ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬” এর শুভ উদ্বোধন ফরিদপুর সদরে মনিরুজ্জামানের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী বেপরোয়া ট্রাকের তাণ্ডব: আহত বহু পথচারী, উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে চালকের মৃত্যু ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ৯ নং ওয়ার্ডে উন্নয়নের অঙ্গীকার: কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মির্জা মাসুদ পারভেজের প্রতিশ্রুতি উত্তরায় বাবার সামনে থেকে স্কুলছাত্রী অপহরণ, ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার—স্বস্তির মাঝেও রয়ে গেছে বহু প্রশ্ন Dialyzer theft at Faridpur Medical College Hospital due to nurse Nadia Akhter’s negligence, 1 person arrested মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা কালিয়াকৈর ঢাকা টাংগাইল মহাসড়কের পাশে ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন, ভোগান্তিতে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা  বৃষ্টির পর আকাশে রঙের খেলা: রংধনুর বিজ্ঞান ও গ্রামীণ বিশ্বাস ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যা রহস্য উদঘাটন, নারীসহ গ্রেফতার ৩

বাজারে চুরির ক্ষতিপূরণ চাপ: অপমান সইতে না পেরে নৈশপ্রহরীর আত্মহননের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৮৯ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রেজাউল করিম, ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার এক বাজারে চুরির ঘটনার পর ক্ষতিপূরণের চাপ ও শালিশ বৈঠকে অপমানের জেরে এক নৈশপ্রহরীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম (৩০) গট্টি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের মৃত নজরুল শেখের ছেলে। তিনি পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা ও চার মাস বয়সী জমজ দুই পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে বড়দিয়া বাজারে ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পর থেকেই ওয়াহিদুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বাজারের একটি দোকানে টিন কেটে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকার মালামাল চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাজার কমিটির পক্ষ থেকে পাহারাদারদের ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের স্ত্রী জোস্না বেগম জানান, ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বারবার বলতেন, “জরিমানা দেবো কোথা থেকে? শরমের চেয়ে মরণ ভালো।” শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মাগরিবের পর শালিশ বৈঠকে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের বিষয়টি ওঠে। সেখানে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কিছুক্ষণ পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানা যায়, তিনি বিষপান করেছিলেন।

স্থানীয়রা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

বাজার কমিটির সভাপতি আবু মেম্বার জানান, চুরির ঘটনায় আলোচনা হয়েছে, তবে কাউকে অপবাদ দেওয়া হয়নি; চোর শনাক্ত না হলে কীভাবে ক্ষতি পূরণ হবে—সেই বিষয়েই কথা উঠেছিল। অপরদিকে বাজারে আদায় কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা আজাদ মোল্লা বলেন, বৈঠকে পাহারাদারদের দায় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওয়াহিদুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাজারে চুরির ক্ষতিপূরণ চাপ: অপমান সইতে না পেরে নৈশপ্রহরীর আত্মহননের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

রেজাউল করিম, ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার এক বাজারে চুরির ঘটনার পর ক্ষতিপূরণের চাপ ও শালিশ বৈঠকে অপমানের জেরে এক নৈশপ্রহরীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম (৩০) গট্টি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের মৃত নজরুল শেখের ছেলে। তিনি পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা ও চার মাস বয়সী জমজ দুই পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে বড়দিয়া বাজারে ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পর থেকেই ওয়াহিদুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বাজারের একটি দোকানে টিন কেটে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকার মালামাল চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাজার কমিটির পক্ষ থেকে পাহারাদারদের ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের স্ত্রী জোস্না বেগম জানান, ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বারবার বলতেন, “জরিমানা দেবো কোথা থেকে? শরমের চেয়ে মরণ ভালো।” শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মাগরিবের পর শালিশ বৈঠকে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের বিষয়টি ওঠে। সেখানে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কিছুক্ষণ পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানা যায়, তিনি বিষপান করেছিলেন।

স্থানীয়রা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

বাজার কমিটির সভাপতি আবু মেম্বার জানান, চুরির ঘটনায় আলোচনা হয়েছে, তবে কাউকে অপবাদ দেওয়া হয়নি; চোর শনাক্ত না হলে কীভাবে ক্ষতি পূরণ হবে—সেই বিষয়েই কথা উঠেছিল। অপরদিকে বাজারে আদায় কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা আজাদ মোল্লা বলেন, বৈঠকে পাহারাদারদের দায় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওয়াহিদুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।