঁকে ফোনে শোনানো—এসব ঘটনার কথা উল্লেখ করে মিলন বলেন, বেগম জিয়া তবুও দেশ ছাড়েননি। তিনি বেঁচে থাকা পর্যন্ত এদেশের মানুষের সাথেই থাকবেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন—“এক বেইমান দেশ ছেড়ে পালালেও আরেক মোনাফেক দল নির্বাচনী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের কার্যক্রম থেকে সতর্ক থাকতে হবে।”

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্য শেষে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করে ডাঙ্গের হাটে যান, সেখানে ৩১ দফা লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করেন।

সমাবেশ ও র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, সদস্য সচিব শাহীন রেজা সান্নান, সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বেগম খালেদা জিয়াকে এদেশের মানুষ কখনো ছেড়ে যাবে না : মিলন

আপডেট সময় : ১১:৪৪:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

 

মোঃ আশিকুর রহমান বিপ্লব
জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শত নির্যাতন, বাধা ও দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশ ত্যাগ না করে দেশের মানুষকেই নিজের আপনজন হিসেবে পাশে রেখেছেন। তাঁর এই ত্যাগ ও দেশপ্রেমের কারণেই জনগণ বারবার তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে—বুধবার বিকেলে মিয়াপুর বাজারে পবা উপজেলা যুবদলের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

মিলন বলেন, বিএনপি জনগণের দল। এ দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মানুষ নিরাপদে থাকে, দেশের উন্নয়ন হয়। তিনি স্মরণ করেন—১৯৭৫ সালের পর সৈনিক-জনতার আন্দোলনে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর কৃষিখাতে বিশেষ জোর দেন। খাল খনন, সেচ ব্যবস্থা এবং শ্যালোমেশিন আমদানির মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে দেশের কৃষি ও অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যায়। তিনি তলাবিহীন বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে রূপান্তর করেন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যার পরে বেগম খালেদা জিয়া ঘর থেকে বের হয়ে রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। সে সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং জামায়াতের আমীর গোলাম আজম যুগপৎ আন্দোলনে গেলেও ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের ‘জাতীয় বেইমান ও মোনাফেক’ হিসেবে পরিচিত করেছেন বলে দাবি করেন মিলন। অন্যদিকে খালেদা জিয়া আপসহীনভাবে এককভাবে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, এজন্যই তিনি ‘আপোসহীন নেত্রী’ ও ‘গণতন্ত্রের মানষ কন্যা’ হিসেবে সম্মান পান।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় বেগম জিয়াকে দেশ ছাড়তে চাপ দেওয়া, তাঁর দুই ছেলেকে আটক রেখে নির্যাতন করা এবং সেই নির্যাতনের শব্দ তাঁকে ফোনে শোনানো—এসব ঘটনার কথা উল্লেখ করে মিলন বলেন, বেগম জিয়া তবুও দেশ ছাড়েননি। তিনি বেঁচে থাকা পর্যন্ত এদেশের মানুষের সাথেই থাকবেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন—“এক বেইমান দেশ ছেড়ে পালালেও আরেক মোনাফেক দল নির্বাচনী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের কার্যক্রম থেকে সতর্ক থাকতে হবে।”

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্য শেষে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করে ডাঙ্গের হাটে যান, সেখানে ৩১ দফা লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করেন।

সমাবেশ ও র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, সদস্য সচিব শাহীন রেজা সান্নান, সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।