ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজবাড়ীতে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার: র‌্যাব-১০ এর অভিযান টেকনাফে ১৬ বছরের কিশোর অপহরণ, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি !  নড়াইলে সরকারি জমি দখল ও জলাবদ্ধতার অভিযোগ, দুর্ভোগে অর্ধশত পরিবার ফরিদপুরে শালিস বৈঠক ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ। নগরকান্দায় স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় সালিস কারীদের নামে মিথ্যা অভিযোগ  নওগাঁয় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৫০ লিটার চোলাই মদসহ মদ ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে সচেতনতা কার্যক্রম স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরছে জেলা তথ্য অফিস গুজবের বলি ট্রাকচালক হান্নান: ২ বছরের শিশু মুসলিমা এখন দাদা-দাদির কোলে—বিচার ও সহায়তার দাবিতে এলাকাবাসী ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬” এর শুভ উদ্বোধন ফরিদপুর সদরে মনিরুজ্জামানের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

কথিত সাংবাদিক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ৯২ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কথিত সাংবাদিক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট :

ফরিদপুর সদর উপজেলার পূর্ব গোয়ালচামট খোদা বক্স রোড মসজিদ সংলগ্ন ৮ নং ওয়ার্ডে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কথিত সাংবাদিক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত এলাকার ১০৩ নং মৌজার বিএস খতিয়ান নং ১৭১৩ ও দাগ নং ৪২৯১ নম্বর জমির মোট পরিমাণ ১০ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ জমির মালিক মোঃ মাসুদ মিয়া এবং অপর ৫ শতাংশের মালিক মোঃ রেজওয়ানুল হক গং। দীর্ঘদিন ধরে উক্ত জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সর্বশেষ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি মীমাংসাও হয়।

সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম পক্ষ মোঃ মাসুদ মিয়াকে তার ঘর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা না করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে গত ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোঃ রেজওয়ানুল হক গং সালিশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ঘর সরানোর কাজ শুরু করেন।

এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন- লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরিহিত এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে ভিডিও করতে শুরু করেন। উপস্থিত লোকজন তাকে নিষেধ করলেও তিনি ভিডিও করা বন্ধ করেননি। পরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিনি উপস্থিতদের বলেন, “আমাকে ২ লক্ষ টাকা দিতে হবে, না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করে নিউজ করে দেব।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উক্ত ব্যক্তি, যিনি কথিত সাংবাদিক আনিসুর রহমান নামে পরিচিত, মোঃ রেজওয়ানুল হককে কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেন এবং হুমকি দেন— “তোদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলে পাঠাব।”

ঘটনার পর রেজওয়ানুল হক বলেন, “আমরা আমাদের মামা-ভাগ্নের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে যে বিরোধ ছিল, সেটি নিয়ে আগেও কোতোয়ালি থানায় (তারিখ ২৭-০১-২০২৫) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এখন এই কথিত সাংবাদিক আমাদের হয়রানি ও চাঁদা দাবি করছে।” এসময় রেজওয়ান হক বলেন এই কথিত সাংবাদিক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ২২ অক্টোবর কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি যা বর্তমানে তদন্তধীন রয়েছে।

এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে কথিত সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার করে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছেন। তারা বলেন, “তিনি সাংবাদিকতার আড়ালে ব্যাপক সম্পদ গড়ে তুলেছেন, এখন তিনতলা বিশিষ্ট একটি আলিশান ভবন নির্মাণ করে বসবাস করেন, যার চারপাশে উঁচু প্রাচীর ঘেরা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— সাংবাদিকতা করে এত অর্থের উৎস কোথায়?”এছারাও এলাকাবাসীরা বলেন এই কথিত সাংবাদিক এলাকায় মাঝে মাঝে বলে বেড়ান আমি বাংলাদেশের নামিদামি একাধিক পত্রিকায় ও বিভিন্ন সংগঠন কাজ করি।

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে এই কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কথিত সাংবাদিক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

কথিত সাংবাদিক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট :

ফরিদপুর সদর উপজেলার পূর্ব গোয়ালচামট খোদা বক্স রোড মসজিদ সংলগ্ন ৮ নং ওয়ার্ডে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কথিত সাংবাদিক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত এলাকার ১০৩ নং মৌজার বিএস খতিয়ান নং ১৭১৩ ও দাগ নং ৪২৯১ নম্বর জমির মোট পরিমাণ ১০ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ জমির মালিক মোঃ মাসুদ মিয়া এবং অপর ৫ শতাংশের মালিক মোঃ রেজওয়ানুল হক গং। দীর্ঘদিন ধরে উক্ত জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সর্বশেষ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি মীমাংসাও হয়।

সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম পক্ষ মোঃ মাসুদ মিয়াকে তার ঘর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা না করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে গত ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোঃ রেজওয়ানুল হক গং সালিশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ঘর সরানোর কাজ শুরু করেন।

এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন- লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরিহিত এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে ভিডিও করতে শুরু করেন। উপস্থিত লোকজন তাকে নিষেধ করলেও তিনি ভিডিও করা বন্ধ করেননি। পরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিনি উপস্থিতদের বলেন, “আমাকে ২ লক্ষ টাকা দিতে হবে, না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করে নিউজ করে দেব।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উক্ত ব্যক্তি, যিনি কথিত সাংবাদিক আনিসুর রহমান নামে পরিচিত, মোঃ রেজওয়ানুল হককে কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেন এবং হুমকি দেন— “তোদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলে পাঠাব।”

ঘটনার পর রেজওয়ানুল হক বলেন, “আমরা আমাদের মামা-ভাগ্নের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে যে বিরোধ ছিল, সেটি নিয়ে আগেও কোতোয়ালি থানায় (তারিখ ২৭-০১-২০২৫) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এখন এই কথিত সাংবাদিক আমাদের হয়রানি ও চাঁদা দাবি করছে।” এসময় রেজওয়ান হক বলেন এই কথিত সাংবাদিক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ২২ অক্টোবর কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি যা বর্তমানে তদন্তধীন রয়েছে।

এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে কথিত সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার করে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছেন। তারা বলেন, “তিনি সাংবাদিকতার আড়ালে ব্যাপক সম্পদ গড়ে তুলেছেন, এখন তিনতলা বিশিষ্ট একটি আলিশান ভবন নির্মাণ করে বসবাস করেন, যার চারপাশে উঁচু প্রাচীর ঘেরা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— সাংবাদিকতা করে এত অর্থের উৎস কোথায়?”এছারাও এলাকাবাসীরা বলেন এই কথিত সাংবাদিক এলাকায় মাঝে মাঝে বলে বেড়ান আমি বাংলাদেশের নামিদামি একাধিক পত্রিকায় ও বিভিন্ন সংগঠন কাজ করি।

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে এই কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।