ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বন্ধু মাসুদ রানার কন্যার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাব সভাপতির নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর: মরহুম মাসুদ রানা (রানা)–এর বড় কন্যা জান্নাতুল মাওয়া পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত হলে এ সুখবর ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে। এ সংবাদে গভীর আনন্দ ও আবেগ প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাব–এর সভাপতি নাজমুল হুদা বাশার। তিনি বলেন, “বন্ধু রানা আজ বেঁচে থাকলে কতটাই না খুশি হতো! মেয়ের এই সাফল্য দেখে বুক ভরে যেত তার। জান্নাতুল মাওয়া যদি আজ বাবার হাত ধরে এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারতো—তাহলে মুহূর্তটি আরও পরিপূর্ণ হতো।” জান্নাতুল মাওয়া ফরিদপুরের মিয়া পাড়া, পশ্চিম খাবাশপুর এলাকার আদর্শ বালিকা মাদ্রাসা থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছে। অল্প বয়সেই পিতৃহারা এই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন কৃতিত্বে গর্বিত তার পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। সভাপতি নাজমুল হুদা বাশার আরও স্মৃতিচারণ করে জানান, ছোটবেলায় রানা একদিন মেয়েকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সময় তোলা একটি ছবির কথা উল্লেখ করে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “ছবিটি তুলেছিল আমাদেরই বন্ধু রানা। আজ সে নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া স্মৃতি আর মেয়ের সাফল্য আমাদের হৃদয়ে চিরজাগরুক হয়ে থাকবে।” তিনি দেশবাসীর কাছে জান্নাতুল মাওয়ার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বলেন, “ভালো থাকিস মা, ফি আমানিল্লাহ। আল্লাহ যেন তোমাকে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার তাওফিক দেন এবং তোমার বাবার স্বপ্ন পূরণের শক্তি দান করেন।” বন্ধুর কন্যার এই অর্জনে আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে না-পাওয়ার বেদনা। তবুও জান্নাতুল মাওয়ার সাফল্য প্রমাণ করে—স্বপ্ন থেমে থাকে না, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা বেঁচে থাকে ভালোবাসা ও দোয়ার শক্তিতে। ফরিদপুর পৌরসভার ১৪ নং ওয়ার্ডের চাঁদাবাজ বাহার শেখ ওরফে নাপিত বাহার গ্রেফতার ফরিদপুরে চোর চক্রের একাধিক আসামি গ্রেপ্তার, ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার ফরিদপুর পুলিশ হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ভাঙ্গায় হত্যা ও ডাকাতি মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপার ফরিদপুরে ঈদ ও রমজানে নিরাপত্তা পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার। গলাচিপা উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: সর্বস্তরের জনগণের অনুরোধে ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রতিদিন পদে লড়বেন শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া। ফরিদপুরে স্কুলশিক্ষককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম: আদালতে মামলা দায়ের। নড়াইলে দুইপক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫ জন নিহত কক্সবাজার সদরে বনভূমি দখল করে বহুতল বভন নির্মাণের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

