ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে সারের সংকট নেই, চার মাসের বাড়তি মজুত রয়েছে: কৃষিমন্ত্রী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা রোগী হয়রানি বন্ধ, দালালমুক্ত পরিবেশ ও জরুরি অবকাঠামো উন্নয়নে জোর পত্নীতলায় বিএনপির প্রস্তুতি সভা শিবচরে চার বছর বিদ্যুৎহীন উম্মে হানি, মোমবাতির আলোয় চলছে পড়াশোনা ধামইরহাটে ১ হাজার ৫৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি নওগাঁ জেলার পোরশায় প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথর সদৃশ হিন্দুধর্মীয় দেবতার মূর্তি উদ্ধার নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুব শেখের ঘোষণা নগরকান্দায় গ্রামভিত্তিক অস্ত্রবিহীন ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ চলমান, পরিদর্শন করলেন ইউএনও নওগাঁয় জনগণের সহায়তায় মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য জিম গ্রেফতার রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে, পরিবারপ্রতি মিলবে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা

ফরিদপুরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫ ২১৩ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

পার্থ প্রতিম ভদ্র, ক্রাইম রিপোর্টার:

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওয়াদুদ মাতুব্বর (৪৬) ও তার স্ত্রী রুমা আক্তারের (৪১) বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দূর্ণীতি দমন কমিশন(দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও জ্ঞাত আয়ের থেকে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্যের ভিত্তিতে এ মামলা করা হয়েছে। আজ

রোববার দুপুরে ফরিদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন ফরিদপুর দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রতন কুমার দাশ।

জানা যায়, ওয়াদুদ মাতুব্বর সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠিয়াগট্টি এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি পরপর দুইবার সালথা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন এবং সর্বশেষ চেয়ারম্যান পদে থাকাকালীন ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারের এক ঘোষণায় অপসারিত হোন। বর্তমানে তিনি একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা হলেও দলীয় কোনো পদ-পদবীতে ছিলেন না। তবে ফরিদপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহাদাব আকবর লাবু চৌধুরীর আস্থাভাজন হিসেবে এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত ছিলেন।

জেলা দুদক কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী দুজনের বিরুদ্ধে অবেধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুদকে অভিযোগ করা হয়। ওই অভিযোগের সুত্র ধরে গত ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর সম্পদ বিবরনি দাখিল করেন এবং ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেন দুদক। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে ওয়াদুদ মাতুব্বর ও তার স্ত্রী রুমা আক্তারের বিরুদ্ধে পৃথক এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওয়াদুদ মাতুব্বর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিবরনীতে মোট ২৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৮৪ টাকার মূল্যের সম্পদ উল্লেখ করেন। অনুসন্ধানকালে ৮৬ লাখ ৪৯ হাজার ৬৩১ টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়া ২০১২-১৩ সাল থেকে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আয়কর রিটার্নের তথ্যমতে বৈধ সম্পদের পরিমান দাড়ায় ৩১ লাখ ২০ হাজার ১৬৭ টাকার।

আরও উল্লেখ করা হয়, ওয়াদুদ মাতুব্বর ৫৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে এবং ২০ লক্ষ টাকা ঋণের মিথ্য তথ্য প্রদান করেন। যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের থেকে ৫৫ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৬৪ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদের কথা উল্লেখ করেন দুদক।

এদিকে, ওয়াদুদ মাতুব্বরের স্ত্রী রুমা আক্তার ৭৪ লক্ষ ৪১ হাজার ৮৯৮ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করে এবং মিথ্যা তথ্য প্রদান করে। অনুসন্ধানকালে তার নামে থাকা এক কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার ১৩৭ টাকা অবৈধ সম্পদের সন্ধান পায় দুদক, যা জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। এই সম্পদের মধ্যে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় একটি ফ্লাটবাসাও তার রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া তার বৈধ আয় ১৯ লক্ষ ৭২ হাজার ৬১৭ টাকা মূল্যের সম্পদের কথা উল্লেখ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রতন কুমার দাশ বলেন, তাদের বিরুদ্ধে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও জ্ঞাত আয়ের থেকে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্যের ভিত্তিতে এ মামলা করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

 

 

পার্থ প্রতিম ভদ্র, ক্রাইম রিপোর্টার:

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওয়াদুদ মাতুব্বর (৪৬) ও তার স্ত্রী রুমা আক্তারের (৪১) বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দূর্ণীতি দমন কমিশন(দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও জ্ঞাত আয়ের থেকে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্যের ভিত্তিতে এ মামলা করা হয়েছে। আজ

রোববার দুপুরে ফরিদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন ফরিদপুর দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রতন কুমার দাশ।

জানা যায়, ওয়াদুদ মাতুব্বর সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠিয়াগট্টি এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি পরপর দুইবার সালথা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন এবং সর্বশেষ চেয়ারম্যান পদে থাকাকালীন ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারের এক ঘোষণায় অপসারিত হোন। বর্তমানে তিনি একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা হলেও দলীয় কোনো পদ-পদবীতে ছিলেন না। তবে ফরিদপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহাদাব আকবর লাবু চৌধুরীর আস্থাভাজন হিসেবে এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত ছিলেন।

জেলা দুদক কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী দুজনের বিরুদ্ধে অবেধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুদকে অভিযোগ করা হয়। ওই অভিযোগের সুত্র ধরে গত ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর সম্পদ বিবরনি দাখিল করেন এবং ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেন দুদক। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে ওয়াদুদ মাতুব্বর ও তার স্ত্রী রুমা আক্তারের বিরুদ্ধে পৃথক এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওয়াদুদ মাতুব্বর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিবরনীতে মোট ২৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৮৪ টাকার মূল্যের সম্পদ উল্লেখ করেন। অনুসন্ধানকালে ৮৬ লাখ ৪৯ হাজার ৬৩১ টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়া ২০১২-১৩ সাল থেকে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আয়কর রিটার্নের তথ্যমতে বৈধ সম্পদের পরিমান দাড়ায় ৩১ লাখ ২০ হাজার ১৬৭ টাকার।

আরও উল্লেখ করা হয়, ওয়াদুদ মাতুব্বর ৫৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে এবং ২০ লক্ষ টাকা ঋণের মিথ্য তথ্য প্রদান করেন। যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের থেকে ৫৫ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৬৪ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদের কথা উল্লেখ করেন দুদক।

এদিকে, ওয়াদুদ মাতুব্বরের স্ত্রী রুমা আক্তার ৭৪ লক্ষ ৪১ হাজার ৮৯৮ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করে এবং মিথ্যা তথ্য প্রদান করে। অনুসন্ধানকালে তার নামে থাকা এক কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার ১৩৭ টাকা অবৈধ সম্পদের সন্ধান পায় দুদক, যা জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। এই সম্পদের মধ্যে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় একটি ফ্লাটবাসাও তার রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া তার বৈধ আয় ১৯ লক্ষ ৭২ হাজার ৬১৭ টাকা মূল্যের সম্পদের কথা উল্লেখ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রতন কুমার দাশ বলেন, তাদের বিরুদ্ধে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও জ্ঞাত আয়ের থেকে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্যের ভিত্তিতে এ মামলা করা হয়েছে।