ফরিদপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে- জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৬:৫০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫ ৩৪৭ বার পড়া হয়েছে

রেজাউল করিম – ফরিদপুর
ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়ের এর স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফরিদপুর ডায়াবেটিকস হসপিটাল সংলগ্ন অবস্থিত আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ঐ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্য সূত্রে জানা যায়
গত ২৩ সেপ্টেম্বর “এড-হক কমিটি গঠনের লক্ষে সভাপতি মনোনয়ন প্রসঙ্গে” শীর্ষক প্রেরিত চিঠিতে তিনি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লার স্বাক্ষর জাল করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম এর সহিত মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন সদ উত্তর দিতে পারেনি ও গড়িমসি কথা বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে পুনরায় তাঁকে ফোন দিয়ে চিঠিতে তার স্বাক্ষর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা অকপটে স্বীকার করেন, পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক এর সিল নাই কেন স্বাক্ষর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন ও একপর্যায়ে ফোন বন্ধ করে রাখেন। তবে তিনি বলেন জাল করিনি স্ক্যান করে বসিয়েছি”-বলে জানান। ফরিদপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা এক চিঠিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এড-হক কমিটি গঠনের লক্ষে সভাপতি মনোনয়ন বিষয়ক চিঠি চেয়ে পাঠান।এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহাকে প্রধান করে, সহকারি কমিশনার (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা) নাজমুন নাহান নাঈম এবং সহকারি কমিশনার (গোপনীয়) দীপ্ত চক্রবর্তীকে সদস্য করে একটি চিঠি প্রস্তুত করি। কিন্তু চিঠিটি যখন পাঠানোর উদ্যোগ নেই ওই সময় জেলা প্রশাসক অসুস্থ থাকায় তার স্বাক্ষর নেওয়া সম্ভব হয়নি। এজন্য আমি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটির) সুস্মিতা সাহার সাথে পরামর্শ করে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর স্ক্যান করে বসিয়ে দেই।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, এ বিষয়টি পরবর্তিতে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি মীমাংশা হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা বলেন, আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি করার জন্য ওই শিক্ষক আমাদের সাথে মৌখিক ভাবে আলোচনা করেছিলেন। ঢাকা বোর্ডে এডহক কমিটির জন্য জেলা প্রশাসকের সুপারিশের প্রয়োজন হয়। নুর ইসলাম ঢাকা বোর্ডে যে সুপারিশ পাঠিয়েছেন তাতে জেলা প্রশাসক স্যারের একটি স্ক্যানিং স্বাক্ষর (ভূয়া) পাঠিয়েছেন। এটা তিনি কোনভাবেই করতে পারেন না বলে জানান, তার এধরনের বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিবো।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমার স্বাক্ষর জাল করেছেন বলে আমি জানতে পেরেছি। আমি এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)কে নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন। এব্যাপারে বিদ্যালয়ের অনন্য শিক্ষকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক মহল খুবই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তারা বলেন একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এবং জাতি গড়ার কারিগর অথচ সে সু কৌশলে কমিটি গঠনের জাল জালিয়াতি করেছে আমরা এ শিক্ষকের উপযুক্ত বিচার চাই, যে কিনা আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবকের স্বাক্ষর জাল করতে পারে তাহলে তার দ্বারা এই বিদ্যালয়ের সকল ক্ষতি করা সম্ভব। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে, এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন আমাদের বিদ্যালয়ের কিছু কিছু শিক্ষক-ও -শিক্ষিকাদের উপর মনে হয় ভুতের আছর পেয়েছে, একের পর একেক আছর লেগেই আছে আমরা এর সঠিকভাবে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি প্রতিকার চাই।