ফরিদপুরে চোর চক্রের একাধিক আসামি গ্রেপ্তার, ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নাজমুল হুদা বাশার ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুর জেলায় সক্রিয় একটি আন্তঃজেলা ইজিবাইক চুরি চক্রের কার্যক্রম উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ধারাবাহিক অভিযানে চক্রের একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে ১৮টি চোরাইকৃত ইজিবাইক।
বুধবার দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, কোতোয়ালী থানা এলাকার একটি ইজিবাইক স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। প্রযুক্তিগত সহায়তায় প্রথমে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরও সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে ফরিদপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ইজিবাইক চুরি করত। চুরি করা যানবাহন দ্রুত শনাক্ত এড়াতে তারা ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পরিবর্তন, বাহ্যিক রং বদল, যন্ত্রাংশ আলাদা করে ফেলা এবং অবৈধ গ্যারেজে পুনরায় সংযোজনের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করত।
অভিযান পরিচালনা করা হয় বোয়ালমারী, মধুখালী ও কোতোয়ালী থানা এলাকাসহ শরীয়তপুর এবং মাগুরা জেলার বিভিন্ন স্থানে। এসব অভিযানে মোট ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ১৩টি সচল এবং ৫টি অচল অবস্থায় ছিল। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ ও গাড়ি কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইজিবাইকগুলোর একটি সংশ্লিষ্ট মামলার বাদী নিজের চুরি হওয়া গাড়ি হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মোজাম্মেল মণ্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল, মিলন খান, মো. আশরাফ, শহীদ শিকদার, জুয়েল রানা ও রনি মিয়া।
পুলিশ জানায়, আটককৃতরা পেশাদার চোরচক্রের সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রায়হান গফুর এবং ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাব-এর সভাপতি নাজমুল হুদা বাশার ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, ফরিদপুর রিপোর্টারস ক্লাব সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মরহুম বন্ধু মাসুদ রানার কন্যার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাব সভাপতির নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর: মরহুম মাসুদ রানা (রানা)–এর বড় কন্যা জান্নাতুল মাওয়া পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত হলে এ সুখবর ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে। এ সংবাদে গভীর আনন্দ ও আবেগ প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাব–এর সভাপতি নাজমুল হুদা বাশার। তিনি বলেন, “বন্ধু রানা আজ বেঁচে থাকলে কতটাই না খুশি হতো! মেয়ের এই সাফল্য দেখে বুক ভরে যেত তার। জান্নাতুল মাওয়া যদি আজ বাবার হাত ধরে এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারতো—তাহলে মুহূর্তটি আরও পরিপূর্ণ হতো।” জান্নাতুল মাওয়া ফরিদপুরের মিয়া পাড়া, পশ্চিম খাবাশপুর এলাকার আদর্শ বালিকা মাদ্রাসা থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছে। অল্প বয়সেই পিতৃহারা এই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন কৃতিত্বে গর্বিত তার পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। সভাপতি নাজমুল হুদা বাশার আরও স্মৃতিচারণ করে জানান, ছোটবেলায় রানা একদিন মেয়েকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সময় তোলা একটি ছবির কথা উল্লেখ করে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “ছবিটি তুলেছিল আমাদেরই বন্ধু রানা। আজ সে নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া স্মৃতি আর মেয়ের সাফল্য আমাদের হৃদয়ে চিরজাগরুক হয়ে থাকবে।” তিনি দেশবাসীর কাছে জান্নাতুল মাওয়ার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বলেন, “ভালো থাকিস মা, ফি আমানিল্লাহ। আল্লাহ যেন তোমাকে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার তাওফিক দেন এবং তোমার বাবার স্বপ্ন পূরণের শক্তি দান করেন।” বন্ধুর কন্যার এই অর্জনে আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে না-পাওয়ার বেদনা। তবুও জান্নাতুল মাওয়ার সাফল্য প্রমাণ করে—স্বপ্ন থেমে থাকে না, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা বেঁচে থাকে ভালোবাসা ও দোয়ার শক্তিতে।

ফরিদপুরে চোর চক্রের একাধিক আসামি গ্রেপ্তার, ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার

আপডেট সময় : ০২:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

নাজমুল হুদা বাশার ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুর জেলায় সক্রিয় একটি আন্তঃজেলা ইজিবাইক চুরি চক্রের কার্যক্রম উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ধারাবাহিক অভিযানে চক্রের একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে ১৮টি চোরাইকৃত ইজিবাইক।
বুধবার দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, কোতোয়ালী থানা এলাকার একটি ইজিবাইক স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। প্রযুক্তিগত সহায়তায় প্রথমে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরও সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে ফরিদপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ইজিবাইক চুরি করত। চুরি করা যানবাহন দ্রুত শনাক্ত এড়াতে তারা ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পরিবর্তন, বাহ্যিক রং বদল, যন্ত্রাংশ আলাদা করে ফেলা এবং অবৈধ গ্যারেজে পুনরায় সংযোজনের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করত।
অভিযান পরিচালনা করা হয় বোয়ালমারী, মধুখালী ও কোতোয়ালী থানা এলাকাসহ শরীয়তপুর এবং মাগুরা জেলার বিভিন্ন স্থানে। এসব অভিযানে মোট ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ১৩টি সচল এবং ৫টি অচল অবস্থায় ছিল। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ ও গাড়ি কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইজিবাইকগুলোর একটি সংশ্লিষ্ট মামলার বাদী নিজের চুরি হওয়া গাড়ি হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মোজাম্মেল মণ্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল, মিলন খান, মো. আশরাফ, শহীদ শিকদার, জুয়েল রানা ও রনি মিয়া।
পুলিশ জানায়, আটককৃতরা পেশাদার চোরচক্রের সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রায়হান গফুর এবং ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাব-এর সভাপতি নাজমুল হুদা বাশার ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, ফরিদপুর রিপোর্টারস ক্লাব সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।