ফরিদপুরে শিশুশ্রমিক হত্যা: মূল অভিযুক্ত রিহাত শেখ ওরফে হাকিম গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চাঞ্চল্যকর শিশুশ্রমিক হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত রিহাত শেখ ওরফে হাকিম (২২) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ (র্যাব-১০)। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত রিহাত শেখ বোয়ালমারী উপজেলার রামনগর এলাকার বাসিন্দা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবড়া গ্রামে একটি জুট মিলে কর্মরত ১২ বছর বয়সী শ্রমিক মো. সজীব ওরফে শরীফ কাজ শেষে কম্প্রেসার মেশিনের পাইপ দিয়ে শরীর পরিষ্কার করছিল। এ সময় অভিযুক্ত রিহাত শেখ ও তার এক সহযোগী কম্প্রেসার মেশিনের উচ্চচাপের বাতাস শিশুটির পায়ুপথে প্রবেশ করায়। এতে তার পেট ফুলে যায় এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরে তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাতে তার অন্ত্র একাধিক স্থানে ছিদ্র হয়ে যায় এবং অস্ত্রোপচারের পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বোয়ালমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-১৭, তারিখ-২৬/০২/২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড। ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি আত্মগোপনে ছিল। র্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। বাহিনীটি জানায়, এ ধরনের নৃশংস ও অমানবিক অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।


















