ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬” এর শুভ উদ্বোধন ফরিদপুর সদরে মনিরুজ্জামানের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী বেপরোয়া ট্রাকের তাণ্ডব: আহত বহু পথচারী, উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে চালকের মৃত্যু ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ৯ নং ওয়ার্ডে উন্নয়নের অঙ্গীকার: কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মির্জা মাসুদ পারভেজের প্রতিশ্রুতি উত্তরায় বাবার সামনে থেকে স্কুলছাত্রী অপহরণ, ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার—স্বস্তির মাঝেও রয়ে গেছে বহু প্রশ্ন Dialyzer theft at Faridpur Medical College Hospital due to nurse Nadia Akhter’s negligence, 1 person arrested মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা কালিয়াকৈর ঢাকা টাংগাইল মহাসড়কের পাশে ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন, ভোগান্তিতে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা  বৃষ্টির পর আকাশে রঙের খেলা: রংধনুর বিজ্ঞান ও গ্রামীণ বিশ্বাস ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যা রহস্য উদঘাটন, নারীসহ গ্রেফতার ৩

খুলনার নতুন কারাগার বন্দিরা খুশি, কতৃপক্ষ বেজার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ ১৭৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

শতবছরের পুরোনো খুলনা জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছে ধারন ক্ষমতা দ্ধিগুনের বেশি। ভাঙাচোরা, জরাজীর্ণ ভবনে আতংকে দিন কাটে বন্দিদের। নির্মানাধীন ঝকঝকে নতুন কারাগার দেখে, গল্প শুনে বন্দিরা খুশি। কারন বিশাল এলাকা জুড়ে নতুন কারাগার তৈরি হয়েছে সংশোধনাগার হিসেবে। সেখানে পরিবেশ ভালো, সুযোগ সুবিধাও বেশি। এনিয়ে রাজনৈতিক বন্দিদের মধ্যেও রয়েছে স্বস্তির নি:শ্বাস। তবে ধীর গতির কাজ ও মান নিয়ে অসন্তষ্ট কারা কতৃপক্ষ। গত মে মাসে কারাগার হস্তান্তরের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। বেশকিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। যার কারনে প্রস্তুতি নিয়ে কারাগারটি চালু করতে দেরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানায়, খুলনার নতুন কারাগারের নির্মান কাজ কিছুটা বাকি রয়েছে। গত ২৫ মে গনপুর্ত বিভাগের কাছ থেকে নতুন কারাগারটি বুঝে নেওয়ার কথা ছিল কারা কতৃপক্ষের। কিছু কাজ অসম্পুর্ন থাকায় ঔই দিন হস্তান্তর হয়নি। ফলে গত জুলাই মাসে কারাগারটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও অসম্পুর্নতার কারনে তা বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। গত বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা কারাগারের সুপার মোঃ নাসির উদ্দিন প্রধান এবং জেলার মো: মুনীর হুসাইন সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা নবনির্মিত কারাগারটি পরিদর্শনে যান। এসময় তারা কাজের ধীর গতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেন। সুত্র জানায়, ১৯১২ সালে নগরীর ভৈরব নদীর তীরে নির্মান করা হয় খুলনার প্রথম কারাগার। সেখানে বন্দি ধারন ক্ষমতা ৬৭৮ জনের। বর্তমানে সেখানে ১ হাজার ৩৭৮ জন বন্দি রয়েছেন। ১১৩ বছরের পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনে ঝুকি নিয়ে থাকতে হয় বন্দিদের। এসব বিবেচনায় নিয়েই নতুন কারাগার নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। খুলনা সিটি ( রুপসা সেতু) বাইপাস সড়কের খালাশীর মোড়ের অদুরে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর নতুন কারাগার নির্মিত। মাস্টারপ্লান অনুযায়ী নতুন কারাগারে ৪ হাজার বন্দি থাকতে পারবেন। প্রকল্পের আওতায় আপাতত ২ হাজার বন্দি রাখার অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। পরে প্রয়োজন পড়লে পৃথক প্রকল্প নিয়ে অন্য অবকাঠামো নির্মান হবে। গনপুর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম জানান, বন্দিদের জন্য পৃথক ভবন, ফাঁসির মঞ্চ, নারীদের ডে কেয়ার সেন্টার, কিশোর, শ্রেনী প্রাপ্ত পৃথক ভবন ওয়ার্ক সেড ও বিনোদন কেন্দ্র, ৪ টি রান্নাঘর, পুরুষদের মোটিভেশন সেন্টার, জেল লাইব্রেরি, স্কুল ও হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া পুরুষ ও নারী কারারক্ষীদের জন্য একাধিক কোয়ার্টার, প্রশাসনিক ভবন, সেলুন, লন্ড্রি সহ ৫২ স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে পুরুষ, নারী ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দি দের পৃথক ব্যারাক রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নতুন কারাগারের ভেতরে ঘুরে দেখা গেছে, বন্দিদের প্রতিটি ব্যারাকের চারপাশে পৃথক সীমানা প্রাচীর রয়েছে। এক শ্রেনীর বন্দিদের সাথে মেলামেশার সুযোগ নেই। কারাগারের ভেতরে শুধু সীমানা প্রাচীর রয়েছে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের। ভেতরে ড্রেন, ফুটপাথ, নিজস্ব পয়: বর্জ্য শোধন কেন্দ্র, ওয়াকওয়ে, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, দুটি পুকুর ও সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে মাটি ভরাট কাজ হয়নি। কিছু ভবনের কাজ অসম্পুর্ন রয়েছে। প্রকল্প অফিস থেকে জানাযায়, নতুন এ কারাগার নির্মান হচ্ছে সংশোধনাগার হিসেবে। এখানে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের পৃথক স্থানে রাখা হবে। কিশোর ও কিশোরী বন্দিদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যারাক। নারীদের জন্য পৃথক হাসপাতাল, মোটিভেশন সেন্টার ওয়ার্কসেড আছে। একইভাবে বন্দিদের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতালে থাকবে। আরোও থাকবে কারারক্ষীদের সন্তানদের জন্য স্কুল, বিশাল লাইব্রেরি, ডাইনিং রুম, আধুনিক সেলুন ও লন্ড্রি।কারাগারে শিশু সন্তান সহ নারী বন্দিদের জন্য থাকবে পৃথক ওয়ার্ড ও ডে কেয়ায় সেন্টার। ওয়ার্ডটিতে সাধারণ নারী বন্দি থাকতে পারবেন না। সেখানে শিশুদের জন্য লেখাপড়া, খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিচর্চার ব্যবস্থা থাকবে। কারাগারে নারী পুরুষ ও নারী বন্দিদের হস্তশিল্প কাজের জন্য আলাদা আলাদা ওয়ার্কসেড, বিনোদন কেন্দ্র ও নামাজের ঘর থাকবে। কারাগারের জেলার মো: মুনীর হুসাইন বলেন, সম্প্রতি নতুন কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পাই মাটি ভরাট কাজ এখোনোও শেষ হয়নি। এটি দ্রুত করা না হলে বসবাস করা সম্ভব নয়। অনেক কাজ বাকি আছে। কিছু ভবনের কাজ এখনোও শেষ হয়নি। পুর্নাঙ্গ কাজ শেষ না হলে আমরা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যাব না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত জুলাই মাসে কারাগারটি হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু কাজের যে গতি তাতে করে আরো কয়েকমাস লাগবে। এদিকে কাজের অগ্রগতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খুলনার জেল সুপার মোঃ নাসির উদ্দিন প্রধান। তিনি দ্রুত কাজ সমাপ্ত করার জন্য গনপুর্তকে অনুরোধ জানান। