- আপডেট সময় : ০৮:২২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮৩ বার পড়া হয়েছে

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩: বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণে মেতেছে ফরিদপুর
রেজাউল করিম -ফরিদপুর
“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো”—এই চিরন্তন আহ্বানে নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিয়েছে গোটা দেশ। বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর জেলাজুড়ে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ।
পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এ দিনটি সকল সংকীর্ণতা, কূপমণ্ডূকতা ও জীর্ণতা দূর করে উদার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। নতুন বছরের আগমনে মানুষের মনে জাগে নতুন আশার আলো, নতুন করে বাঁচার প্রেরণা। বাঙালি হিসেবে আমাদের স্বজাত্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এই দিনটিতে আরও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ পায়।
নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ বৈশাখী মেলা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বৈশাখী মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ নজরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, ফরিদপুর, মোঃ আফজাল হোসেন খান পলাশ চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ ফরিদপুর।আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলা সংস্কৃতি চর্চা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে বাংলা নববর্ষের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য “বৈশাখী শোভাযাত্রা” বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অম্বিকা ময়দান গিয়ে শেষ হয়। রঙ-বেরঙের সাজে সজ্জিত এই শোভাযাত্রা নগরবাসীর মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।
এরপর অম্বিকা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় বর্ষবরণ উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকরা।
দিনের শেষাংশে পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ফরিদপুর এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আরেকটি জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কামরুন নাহার পপি, সভানেত্রী, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), ফরিদপুর।
দিনব্যাপী এই আয়োজনগুলোতে ফরিদপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো জেলায় বিরাজ করে আনন্দঘন পরিবেশ।
নতুন বছর সকলের জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি—এই প্রত্যাশায় শেষ হয় এবারের বর্ষবরণ উৎসব।




















