ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুর সদরে মনিরুজ্জামানের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী বেপরোয়া ট্রাকের তাণ্ডব: আহত বহু পথচারী, উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে চালকের মৃত্যু ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ৯ নং ওয়ার্ডে উন্নয়নের অঙ্গীকার: কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মির্জা মাসুদ পারভেজের প্রতিশ্রুতি উত্তরায় বাবার সামনে থেকে স্কুলছাত্রী অপহরণ, ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার—স্বস্তির মাঝেও রয়ে গেছে বহু প্রশ্ন Dialyzer theft at Faridpur Medical College Hospital due to nurse Nadia Akhter’s negligence, 1 person arrested মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা কালিয়াকৈর ঢাকা টাংগাইল মহাসড়কের পাশে ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন, ভোগান্তিতে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা  বৃষ্টির পর আকাশে রঙের খেলা: রংধনুর বিজ্ঞান ও গ্রামীণ বিশ্বাস ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যা রহস্য উদঘাটন, নারীসহ গ্রেফতার ৩ কালিয়াকৈরে ইভটিজিংয়ের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

মাদকে বাধা দেওয়ায় ইউপি সদস্য ও পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ, আতঙ্কে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৬০১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ক্রাইম রিপোর্টার ফরিদপুর।

ফরিদপুর সদর উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলায় এক নারী ইউপি সদস্য ও তার পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহর থেকে সিএন্ডবি ঘাট হয়ে কবিরপুর ও বিল্লালের ঘাট পেরিয়ে মোহন মিয়ার পুরাতন হাট পর্যন্ত বিস্তৃত দুর্গম চরাঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠেছে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন। এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, লোকমান খান ও সজীব খান নামে দুই ব্যক্তি এই মাদক চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য তছিরন বক্কার ও তার স্বামী বক্কার ফকির সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। হামলায় গুরুতর আহত হন বক্কার ফকির। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ইউপি সদস্য তছিরন বক্কার বলেন, হঠাৎ ফোনে খবর পাই আমার স্বামীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সন্ত্রাসী আমিরুদ্দিন খান আমার গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে। আমি এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েও যদি নিরাপদ না থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদ থাকবে।

ভুক্তভোগী বক্কার ফকির জানান, লোকমান খান, আকমাল খান, সুজন খান, রফিক, ফারুকসহ আরও কয়েকজন অতর্কিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়। কারণ আমি লোকমান খার মাদক সেবনের একটি ভিডিও ধারণ করেছিলাম।

এদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুললেন রাশেদ খান নামে এক ব্যক্তি বলেন, তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, আমার নামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি একজন কৃষক। এই চরে আমার বড় কলা বাগান ও ফসলি জমি রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম নামের এক বৃদ্ধা অভিযোগ করে বলেন, বিল্লাল খানের নেতৃত্বে আমার বাড়ির প্রবেশপথে অন্য একজনকে বাড়ি তুলে দিয়েছে। এখন আমি আমার বাড়িতে ঢুকতেই পারছি না। এমনকি আমার ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, যেদিন প্রশাসন লোকমান খান’কে ধরতে আসে, সেদিন তার পরিবারের লোকজন আমাকে মারধর করে। তারা আমাকে অভিযুক্ত করে যে আমি নাকি তাকে ধরিয়ে দিয়েছি।

স্থানীয় দোকানদার ইলিয়াস দেওয়ান বলেন, আমার দোকানের সামনে বক্কার ফকিরের ওপর লোকমান খান, সজীব খান, আমিরুদ্দিন খান, নঈমউদ্দিন খানসহ আরও কয়েকজন হামলা করে। এ সময় তারা আমার দোকান থেকে টাকা-পয়সা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি লোকমান খানের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে। এর আগেও তিনি কয়েকবার  গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে মিথ্যা মামলা ও মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। এতে করে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত অভিযুক্ত মাদক কারবারিদের গ্রেফতার এবং নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মাদকে বাধা দেওয়ায় ইউপি সদস্য ও পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ, আতঙ্কে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

আপডেট সময় : ১২:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

 

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ক্রাইম রিপোর্টার ফরিদপুর।

ফরিদপুর সদর উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলায় এক নারী ইউপি সদস্য ও তার পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহর থেকে সিএন্ডবি ঘাট হয়ে কবিরপুর ও বিল্লালের ঘাট পেরিয়ে মোহন মিয়ার পুরাতন হাট পর্যন্ত বিস্তৃত দুর্গম চরাঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠেছে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন। এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, লোকমান খান ও সজীব খান নামে দুই ব্যক্তি এই মাদক চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য তছিরন বক্কার ও তার স্বামী বক্কার ফকির সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। হামলায় গুরুতর আহত হন বক্কার ফকির। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ইউপি সদস্য তছিরন বক্কার বলেন, হঠাৎ ফোনে খবর পাই আমার স্বামীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সন্ত্রাসী আমিরুদ্দিন খান আমার গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে। আমি এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েও যদি নিরাপদ না থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদ থাকবে।

ভুক্তভোগী বক্কার ফকির জানান, লোকমান খান, আকমাল খান, সুজন খান, রফিক, ফারুকসহ আরও কয়েকজন অতর্কিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়। কারণ আমি লোকমান খার মাদক সেবনের একটি ভিডিও ধারণ করেছিলাম।

এদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুললেন রাশেদ খান নামে এক ব্যক্তি বলেন, তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, আমার নামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি একজন কৃষক। এই চরে আমার বড় কলা বাগান ও ফসলি জমি রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম নামের এক বৃদ্ধা অভিযোগ করে বলেন, বিল্লাল খানের নেতৃত্বে আমার বাড়ির প্রবেশপথে অন্য একজনকে বাড়ি তুলে দিয়েছে। এখন আমি আমার বাড়িতে ঢুকতেই পারছি না। এমনকি আমার ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, যেদিন প্রশাসন লোকমান খান’কে ধরতে আসে, সেদিন তার পরিবারের লোকজন আমাকে মারধর করে। তারা আমাকে অভিযুক্ত করে যে আমি নাকি তাকে ধরিয়ে দিয়েছি।

স্থানীয় দোকানদার ইলিয়াস দেওয়ান বলেন, আমার দোকানের সামনে বক্কার ফকিরের ওপর লোকমান খান, সজীব খান, আমিরুদ্দিন খান, নঈমউদ্দিন খানসহ আরও কয়েকজন হামলা করে। এ সময় তারা আমার দোকান থেকে টাকা-পয়সা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি লোকমান খানের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে। এর আগেও তিনি কয়েকবার  গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে মিথ্যা মামলা ও মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। এতে করে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত অভিযুক্ত মাদক কারবারিদের গ্রেফতার এবং নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।