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে নতুন করে একটি কারাগার নির্মানে প্রক্লপ গ্রহণ করা হয়। ২০১১ সালে প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন হয়। এরপর স্থান নির্ধারন, জমি অধিগ্রহণ সহ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ২০১১ সালের অনুমোদিত খুলনা জেলা কারাগার নির্মান প্রকল্প ব্যয় ছিল ১৪৪ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ৬ জুন প্রকল্প প্রথম দফায় সংশোধন করা হয়। এতে ব্যয় বেড়ে দাড়ায় ২৫১ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ৬ জুন প্রকল্পটি প্রথম দফা সংশোধন করা হয়। এতে ব্যয় বেড়ে দাড়িয়েছে ২৮৮ কোটি টাকায়। এরপর ৮ বার প্রকল্পের সময় বেড়েছে, দুই দফায় সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে হয়েছে দ্ধিগুন। ৯ বছরেও প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন ও হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

খুলনার নতুন কারাগার বন্দিরা খুশি, কতৃপক্ষ বেজার

আপডেট সময় : ০২:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

শতবছরের পুরোনো খুলনা জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছে ধারন ক্ষমতা দ্ধিগুনের বেশি। ভাঙাচোরা, জরাজীর্ণ ভবনে আতংকে দিন কাটে বন্দিদের। নির্মানাধীন ঝকঝকে নতুন কারাগার দেখে, গল্প শুনে বন্দিরা খুশি। কারন বিশাল এলাকা জুড়ে নতুন কারাগার তৈরি হয়েছে সংশোধনাগার হিসেবে। সেখানে পরিবেশ ভালো, সুযোগ সুবিধাও বেশি। এনিয়ে রাজনৈতিক বন্দিদের মধ্যেও রয়েছে স্বস্তির নি:শ্বাস। তবে ধীর গতির কাজ ও মান নিয়ে অসন্তষ্ট কারা কতৃপক্ষ। গত মে মাসে কারাগার হস্তান্তরের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। বেশকিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। যার কারনে প্রস্তুতি নিয়ে কারাগারটি চালু করতে দেরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানায়, খুলনার নতুন কারাগারের নির্মান কাজ কিছুটা বাকি রয়েছে। গত ২৫ মে গনপুর্ত বিভাগের কাছ থেকে নতুন কারাগারটি বুঝে নেওয়ার কথা ছিল কারা কতৃপক্ষের। কিছু কাজ অসম্পুর্ন থাকায় ঔই দিন হস্তান্তর হয়নি। ফলে গত জুলাই মাসে কারাগারটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও অসম্পুর্নতার কারনে তা বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। গত বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা কারাগারের সুপার মোঃ নাসির উদ্দিন প্রধান এবং জেলার মো: মুনীর হুসাইন সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা নবনির্মিত কারাগারটি পরিদর্শনে যান। এসময় তারা কাজের ধীর গতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেন। সুত্র জানায়, ১৯১২ সালে নগরীর ভৈরব নদীর তীরে নির্মান করা হয় খুলনার প্রথম কারাগার। সেখানে বন্দি ধারন ক্ষমতা ৬৭৮ জনের। বর্তমানে সেখানে ১ হাজার ৩৭৮ জন বন্দি রয়েছেন। ১১৩ বছরের পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনে ঝুকি নিয়ে থাকতে হয় বন্দিদের। এসব বিবেচনায় নিয়েই নতুন কারাগার নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। খুলনা সিটি ( রুপসা সেতু) বাইপাস সড়কের খালাশীর মোড়ের অদুরে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর নতুন কারাগার নির্মিত। মাস্টারপ্লান অনুযায়ী নতুন কারাগারে ৪ হাজার বন্দি থাকতে পারবেন। প্রকল্পের আওতায় আপাতত ২ হাজার বন্দি রাখার অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। পরে প্রয়োজন পড়লে পৃথক প্রকল্প নিয়ে অন্য অবকাঠামো নির্মান হবে। গনপুর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম জানান, বন্দিদের জন্য পৃথক ভবন, ফাঁসির মঞ্চ, নারীদের ডে কেয়ার সেন্টার, কিশোর, শ্রেনী প্রাপ্ত পৃথক ভবন ওয়ার্ক সেড ও বিনোদন কেন্দ্র, ৪ টি রান্নাঘর, পুরুষদের মোটিভেশন সেন্টার, জেল লাইব্রেরি, স্কুল ও হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া পুরুষ ও নারী কারারক্ষীদের জন্য একাধিক