ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাতকড়া পরা আ.লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিল নেতা কর্মীরা, পুলিশের ওপর হামলায় আহত অন্তত ৫ ফরিদপুরের সালথায় বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা। এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, কেন্দ্র পরিদর্শনে পুলিশ কর্মকর্তারা ১৫৭ বছরের ঐতিহ্যের শহর ফরিদপুর: সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার জোর দাবি —সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল সদরপুরে ২০০ বছরের ঐতিহ্য: জরিপের ডাঙ্গীতে উৎসবমুখর ‘মুসলমানদের মেলা’ সদরপুরে হাম-রুবেলা প্রতিরোধ টিকাদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। কালিয়াকৈরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারনে এস এস সি পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তি এগুলো দেখার কেউ নেই কালিয়াকৈরেএস এস সি পরীক্ষার্থীদের পাশে এমপি মজিবুর রহমান, শুভেচ্ছা ব্যানারে দলীয় বার্তা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জনের মনোনয়ন চূড়ান্ত ফরিদপুরে আবাসিক হোটেলে হামলা, মালিককে কুপিয়ে জখম; চাঁদাবাজির অভিযোগ।

মাদ্রাসা থেকে ১৩ বছরের শিক্ষার্থী নিখোঁজ: শারীরিক নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ পরিবারের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি আমিন

কক্সবাজারে জামেয়াতুল ইমাম মুসলিম (রা.) মাদ্রাসা ও এতিম খানার ১৩ বছর বয়সী আবাসিক ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা মরিয়ম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সুপারসহ দুই শিক্ষককে দায়ী করে শারীরিক নির্যাতন, গুম ও পাচারের অভিযোগ তুলেছেন ভিকটিমের মা মোসা. রিনা আক্তার। গত ২৫ নভেম্বর এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রিনা আক্তার জানান, ২৫ নভেম্বর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ০১৮৮৪-৭৬৯৪৬২ নম্বর থেকে তাকে ফোন করে বলা হয়—তার মেয়ে সাদিয়াকে টাকা চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়েছে এবং এ ঘটনার পর সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত মাদ্রাসায় যান। সেখানে ছাত্র–ছাত্রীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, দ্বিতীয় আসামি সাদিয়াকে বেদম মারধর করেন এবং চুরি হওয়া টাকা ফেরত না দিলে মাথার চুল কেটে ফেলার হুমকি দেন।

অভিযোগ রয়েছে, মেয়েকে খুঁজতে হোস্টেলে ঢুকতে চাইলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশ করতে দেয়নি। মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে রিনা আক্তার সেদিনই কক্সবাজার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং—২০১৪) করেন। বিষয়টি এসআই অজিদ কুমার দাশ তদন্ত করছেন।

এরপরের কয়েকদিন তিনি মাদ্রাসার আশপাশের এলাকায় মাইকিং করাসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পাননি। এদিকে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে এক প্রতারক চক্র ফোন করে দাবি করে—সাদিয়া তাদের কাছে আছে, ৫০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেবে। বিষয়টি র‍্যাব-১৫ কে জানানো হলে টানা অভিযান চালিয়ে ওই প্রতারক চক্রকে আটক করে র‍্যাব। তবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের কাছে সাদিয়া নেই।

মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন মা রিনা আক্তার। তিনি বলেন,
“আমার ধারণা, মাদ্রাসার লোকজন আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করে লাশ গুম করেছে, অথবা পাচার করেছে। এ মাদ্রাসা নিয়ে আগেও নানা অপকর্মের অভিযোগ শুনেছি। স্থানীয়রাও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা বলে।”

এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিকটিমের পরিবার দ্রুত মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মাদ্রাসা থেকে ১৩ বছরের শিক্ষার্থী নিখোঁজ: শারীরিক নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ পরিবারের

আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

 

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি আমিন

কক্সবাজারে জামেয়াতুল ইমাম মুসলিম (রা.) মাদ্রাসা ও এতিম খানার ১৩ বছর বয়সী আবাসিক ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা মরিয়ম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সুপারসহ দুই শিক্ষককে দায়ী করে শারীরিক নির্যাতন, গুম ও পাচারের অভিযোগ তুলেছেন ভিকটিমের মা মোসা. রিনা আক্তার। গত ২৫ নভেম্বর এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রিনা আক্তার জানান, ২৫ নভেম্বর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ০১৮৮৪-৭৬৯৪৬২ নম্বর থেকে তাকে ফোন করে বলা হয়—তার মেয়ে সাদিয়াকে টাকা চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়েছে এবং এ ঘটনার পর সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত মাদ্রাসায় যান। সেখানে ছাত্র–ছাত্রীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, দ্বিতীয় আসামি সাদিয়াকে বেদম মারধর করেন এবং চুরি হওয়া টাকা ফেরত না দিলে মাথার চুল কেটে ফেলার হুমকি দেন।

অভিযোগ রয়েছে, মেয়েকে খুঁজতে হোস্টেলে ঢুকতে চাইলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশ করতে দেয়নি। মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে রিনা আক্তার সেদিনই কক্সবাজার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং—২০১৪) করেন। বিষয়টি এসআই অজিদ কুমার দাশ তদন্ত করছেন।

এরপরের কয়েকদিন তিনি মাদ্রাসার আশপাশের এলাকায় মাইকিং করাসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পাননি। এদিকে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে এক প্রতারক চক্র ফোন করে দাবি করে—সাদিয়া তাদের কাছে আছে, ৫০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেবে। বিষয়টি র‍্যাব-১৫ কে জানানো হলে টানা অভিযান চালিয়ে ওই প্রতারক চক্রকে আটক করে র‍্যাব। তবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের কাছে সাদিয়া নেই।

মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন মা রিনা আক্তার। তিনি বলেন,
“আমার ধারণা, মাদ্রাসার লোকজন আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করে লাশ গুম করেছে, অথবা পাচার করেছে। এ মাদ্রাসা নিয়ে আগেও নানা অপকর্মের অভিযোগ শুনেছি। স্থানীয়রাও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা বলে।”

এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিকটিমের পরিবার দ্রুত মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।