ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেপরোয়া ট্রাকের তাণ্ডব: আহত বহু পথচারী, উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে চালকের মৃত্যু ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ৯ নং ওয়ার্ডে উন্নয়নের অঙ্গীকার: কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মির্জা মাসুদ পারভেজের প্রতিশ্রুতি উত্তরায় বাবার সামনে থেকে স্কুলছাত্রী অপহরণ, ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার—স্বস্তির মাঝেও রয়ে গেছে বহু প্রশ্ন Dialyzer theft at Faridpur Medical College Hospital due to nurse Nadia Akhter’s negligence, 1 person arrested মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা কালিয়াকৈর ঢাকা টাংগাইল মহাসড়কের পাশে ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন, ভোগান্তিতে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা  বৃষ্টির পর আকাশে রঙের খেলা: রংধনুর বিজ্ঞান ও গ্রামীণ বিশ্বাস ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যা রহস্য উদঘাটন, নারীসহ গ্রেফতার ৩ কালিয়াকৈরে ইভটিজিংয়ের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড কামড় দেওয়া জীবিত গোখরা সাপ নিয়েই হাসপাতালে যুবক 

সদরপুরে পূর্বকান্দি গ্রামে ৪ বছরের শিশুর গলাকাটা ও অন্ত:সত্ত্বা মায়ের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৯৯৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

নাজমুল হুদা বাশার- ফরিদপুর 

 

ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্বকান্দি গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী রমজানের স্ত্রী সুমাইয়া এবং তাদের একমাত্র চার বছর বয়সী শিশু হুজাইফার রহস্যজনক মৃত্যু। সদরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়- এক ঘরে পড়েছিল শিশুর রক্তাক্ত মৃতদেহ এবং বাইরের আরেকটি পরিত্যক্ত ঘরে  শিশুর মা সুমাইয়ার আরার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনেরা। সুমাইয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কত্যবরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় শুক্রবার সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে ছয়টায় দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান।

নিহত শিশুর নাম হুজাইফা (৪) ও মৃত মায়ের নাম সুমাইয়া আক্তার (২৪)। সুমাইয়া আক্তার ৯ মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে ২৬ সেপ্টেম্বর-  তার সিজার হওয়ার কথা ছিল এবং তাঁর গর্ভে দুটি জমজ ছিলো বলে জানা গেছে।নিহত সুমাইয়া আক্তারের বাবার বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার ১০ নং কৈজুরী ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামের মোঃ রমজান খানের মেয়ে। সুমাইয়া ও রমজান মুন্সির পারিবারিক

ভাবে ২০২০ সালে সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্বকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব মুন্সির বড়ো ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী রমজান মুন্সীর সাথে বিয়ে হয়। হুজাইফা তাদের একমাত্র সন্তান ছিলো।

রমজান দীর্ঘদিন সিংগাপুর ছিলেন। তবে গত দুই বছর আগে  তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে গরূর একটি ফারাম করেছেন। এসময়

রমজানের বাবা মোতালেব মুন্সি জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির পাশে ঘাস কাটতে ছিলেন গরুর জন্য।  হঠাৎ করে বাড়িতে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনে তিনি বাড়িতে আসেন এসেই মর্মান্তিক ঘটনা দেখতে পান।মুতালেব মুন্সি বলেন, রমজানের সাথে সুমাইয়ার সম্পর্ক খুব ভাল ছিলো। কখনো তাদের মধ্যে কলহ হয়েছে বলে শোনা যায়নি।

যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশীরা জানান সুমাইয়া ও রমজানের মধ্যে প্রায় তারা ঝগড়াঝাঁটির কথা শুনতে পেতেন এবং প্রায় সময় সুমাইয়ার শশুর ও শাশুড়ি নার্গিস বেগমের সাথে ঝগড়া লেগেই থাকতো। এব্যাপারে সুমাইয়ার নানা রাশেদ মাতুববর (৬০) বলেন আমার নাতি গড়িব হওয়ায় তাদের পরিবারের লোকজনেরা অনেক অবহেলা করতো। নিহত সুমাইয়ার মা ছাবিনা বেগম বলেন আমি গড়িব মানুষ আমি তাদেরকে কিছু দিতে পারতাম না বলে আমার মেয়ের শাশুড়ি ও শশুর সুমাইয়াকে দুই চোখ পেতে দেখতে পারতো না। আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য ঐ পরিবারের ওরা সবাই দায়ী আমি এর সুস্থ বিচার চাই। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা আত্মীয়-স্বজনদের সূত্রে জানা যায় রমজানের আপন ছোট ভাই সোহাগ মুন্সি হাসপাতাল পর্যন্ত এসে সুমাইয়ার মৃত্যুর খবর শুনে দ্রুত হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন।এই লৌহমোর্ষক খবর শুনে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার এসআই আশরাফ উদ্দিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে সুমাইয়ার মরদেহর সুরত হাল করেন। পরবর্তীতে সদরপুর থানার এসআই মোঃ মোখলেছুর রহমান ও এস আই মোঃ মিনারূল ইসলাম ও তাদের অন্যান্য সঙ্গীয় ফোর্স সহ অনুমান রাত দশটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে রমজানের  স্ত্রী সুমাইয়ার মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন এবং নিহত সুমাইয়ার স্বামী রমজান মুন্সি (৩৪)কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি সাদা রং নোড়া গাড়িতে সদরপুর থানায় নিয়ে জান।এই মর্মান্তিকমৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। এছাড়াও এলাকায় এই মৃত্যুর রহস্য নিয়ে জনমনে নানা ধরনের প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে।এই মৃত্যুর খবর শুনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাঙ্গা সার্কেল আসিফ ইকবাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এব্যাপারে তিনি বলেন, সুমাইয়াকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন অপরদিকে ৪ বছরের শিশু হুজায়ফাকে তাদের শয়নকক্ষের মধ্যেই গলাকাটা অবস্থায় কম্বল প্যাচানো  অবস্থায় মৃত্যু দেহ পাওয়া যায়। এসময় তিনি বলেন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত না করে আপাতত কোন কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং এবিষয়ে আমাদের পুলিশ প্রশাসন গুরুত্বের সাথে কাজ করছে বলে জানান।।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সদরপুরে পূর্বকান্দি গ্রামে ৪ বছরের শিশুর গলাকাটা ও অন্ত:সত্ত্বা মায়ের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৯:০৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