কোয়ার্টার, প্রশাসনিক ভবন, সেলুন, লন্ড্রি সহ ৫২ স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে পুরুষ, নারী ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দি দের পৃথক ব্যারাক রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নতুন কারাগারের ভেতরে ঘুরে দেখা গেছে, বন্দিদের প্রতিটি ব্যারাকের চারপাশে পৃথক সীমানা প্রাচীর রয়েছে। এক শ্রেনীর বন্দিদের সাথে মেলামেশার সুযোগ নেই। কারাগারের ভেতরে শুধু সীমানা প্রাচীর রয়েছে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের। ভেতরে ড্রেন, ফুটপাথ, নিজস্ব পয়: বর্জ্য শোধন কেন্দ্র, ওয়াকওয়ে, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, দুটি পুকুর ও সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে মাটি ভরাট কাজ হয়নি। কিছু ভবনের কাজ অসম্পুর্ন রয়েছে। প্রকল্প অফিস থেকে জানাযায়, নতুন এ কারাগার নির্মান হচ্ছে সংশোধনাগার হিসেবে। এখানে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের পৃথক স্থানে রাখা হবে। কিশোর ও কিশোরী বন্দিদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যারাক। নারীদের জন্য পৃথক হাসপাতাল, মোটিভেশন সেন্টার ওয়ার্কসেড আছে। একইভাবে বন্দিদের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতালে থাকবে। আরোও থাকবে কারারক্ষীদের সন্তানদের জন্য স্কুল, বিশাল লাইব্রেরি, ডাইনিং রুম, আধুনিক সেলুন ও লন্ড্রি।কারাগারে শিশু সন্তান সহ নারী বন্দিদের জন্য থাকবে পৃথক ওয়ার্ড ও ডে কেয়ায় সেন্টার। ওয়ার্ডটিতে সাধারণ নারী বন্দি থাকতে পারবেন না। সেখানে শিশুদের জন্য লেখাপড়া, খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিচর্চার ব্যবস্থা থাকবে। কারাগারে নারী পুরুষ ও নারী বন্দিদের হস্তশিল্প কাজের জন্য আলাদা আলাদা ওয়ার্কসেড, বিনোদন কেন্দ্র ও নামাজের ঘর থাকবে। কারাগারের জেলার মো: মুনীর হুসাইন বলেন, সম্প্রতি নতুন কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পাই মাটি ভরাট কাজ এখোনোও শেষ হয়নি। এটি দ্রুত করা না হলে বসবাস করা সম্ভব নয়। অনেক কাজ বাকি আছে। কিছু ভবনের কাজ এখনোও শেষ হয়নি। পুর্নাঙ্গ কাজ শেষ না হলে আমরা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যাব না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত জুলাই মাসে কারাগারটি হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু কাজের যে গতি তাতে করে আরো কয়েকমাস লাগবে। এদিকে কাজের অগ্রগতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খুলনার জেল সুপার মোঃ নাসির উদ্দিন প্রধান। তিনি দ্রুত কাজ সমাপ্ত করার জন্য গনপুর্তকে অনুরোধ জানান। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে নতুন করে একটি কারাগার নির্মানে প্রক্লপ গ্রহণ করা হয়। ২০১১ সালে প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন হয়। এরপর স্থান নির্ধারন, জমি অধিগ্রহণ সহ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ২০১১ সালের অনুমোদিত খুলনা জেলা কারাগার নির্মান প্রকল্প ব্যয় ছিল ১৪৪ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ৬ জুন প্রকল্প প্রথম দফায় সংশোধন করা হয়। এতে ব্যয় বেড়ে দাড়ায় ২৫১ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ৬ জুন প্রকল্পটি প্রথম দফা সংশোধন করা হয়। এতে ব্যয় বেড়ে দাড়িয়েছে ২৮৮ কোটি টাকায়। এরপর ৮ বার প্রকল্পের সময় বেড়েছে, দুই দফায় সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে হয়েছে দ্ধিগুন। ৯ বছরেও প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন ও হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।