ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভুতুড়ে বিলের প্রতিবাদে ফরিদপুরে মিছিল, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি অসুবিধা ও অব্যবস্থাপনায় জরাজীর্ণ ফরিদপুরের আড়াইরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার বদলে ‘প্রাইভেট বাণিজ্য’, অবহেলায় বঞ্চিত কোমলমতি শিশুরা ইলিয়াস আলীকে ‘দ্বিতীয় চেষ্টায়’ জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে অপহরণ: চিফ প্রসিকিউটর ফরিদপুর জেলা পরিষদ ও বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শন করলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ৩০ বছরের ভোগান্তি, বসতভিটা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান দিনমজুর নুরুল ইসলাম ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি, পৌর কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শনের আহ্বান কালিয়াকৈরে জাল রাজস্ব স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ২৫ লক্ষ টাকার নকল সিগারেট জব্দ আটক ২ জন মোট চার দিনের ছুটিতে প্রিয়জনের সঙ্গে ছুটি উপভোগ করার জন্য উত্তরবঙ্গের পথে ছুটছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মান্দায় অভিযান: ২২০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণসহ একজন গ্রেফতার সীমান্ত থেকে ৯৪.৭৫০ কেজি ওজনের দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার

মাদ্রাসা থেকে ১৩ বছরের শিক্ষার্থী নিখোঁজ: শারীরিক নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ পরিবারের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি আমিন

কক্সবাজারে জামেয়াতুল ইমাম মুসলিম (রা.) মাদ্রাসা ও এতিম খানার ১৩ বছর বয়সী আবাসিক ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা মরিয়ম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সুপারসহ দুই শিক্ষককে দায়ী করে শারীরিক নির্যাতন, গুম ও পাচারের অভিযোগ তুলেছেন ভিকটিমের মা মোসা. রিনা আক্তার। গত ২৫ নভেম্বর এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রিনা আক্তার জানান, ২৫ নভেম্বর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ০১৮৮৪-৭৬৯৪৬২ নম্বর থেকে তাকে ফোন করে বলা হয়—তার মেয়ে সাদিয়াকে টাকা চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়েছে এবং এ ঘটনার পর সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত মাদ্রাসায় যান। সেখানে ছাত্র–ছাত্রীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, দ্বিতীয় আসামি সাদিয়াকে বেদম মারধর করেন এবং চুরি হওয়া টাকা ফেরত না দিলে মাথার চুল কেটে ফেলার হুমকি দেন।

অভিযোগ রয়েছে, মেয়েকে খুঁজতে হোস্টেলে ঢুকতে চাইলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশ করতে দেয়নি। মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে রিনা আক্তার সেদিনই কক্সবাজার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং—২০১৪) করেন। বিষয়টি এসআই অজিদ কুমার দাশ তদন্ত করছেন।

এরপরের কয়েকদিন তিনি মাদ্রাসার আশপাশের এলাকায় মাইকিং করাসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পাননি। এদিকে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে এক প্রতারক চক্র ফোন করে দাবি করে—সাদিয়া তাদের কাছে আছে, ৫০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেবে। বিষয়টি র‍্যাব-১৫ কে জানানো হলে টানা অভিযান চালিয়ে ওই প্রতারক চক্রকে আটক করে র‍্যাব। তবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের কাছে সাদিয়া নেই।

মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন মা রিনা আক্তার। তিনি বলেন,
“আমার ধারণা, মাদ্রাসার লোকজন আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করে লাশ গুম করেছে, অথবা পাচার করেছে। এ মাদ্রাসা নিয়ে আগেও নানা অপকর্মের অভিযোগ শুনেছি। স্থানীয়রাও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা বলে।”

এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিকটিমের পরিবার দ্রুত মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মাদ্রাসা থেকে ১৩ বছরের শিক্ষার্থী নিখোঁজ: শারীরিক নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ পরিবারের

আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

 

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি আমিন

কক্সবাজারে জামেয়াতুল ইমাম মুসলিম (রা.) মাদ্রাসা ও এতিম খানার ১৩ বছর বয়সী আবাসিক ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা মরিয়ম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সুপারসহ দুই শিক্ষককে দায়ী করে শারীরিক নির্যাতন, গুম ও পাচারের অভিযোগ তুলেছেন ভিকটিমের মা মোসা. রিনা আক্তার। গত ২৫ নভেম্বর এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রিনা আক্তার জানান, ২৫ নভেম্বর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ০১৮৮৪-৭৬৯৪৬২ নম্বর থেকে তাকে ফোন করে বলা হয়—তার মেয়ে সাদিয়াকে টাকা চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়েছে এবং এ ঘটনার পর সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত মাদ্রাসায় যান। সেখানে ছাত্র–ছাত্রীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, দ্বিতীয় আসামি সাদিয়াকে বেদম মারধর করেন এবং চুরি হওয়া টাকা ফেরত না দিলে মাথার চুল কেটে ফেলার হুমকি দেন।

অভিযোগ রয়েছে, মেয়েকে খুঁজতে হোস্টেলে ঢুকতে চাইলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশ করতে দেয়নি। মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে রিনা আক্তার সেদিনই কক্সবাজার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং—২০১৪) করেন। বিষয়টি এসআই অজিদ কুমার দাশ তদন্ত করছেন।

এরপরের কয়েকদিন তিনি মাদ্রাসার আশপাশের এলাকায় মাইকিং করাসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পাননি। এদিকে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে এক প্রতারক চক্র ফোন করে দাবি করে—সাদিয়া তাদের কাছে আছে, ৫০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেবে। বিষয়টি র‍্যাব-১৫ কে জানানো হলে টানা অভিযান চালিয়ে ওই প্রতারক চক্রকে আটক করে র‍্যাব। তবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের কাছে সাদিয়া নেই।

মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন মা রিনা আক্তার। তিনি বলেন,
“আমার ধারণা, মাদ্রাসার লোকজন আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করে লাশ গুম করেছে, অথবা পাচার করেছে। এ মাদ্রাসা নিয়ে আগেও নানা অপকর্মের অভিযোগ শুনেছি। স্থানীয়রাও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা বলে।”

এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিকটিমের পরিবার দ্রুত মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।