 

নাজমুল হুদা বাশার- ফরিদপুর 

 

ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্বকান্দি গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী রমজানের স্ত্রী সুমাইয়া এবং তাদের একমাত্র চার বছর বয়সী শিশু হুজাইফার রহস্যজনক মৃত্যু। সদরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়- এক ঘরে পড়েছিল শিশুর রক্তাক্ত মৃতদেহ এবং বাইরের আরেকটি পরিত্যক্ত ঘরে  শিশুর মা সুমাইয়ার আরার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনেরা। সুমাইয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কত্যবরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় শুক্রবার সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে ছয়টায় দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান।

নিহত শিশুর নাম হুজাইফা (৪) ও মৃত মায়ের নাম সুমাইয়া আক্তার (২৪)। সুমাইয়া আক্তার ৯ মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে ২৬ সেপ্টেম্বর-  তার সিজার হওয়ার কথা ছিল এবং তাঁর গর্ভে দুটি জমজ ছিলো বলে জানা গেছে।নিহত সুমাইয়া আক্তারের বাবার বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার ১০ নং কৈজুরী ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামের মোঃ রমজান খানের মেয়ে। সুমাইয়া ও রমজান মুন্সির পারিবারিক

ভাবে ২০২০ সালে সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্বকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব মুন্সির বড়ো ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী রমজান মুন্সীর সাথে বিয়ে হয়। হুজাইফা তাদের একমাত্র সন্তান ছিলো।

রমজান দীর্ঘদিন সিংগাপুর ছিলেন। তবে গত দুই বছর আগে  তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে গরূর একটি ফারাম করেছেন। এসময়

রমজানের বাবা মোতালেব মুন্সি জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির পাশে ঘাস কাটতে ছিলেন গরুর জন্য।  হঠাৎ করে বাড়িতে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনে তিনি বাড়িতে আসেন এসেই মর্মান্তিক ঘটনা দেখতে পান।মুতালেব মুন্সি বলেন, রমজানের সাথে সুমাইয়ার সম্পর্ক খুব ভাল ছিলো। কখনো তাদের মধ্যে কলহ হয়েছে বলে শোনা যায়নি।

যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশীরা জানান সুমাইয়া ও রমজানের মধ্যে প্রায় তারা ঝগড়াঝাঁটির কথা শুনতে পেতেন এবং প্রায় সময় সুমাইয়ার শশুর ও শাশুড়ি নার্গিস বেগমের সাথে ঝগড়া লেগেই থাকতো। এব্যাপারে সুমাইয়ার নানা রাশেদ মাতুববর (৬০) বলেন আমার নাতি গড়িব হওয়ায় তাদের পরিবারের লোকজনেরা অনেক অবহেলা করতো। নিহত সুমাইয়ার মা ছাবিনা বেগম বলেন আমি গড়িব মানুষ আমি তাদেরকে কিছু দিতে পারতাম না বলে আমার মেয়ের শাশুড়ি ও শশুর সুমাইয়াকে দুই চোখ পেতে দেখতে পারতো না। আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য ঐ পরিবারের ওরা সবাই দায়ী আমি এর সুস্থ বিচার চাই। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা আত্মীয়-স্বজনদের সূত্রে জানা যায় রমজানের আপন ছোট ভাই সোহাগ মুন্সি হাসপাতাল পর্যন্ত এসে সুমাইয়ার মৃত্যুর খবর শুনে দ্রুত হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন।এই লৌহমোর্ষক খবর শুনে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার এসআই আশরাফ উদ্দিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে সুমাইয়ার মরদেহর সুরত হাল করেন। পরবর্তীতে সদরপুর থানার এসআই মোঃ মোখলেছুর রহমান ও এস আই মোঃ মিনারূল ইসলাম ও তাদের অন্যান্য সঙ্গীয় ফোর্স সহ অনুমান রাত দশটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে রমজানের  স্ত্রী সুমাইয়ার মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন এবং নিহত সুমাইয়ার স্বামী রমজান মুন্সি (৩৪)কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি সাদা রং নোড়া গাড়িতে সদরপুর থানায় নিয়ে জান।এই মর্মান্তিকমৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। এছাড়াও এলাকায় এই মৃত্যুর রহস্য নিয়ে জনমনে নানা ধরনের প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে।এই মৃত্যুর খবর শুনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাঙ্গা সার্কেল আসিফ ইকবাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এব্যাপারে তিনি বলেন, সুমাইয়াকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন অপরদিকে ৪ বছরের শিশু হুজায়ফাকে তাদের শয়নকক্ষের মধ্যেই গলাকাটা অবস্থায় কম্বল প্যাচানো  অবস্থায় মৃত্যু দেহ পাওয়া যায়। এসময় তিনি বলেন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত না করে আপাতত কোন কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং এবিষয়ে আমাদের পুলিশ প্রশাসন গুরুত্বের সাথে কাজ করছে বলে জানান।।