ঢাকা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের কল্যাণ, ঐক্য ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ শোক সংবাদ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ২৫০ শয্যার, নির্মাণের উদ্যোগ ১৫ তলা আধুনিক ভবনের পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিবচরে যুবলীগ নেতার দাপট, ভয়-ভীতি ও মারধর করে জমি দখলের অভিযোগ সদরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ও বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত

ফরিদপুর মধুখালীর আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে হিন্দু পরিবারের জমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ২৩২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি।

ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার এক অসহায় হিন্দু পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মধুখালির বাসিন্দা সুনীল চন্দ্র ঋষি (৬৫) সুষিল চন্দ্র ঋষি ও নিখিল চন্দ্র ঋষি (৫৫) তিন ভাই, যাদের বাবা মৃত গোওর চন্দ্র ঋষি। তারা দাবি করেছেন, তাদের বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি জাল দলিল তৈরি করে দখল করে নিয়েছেন আজিমউদ্দিনের ছেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম সোনা (৬০) তরিকুল ইসলাম তারা (৫৮) এবং আনোয়ার হোসেন (৬৬)।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তরা জাল কাগজপত্র তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের উপর নানাভাবে ভয়ভীতি, হুমকি ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত দুই দশক ধরে নিখিল চন্দ্র ঋষির পরিবার অব্যাহতভাবে নিপীড়নের শিকার। তাদের ঘর মেরামত করতে দেওয়া হয়নি, নতুন করে টয়লেট বা টিউবওয়েল স্থাপনেও বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে পরিবারটি বাধ্য হয়ে নিকটস্থ মার্কেটের টয়লেট ব্যবহার করছেন। নিখিল চন্দ্র ঋষির ছেলে বলেন, আমরা নানা’ভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। মাঝে মাঝেই আমাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, গালাগাল দেওয়া হয়, এমনকি মারধরও করে।

এই বিষয়ে স্থানীয় এক চিকিৎসক জানান, একদিন তারা দৌড়ে আমার কাছে আসে, রক্তাক্ত অবস্থায়। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই। ঘটনাটি সত্য এবং মারামারির চিহ্ন তাদের শরীরে ছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এক পর্যায়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম সোনা তাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেন। এতে তাদের ঘর আংশিকভাবে পুড়ে যায়।

তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম সোনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিখিল চন্দ্র ঋষির বাবার কাছ থেকে আমার বাবা বৈধভাবে ওই জমি ক্রয় করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা এখানেই বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালত যে রায় দিবে, আমি তা শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নেব। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিবারের এক সদস্য প্রতিবন্ধী, আরেকজন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আর্থিক সংকট ও সামাজিক নিপীড়নে তারা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যে, বিষয়টি এলাকায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই পরিবার নিরাপদে থাকা তো দূরের কথা, বেঁচে থাকাটাও কঠিন হয়ে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুর মধুখালীর আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে হিন্দু পরিবারের জমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ।

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

 

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি।

ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার এক অসহায় হিন্দু পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মধুখালির বাসিন্দা সুনীল চন্দ্র ঋষি (৬৫) সুষিল চন্দ্র ঋষি ও নিখিল চন্দ্র ঋষি (৫৫) তিন ভাই, যাদের বাবা মৃত গোওর চন্দ্র ঋষি। তারা দাবি করেছেন, তাদের বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি জাল দলিল তৈরি করে দখল করে নিয়েছেন আজিমউদ্দিনের ছেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম সোনা (৬০) তরিকুল ইসলাম তারা (৫৮) এবং আনোয়ার হোসেন (৬৬)।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তরা জাল কাগজপত্র তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের উপর নানাভাবে ভয়ভীতি, হুমকি ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত দুই দশক ধরে নিখিল চন্দ্র ঋষির পরিবার অব্যাহতভাবে নিপীড়নের শিকার। তাদের ঘর মেরামত করতে দেওয়া হয়নি, নতুন করে টয়লেট বা টিউবওয়েল স্থাপনেও বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে পরিবারটি বাধ্য হয়ে নিকটস্থ মার্কেটের টয়লেট ব্যবহার করছেন। নিখিল চন্দ্র ঋষির ছেলে বলেন, আমরা নানা’ভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। মাঝে মাঝেই আমাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, গালাগাল দেওয়া হয়, এমনকি মারধরও করে।

এই বিষয়ে স্থানীয় এক চিকিৎসক জানান, একদিন তারা দৌড়ে আমার কাছে আসে, রক্তাক্ত অবস্থায়। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই। ঘটনাটি সত্য এবং মারামারির চিহ্ন তাদের শরীরে ছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এক পর্যায়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম সোনা তাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেন। এতে তাদের ঘর আংশিকভাবে পুড়ে যায়।

তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম সোনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিখিল চন্দ্র ঋষির বাবার কাছ থেকে আমার বাবা বৈধভাবে ওই জমি ক্রয় করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা এখানেই বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালত যে রায় দিবে, আমি তা শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নেব। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিবারের এক সদস্য প্রতিবন্ধী, আরেকজন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আর্থিক সংকট ও সামাজিক নিপীড়নে তারা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যে, বিষয়টি এলাকায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই পরিবার নিরাপদে থাকা তো দূরের কথা, বেঁচে থাকাটাও কঠিন হয়ে পড়বে।