ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬” এর শুভ উদ্বোধন ফরিদপুর সদরে মনিরুজ্জামানের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী বেপরোয়া ট্রাকের তাণ্ডব: আহত বহু পথচারী, উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে চালকের মৃত্যু ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ৯ নং ওয়ার্ডে উন্নয়নের অঙ্গীকার: কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মির্জা মাসুদ পারভেজের প্রতিশ্রুতি উত্তরায় বাবার সামনে থেকে স্কুলছাত্রী অপহরণ, ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার—স্বস্তির মাঝেও রয়ে গেছে বহু প্রশ্ন Dialyzer theft at Faridpur Medical College Hospital due to nurse Nadia Akhter’s negligence, 1 person arrested মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা কালিয়াকৈর ঢাকা টাংগাইল মহাসড়কের পাশে ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন, ভোগান্তিতে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা  বৃষ্টির পর আকাশে রঙের খেলা: রংধনুর বিজ্ঞান ও গ্রামীণ বিশ্বাস ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যা রহস্য উদঘাটন, নারীসহ গ্রেফতার ৩

ফরিদপুরে স্কুলশিক্ষককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম: আদালতে মামলা দায়ের।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৭৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ক্রাইম রিপোর্টার ফরিদপুর।

ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসনে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মনির হোসেন ওরফে আঃ কাদের (৪৩) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে। স্কুলের বিরতিতে বাড়িতে খাবার খেতে যাওয়ার পথে বিবাদীদের গোডাউন সংলগ্ন নদীর পাড়ে পৌঁছালে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আহত মনির হোসেন স্থানীয় মৃত ডা. আবুল বাশার মোল্যার ছেলে। বর্তমানে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক মনির হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় সেক আলতাফ হোসেন (৫৫) ও তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদ (২৫)-এর দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা (সি.আর ২৪০/২৫ ও ১০৭/২৫) আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলো তুলে নিতে শিক্ষক ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের আগস্ট মাসে এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৮৭৩) করেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান আসামীর নির্দেশে অপর আসামী রামদা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ মারলে শিক্ষকের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি গুরুতর জখম হয়। অন্য আসামী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে মাথা ও বাম চোখের নিচে হাড়ভাঙা জখম হয়। এসময় অন্যান্যরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে সেক আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে হালিমা খাতুন, আঃ বারেক, কানিতা ইসলাম ও ফাতেমা বেগমের নাম উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী মনির হোসেন বলেন, এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। তার মা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে সে বেঁচে গেছে। তার হাত ভেঙে দিয়েছে, মাথায় আঘাত করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার চাই।

স্ত্রী বলেন, ২৫-৩০ বছর আগে ক্রয়কৃত জমির সব বৈধ কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। তারপরও আমাদের ওপর বারবার হামলা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

বোনের দাবি, প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে আমরা বহু বছর ধরে বসবাস করছি। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে।

স্থানীয় এক বৃদ্ধা জানান, মনির হোসেন ও তার পরিবার ভদ্র ও সৎ হিসেবে পরিচিত। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে স্কুলশিক্ষককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম: আদালতে মামলা দায়ের।

আপডেট সময় : ০৮:২৪:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ক্রাইম রিপোর্টার ফরিদপুর।

ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসনে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মনির হোসেন ওরফে আঃ কাদের (৪৩) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে। স্কুলের বিরতিতে বাড়িতে খাবার খেতে যাওয়ার পথে বিবাদীদের গোডাউন সংলগ্ন নদীর পাড়ে পৌঁছালে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আহত মনির হোসেন স্থানীয় মৃত ডা. আবুল বাশার মোল্যার ছেলে। বর্তমানে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক মনির হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় সেক আলতাফ হোসেন (৫৫) ও তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদ (২৫)-এর দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা (সি.আর ২৪০/২৫ ও ১০৭/২৫) আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলো তুলে নিতে শিক্ষক ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের আগস্ট মাসে এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৮৭৩) করেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান আসামীর নির্দেশে অপর আসামী রামদা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ মারলে শিক্ষকের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি গুরুতর জখম হয়। অন্য আসামী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে মাথা ও বাম চোখের নিচে হাড়ভাঙা জখম হয়। এসময় অন্যান্যরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে সেক আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে হালিমা খাতুন, আঃ বারেক, কানিতা ইসলাম ও ফাতেমা বেগমের নাম উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী মনির হোসেন বলেন, এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। তার মা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে সে বেঁচে গেছে। তার হাত ভেঙে দিয়েছে, মাথায় আঘাত করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার চাই।

স্ত্রী বলেন, ২৫-৩০ বছর আগে ক্রয়কৃত জমির সব বৈধ কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। তারপরও আমাদের ওপর বারবার হামলা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

বোনের দাবি, প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে আমরা বহু বছর ধরে বসবাস করছি। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে।

স্থানীয় এক বৃদ্ধা জানান, মনির হোসেন ও তার পরিবার ভদ্র ও সৎ হিসেবে পরিচিত। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।