ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক মাদ্রাসা ছাত্রের বস্তা বন্দী লাশ উদ্ধার।
- আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫ ২৩৭ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চর চান্দড়া গ্রামে নিখোঁজের দুই দিন পর মোঃ আমির হামজা উরফে হানযালা (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মতিয়ার শেখের বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে লাশটি তোলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মতিয়ার শেখের স্ত্রী হাঁস আনতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ভাস’মান একটি বস্তা দেখতে পান। বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে, পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
রাত ৮ ঘটিকার সময় আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ বস্তাটি টেনে তীরে তুলে বস্তা খুলে ভেতরের দেহ বের করে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন দেহটি আংশিক গলে যাওয়া (অর্ধগলিত) অবস্থায় ছিল এবং মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। বস্তার মধ্যে কিছু ইটও পাওয়া গেছে, যা লাশ ডুবিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এটি কনো দৈব ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা কাণ্ড।
নিহতের বাবা শুকুরহাটা গ্রামের সাইরুদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মাসুম বাচ্চার কি এমন দোষ করল যে তাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো? আমার তিনটা মেয়ে, একটাই ছেলে হানযালা। আমি খুনিদের বিচারের দাবি জানাই।
সাইরুদ্দিন জানান, রোববার বিকেল থেকেই তার ছেলে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে তিনি সোমবার (২০ অক্টোবর) আলফাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আমিনুল্লাহ বলেন, রোববার ১৯ অক্টোবর আছরের নামাজের পর হানযালা রুম থেকে কিছু নিয়ে বের হয়, এরপর আর দেখা মেলেনি। আমরা দুই দিন ধরে মাইকিং করেছি, কিন্তু কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। লাশের অবস্থান এবং বস্তার ভেতরের ইটের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা কাণ্ড। সম্ভবত অন্য কোথাও হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে।













