ঢাকা ০৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধামইরহাটে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক ব্যক্তি গ্রেফতার ছদ্মবেশে অভিযান: খালি গায়ে কৃষক সেজে পলাতক ডাকাত গ্রেপ্তার, পুলিশের প্রশংসা ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ফরিদপুরে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ একই প্রতিষ্ঠানের পুনঃপুন কাজ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি জোরালো ফরিদপুরে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা ২০২৬: দৃষ্টিনন্দন আয়োজন, দর্শনার্থী বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ গোয়ালচামটে সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ: জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে, দ্রুত ব্যবস্থা চায় নগরবাসী পহেলা বৈশাখে শুভেচ্ছা জানালেন সমাজসেবিকা নাসিমা খাতুন ফরিদপুরে অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে করণীয় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সদরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ক্ষমা চেয়ে রক্ষা, বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার—সতর্ক বার্তা দিলেন সাংবাদিকরা

চায়না দুয়ারী ও বাঁশের বাঁধ দিয়ে দেশীয় মাছ নিধনে অস্তিত্ব সংকটে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫ ১০৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

শিমুল তালুকদার , সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে এখন প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী, বানার, রাক্ষুসে জাল, ভেশাল জাল ও বাঁশের বাঁধ। এসব জালে ও বাঁধে ধরা পড়ছে ছোট দেশীয় মাছ, রেনু-পোনা, এমনকি মাছের ডিমও। ফলে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দ্রুত কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই অবৈধ জাল ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলেছে। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যেই চায়না দুয়ারি পেতে মাছ ধরা হচ্ছে। অথচ আইন অনুযায়ী এই জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আকোটেরচর স্লুইস গেট খালে বাশের বাঁধ দিয়ে চলছে মাছ শিকার। এছাড়া চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুর তলা নদী ও ভাষাণচর ইউনিয়নের ভূবনেশ্বর নদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শতাধিক চায়না দুয়ারী।

স্থানীয় জেলেরা হতাশা কন্ঠে জানান, নদীতে এখন আগের মতো মাছ নাই। চায়না দুয়ারী সব গিলে খাইছে। এই জালে মাছ তো দূরের কথা, পোনাও রক্ষা পায় না।

তারা জানান, চায়না দুয়ারীর ফাঁস এতটাই সূক্ষ্ম যে এতে মাছের পোনা থেকে শুরু করে জলজ প্রাণীরাও আটকে যায়। একবার পানিতে ফেলা হলে এ জাল থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই। এর ফলে আগামী প্রজন্মের জন্য মাছের অস্তিত্বই হুমকির মুখে।

উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী ছলেনামা গ্রামের জেলে আজাহার শেখ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও তা দৃশ্যমান নয়। আমাদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি এবং চায়না দুয়ারী ও এ ধরনের অবৈধ জাল তৈরির উৎস বন্ধ না হলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।

ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের জলিল মুন্সী জানান, আড়িয়াল খাঁ নদীতে এখন আর আগের মত মাছ নেই। নতুন পানি আসার সাথে সাথে চায়না দুয়ারীসহ বিভিন্ন রাক্ষুসে জাল দিয়ে রেনু-পোনা নিধন করা হয়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ পাওয়া যাবে না।

সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান, আমরা শুনেছি নদীত অসংখ্য চায়না দুয়ারী ও বাঁধ রয়েছে। আমারা ১৫-২০ জনের টিম নিয়ে গেলেও এগুলো দুই এক দিনে তুলে ফেলা সম্ভব না। আমরা সামনের মাস (জুলাই) থেকে অভিযান শুরু করবো।শিমুল তালুকদার
সদরপুর, ফরিদপুর
মোবা: ০১৭১৯১০৩৬১৫
তাং : ৬-জুলাই- ২০২৫ ইং

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চায়না দুয়ারী ও বাঁশের বাঁধ দিয়ে দেশীয় মাছ নিধনে অস্তিত্ব সংকটে

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

 

শিমুল তালুকদার , সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে এখন প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী, বানার, রাক্ষুসে জাল, ভেশাল জাল ও বাঁশের বাঁধ। এসব জালে ও বাঁধে ধরা পড়ছে ছোট দেশীয় মাছ, রেনু-পোনা, এমনকি মাছের ডিমও। ফলে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দ্রুত কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই অবৈধ জাল ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলেছে। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যেই চায়না দুয়ারি পেতে মাছ ধরা হচ্ছে। অথচ আইন অনুযায়ী এই জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আকোটেরচর স্লুইস গেট খালে বাশের বাঁধ দিয়ে চলছে মাছ শিকার। এছাড়া চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুর তলা নদী ও ভাষাণচর ইউনিয়নের ভূবনেশ্বর নদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শতাধিক চায়না দুয়ারী।

স্থানীয় জেলেরা হতাশা কন্ঠে জানান, নদীতে এখন আগের মতো মাছ নাই। চায়না দুয়ারী সব গিলে খাইছে। এই জালে মাছ তো দূরের কথা, পোনাও রক্ষা পায় না।

তারা জানান, চায়না দুয়ারীর ফাঁস এতটাই সূক্ষ্ম যে এতে মাছের পোনা থেকে শুরু করে জলজ প্রাণীরাও আটকে যায়। একবার পানিতে ফেলা হলে এ জাল থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই। এর ফলে আগামী প্রজন্মের জন্য মাছের অস্তিত্বই হুমকির মুখে।

উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী ছলেনামা গ্রামের জেলে আজাহার শেখ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও তা দৃশ্যমান নয়। আমাদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি এবং চায়না দুয়ারী ও এ ধরনের অবৈধ জাল তৈরির উৎস বন্ধ না হলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।

ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের জলিল মুন্সী জানান, আড়িয়াল খাঁ নদীতে এখন আর আগের মত মাছ নেই। নতুন পানি আসার সাথে সাথে চায়না দুয়ারীসহ বিভিন্ন রাক্ষুসে জাল দিয়ে রেনু-পোনা নিধন করা হয়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ পাওয়া যাবে না।

সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান, আমরা শুনেছি নদীত অসংখ্য চায়না দুয়ারী ও বাঁধ রয়েছে। আমারা ১৫-২০ জনের টিম নিয়ে গেলেও এগুলো দুই এক দিনে তুলে ফেলা সম্ভব না। আমরা সামনের মাস (জুলাই) থেকে অভিযান শুরু করবো।শিমুল তালুকদার
সদরপুর, ফরিদপুর
মোবা: ০১৭১৯১০৩৬১৫
তাং : ৬-জুলাই- ২০২৫ ইং