ফরিদপুরের সালথায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, থানায় এজাহার দায়ের।
- আপডেট সময় : ১২:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ক্রাইম রিপোর্টার ফরিদপুর।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠালবাড়িয়া গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সংঘবদ্ধ হামলা, মারধর, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোঃ সোলায়মান (৪১) নামে এক ব্যক্তি সালথা থানায় ৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-২২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকটি পক্ষের মধ্যে দলীয় ও সামাজিক বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় বাদী প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করা হয়। তার চিৎকার শুনে এগিয়ে আসা ফুফাতো ভাই মিরাজ মাতুব্বর, চাচা সোহেল মোল্যা ও আলম মোল্যাসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকেও মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা বাদীর তিনটি বসতঘর, টিনের বেড়া, দরজা-জানালা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। একই সঙ্গে ঘর থেকে ২৫ বস্তা ধান, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এছাড়া বাদীর আত্মীয় মিরাজ মাতুব্বর, সোহেল মোল্যা, আলম মোল্যা, আলামিন মোল্যা ও ছিদ্দিক মোল্যার বসতঘরেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন ঘরবাড়ি, টিনের বেড়া, দরজা-জানালা, রান্নাঘর, টিউবওয়েল এবং আসবাবপত্র ভাঙচুরের মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, হামলার সময় বিভিন্ন ঘর থেকে নগদ টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়। হামলার একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহতরা স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সালথা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়।
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ বাবলুর রহমান খান জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিস্থিতির ওপর পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে।


















