ঢাকা ০৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কানাইপুরে জমি বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ৩ হাতবদল হয়েই দাম দ্বিগুণ, বিলুপ্তপ্রায় তাল ফলের বাজার চড়া মাদক ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর গোয়ালন্দঘাটে ৮.৫৮ লাখ টাকার মাদকসহ চারজন গ্রেপ্তার ফরিদপুরে ভেজালবিরোধী অভিযানে চার প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা উচ্ছেদের পরও ফুটপাত দখলে, প্রশ্ন উঠছে পৌর অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে শিবচরে রেলভূমিতে ‘দখল-বাণিজ্য ধামইরহাটে নারী হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী ও চালক নিহত কণিকার বাড়িতে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক মাদ্রাসা ছাত্রের বস্তা বন্দী লাশ উদ্ধার।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫ ২৬০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চর চান্দড়া গ্রামে নিখোঁজের দুই দিন পর মোঃ আমির হামজা উরফে হানযালা (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মতিয়ার শেখের বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে লাশটি তোলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মতিয়ার শেখের স্ত্রী হাঁস আনতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ভাস’মান একটি বস্তা দেখতে পান। বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে, পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

রাত ৮ ঘটিকার সময় আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ বস্তাটি টেনে  তীরে তুলে বস্তা খুলে ভেতরের দেহ বের করে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন দেহটি আংশিক গলে যাওয়া (অর্ধগলিত) অবস্থায় ছিল এবং মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। বস্তার মধ্যে কিছু ইটও পাওয়া গেছে, যা লাশ ডুবিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এটি কনো দৈব ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা কাণ্ড।

নিহতের বাবা শুকুরহাটা গ্রামের সাইরুদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মাসুম বাচ্চার কি এমন দোষ করল যে তাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো? আমার তিনটা মেয়ে, একটাই ছেলে হানযালা। আমি খুনিদের বিচারের দাবি জানাই।

সাইরুদ্দিন জানান, রোববার বিকেল থেকেই তার ছেলে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে তিনি সোমবার (২০ অক্টোবর) আলফাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম।

 

মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আমিনুল্লাহ বলেন, রোববার ১৯ অক্টোবর  আছরের নামাজের পর হানযালা রুম থেকে কিছু নিয়ে বের হয়, এরপর আর দেখা মেলেনি। আমরা দুই দিন ধরে মাইকিং করেছি, কিন্তু কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। লাশের অবস্থান এবং বস্তার ভেতরের ইটের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা কাণ্ড। সম্ভবত অন্য কোথাও হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক মাদ্রাসা ছাত্রের বস্তা বন্দী লাশ উদ্ধার।

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চর চান্দড়া গ্রামে নিখোঁজের দুই দিন পর মোঃ আমির হামজা উরফে হানযালা (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মতিয়ার শেখের বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে লাশটি তোলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মতিয়ার শেখের স্ত্রী হাঁস আনতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ভাস’মান একটি বস্তা দেখতে পান। বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে, পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

রাত ৮ ঘটিকার সময় আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ বস্তাটি টেনে  তীরে তুলে বস্তা খুলে ভেতরের দেহ বের করে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন দেহটি আংশিক গলে যাওয়া (অর্ধগলিত) অবস্থায় ছিল এবং মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। বস্তার মধ্যে কিছু ইটও পাওয়া গেছে, যা লাশ ডুবিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এটি কনো দৈব ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা কাণ্ড।

নিহতের বাবা শুকুরহাটা গ্রামের সাইরুদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মাসুম বাচ্চার কি এমন দোষ করল যে তাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো? আমার তিনটা মেয়ে, একটাই ছেলে হানযালা। আমি খুনিদের বিচারের দাবি জানাই।

সাইরুদ্দিন জানান, রোববার বিকেল থেকেই তার ছেলে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে তিনি সোমবার (২০ অক্টোবর) আলফাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম।

 

মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আমিনুল্লাহ বলেন, রোববার ১৯ অক্টোবর  আছরের নামাজের পর হানযালা রুম থেকে কিছু নিয়ে বের হয়, এরপর আর দেখা মেলেনি। আমরা দুই দিন ধরে মাইকিং করেছি, কিন্তু কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। লাশের অবস্থান এবং বস্তার ভেতরের ইটের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা কাণ্ড। সম্ভবত অন্য কোথাও হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে।