ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে কাউন্টারে হামলা ম্যানেজার আহত
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১২ বার পড়া হয়েছে

রেজাউল করিম -ফরিদপুর:
ফরিদপুর শহরের পৌর বাস টার্মিনালে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক পরিবহন কাউন্টারে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় বিকাশ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নাজির বিশ্বাস (৪৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে শহরের ব্যস্ততম পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৫-৬ জন যুবক দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে হঠাৎ করেই বিকাশ পরিবহনের কাউন্টারে ঢুকে পড়ে। তারা প্রথমে ভাঙচুর চালায়, পরে ম্যানেজারকে লক্ষ্য করে হামলা করে।
আহত নাজির বিশ্বাস নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লাহুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি বিকাশ পরিবহনের কাউন্টার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিকের মৃত্যুর পর থেকে তিনিই কার্যত সব কার্যক্রম তদারকি করছেন। প্রতিদিন এখান থেকে দূরপাল্লার অন্তত এক ডজন ট্রিপ পরিচালিত হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজির বিশ্বাস অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তার কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছিল। শুরুতে প্রতিটি ট্রিপ থেকে কয়েকটি আসনের সমপরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়। পরে প্রতিদিন বড় অঙ্কের টাকা এবং সর্বশেষ দুই লাখ টাকা এককালীন দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও জানান।
ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা এসে চূড়ান্ত হুমকি দিয়ে যায়। কিছু সময় পর তারা অস্ত্রসহ ফিরে এসে হামলা চালায়। নাজির বিশ্বাসের দাবি, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
তিনি আরও জানান, হামলায় জড়িতদের মধ্যে স্থানীয় মিলন, সবুজ ও প্রিন্স নামে তিনজনকে তিনি শনাক্ত করতে পেরেছেন। তবে অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামলার ঘটনায় টার্মিনাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।



















