এই তাড়ানোকে কেন্দ্র করে আলফাডাঙ্গায় শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ, আটক ১
- আপডেট সময় : ০৪:১২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফরিদপুরের উপজেলায় গরু তাড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে গরুর সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নির্যাতনের শিকার তামিম ইসলাম (১০) বরিশালের উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নওয়াপাড়া এলাকায় লজিং থেকে স্থানীয় মারকাজুল কুরআন মাদরাসার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়ন করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে একটি গরু মাদরাসার সীমানার ভেতরে প্রবেশ করে গাছপালা খেতে শুরু করে। এ সময় তামিম গরুটিকে তাড়িয়ে দেয়। এতে গরুর মালিক কাওছার মৃধা ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির ওপর চড়াও হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তামিমকে গরুর রশি দিয়ে গরুর সঙ্গে বেঁধে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গরুটি হঠাৎ দৌড়াতে শুরু করলে তামিমও রশির টানে ছুটতে বাধ্য হয়। একপর্যায়ে রশিটি তার গলায় পেঁচিয়ে গেলে শ্বাসরোধের উপক্রম হয়। শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। রশির চাপে তার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকালে নওয়াপাড়া ও কুচিয়াগ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসলেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এরপর স্থানীয় যুবসমাজ অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেয়।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শুক্রবার দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কাওছার মৃধাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় যুবনেতা মোমিনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “একটি শিশুর সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
লজিং মালিক চেরাগ আলী জানান, “তামিম আমার নিজের সন্তানের মতো। তার ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক, সেটাই চাই।”
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আসাদুজ্জামান বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
অভিযুক্তের ভাই বিশু মৃধা বলেন, ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

















