ফরিদপুরে ১০ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা
- আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯৪৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর:
ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার শহরের রঘুনন্দপুর এলাকার হাউজিং এস্টেটের উষা ভবন ও আশপাশের এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবি (ভাঙ্গা জোন)-এর অফিসার ইনচার্জ পি.এম. মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভবনের সামনে ও ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আশিকুর রহমান রাহাত (২৫), সুমন মৃধা (৩২), মিরাজুল ইসলাম (২৯), রুমান মোল্লা (২৯) ও মোহাম্মদ সোলায়মান মৃধা (২৬)। তারা সবাই সদর কোতয়ালী থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, আশিকুর রহমান রাহাতের কাছ থেকে ২০টি প্যাকেটে ৪ হাজার পিস, সুমন মৃধার কাছ থেকে ১৪টি প্যাকেটে ২ হাজার ৮০০ পিস এবং খোলা অবস্থায় আরও ১০০ পিসসহ মোট ২ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ১৬টি প্যাকেটে ৩ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। সবমিলিয়ে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ হাজার ১০০ পিসে।
ডিবি (ভাঙ্গা জোন)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পি.এম. মামুনুর রশিদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামছুল আজম বলেন, জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মাধ্যমে বৃহত্তর কোনো মাদক নেটওয়ার্ক জড়িত রয়েছে কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



















