ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে যুবক আটক গাজীপুর -১ আসনে ধানের শীষ বিজয়ী হওয়ায় হিন্দু ভাইবোনদের অভিনন্দন ও সংবর্ধনা শিবচরে যোগদানের ৪ দিন পর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রত্যাহার। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তাল কালিয়াকৈর সরকারি কলেজ: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শিবচরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ আহত ২ ফরিদপুরে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত গোয়ালচামট ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সংস্থার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র সহ গ্রেফতার-৪ জামালপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরের তাম্বুলখানায় প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত।

ঈদের দিনেও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরঞ্জাম চুরি, এক নারীকে হাতে নাতে ধরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ ১৩১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনেও থেমে নেই অনিয়ম। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরির অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) বেলা আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালের ৫ম তলার মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে। আটককৃত নারীর নাম মিনতি রানী দাস (৫০)। তিনি ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন রঘুনন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্বামী সিদাম দাস।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মিনতি রানী দাস হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ড থেকে প্রায় ১০০ পিস (৫০ জোড়া) ৬.৫০ সাইজের হ্যান্ড গ্লাভস চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনতি রানী দাস জানান, তিনি হাসপাতালের ৫ম তলার সার্জারি ওয়ার্ড থেকেই এসব সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছেন।
এদিকে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, মিনতি রানী দাসসহ তার পরিবারের অন্তত চারজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিনা বেতনে কাজ করে আসছেন। তাদের মধ্যে—
চিনু রানী দাস (২য় তলা মেডিসিন ওয়ার্ড)
মিনতি রানী দাস (৫ম তলা মহিলা সার্জারি ওয়ার্ড)
হৃদয় (চিনু রানীর ছেলে, শিশু ওয়ার্ড)
আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তারা প্রভাবশালী একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে হাসপাতালে প্রবেশ করে এভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানার পর মিনতি রানী দাসকে হাসপাতাল কতৃপক্ষের আদেশে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় পাশাপাশি মিনতি রানী দাস কে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে হাসপাল কতৃপক্ষ এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, কীভাবে একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিনা নিয়োগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাজ করার সুযোগ পেল এবং সেখান থেকে সরকারি সরঞ্জাম বের করে নেওয়া সম্ভব হলো—তা নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। পাশাপাশি জড়িত দালাল চক্র ও অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে, যাতে সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং হাসপাতালের সেবার মান অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়। এছাড়াও একাধিক সূত্রে জানা গেছে এই মিনতি রানী দাসের পরিবার পরিজনদের কে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত একাধিক অপরাধ কর্মকাণ্ডের সহযোগি দিরাজ তাদেরকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনা বেতনে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন বলে জানা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঈদের দিনেও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরঞ্জাম চুরি, এক নারীকে হাতে নাতে ধরা

আপডেট সময় : ০৯:২০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনেও থেমে নেই অনিয়ম। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরির অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) বেলা আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালের ৫ম তলার মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে। আটককৃত নারীর নাম মিনতি রানী দাস (৫০)। তিনি ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন রঘুনন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্বামী সিদাম দাস।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মিনতি রানী দাস হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ড থেকে প্রায় ১০০ পিস (৫০ জোড়া) ৬.৫০ সাইজের হ্যান্ড গ্লাভস চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনতি রানী দাস জানান, তিনি হাসপাতালের ৫ম তলার সার্জারি ওয়ার্ড থেকেই এসব সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছেন।
এদিকে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, মিনতি রানী দাসসহ তার পরিবারের অন্তত চারজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিনা বেতনে কাজ করে আসছেন। তাদের মধ্যে—
চিনু রানী দাস (২য় তলা মেডিসিন ওয়ার্ড)
মিনতি রানী দাস (৫ম তলা মহিলা সার্জারি ওয়ার্ড)
হৃদয় (চিনু রানীর ছেলে, শিশু ওয়ার্ড)
আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তারা প্রভাবশালী একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে হাসপাতালে প্রবেশ করে এভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানার পর মিনতি রানী দাসকে হাসপাতাল কতৃপক্ষের আদেশে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় পাশাপাশি মিনতি রানী দাস কে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে হাসপাল কতৃপক্ষ এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, কীভাবে একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিনা নিয়োগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাজ করার সুযোগ পেল এবং সেখান থেকে সরকারি সরঞ্জাম বের করে নেওয়া সম্ভব হলো—তা নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। পাশাপাশি জড়িত দালাল চক্র ও অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে, যাতে সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং হাসপাতালের সেবার মান অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়। এছাড়াও একাধিক সূত্রে জানা গেছে এই মিনতি রানী দাসের পরিবার পরিজনদের কে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত একাধিক অপরাধ কর্মকাণ্ডের সহযোগি দিরাজ তাদেরকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনা বেতনে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন বলে জানা যায়।