ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুরাদ হোসেন মিয়া ফরিদপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে স্বজনরা পবিত্র ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে ঈদ যাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক ও দুর্ঘটনা মুক্ত ফরিদপুর জেলাবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন সাংবাদিক মোঃ ফজলুল হক ফরিদপুরে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা বিতরণ, উপকারভোগীদের মাঝে স্বস্তি ফরিদপুর মেডিকেলে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ১৩ ফরিদপুরে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ, পাকা স্থাপনা নির্মাণে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা। নগরকান্দায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: অ্যাম্বুলেন্স-বিআরটিসি বাস সংঘর্ষে নিহত ৫ ১৩, ১৪ ও ১৬ নং ওয়ার্ডবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন সমাজসেবিকা নাসিমা খাতুন

নতুন বছর : সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও নিরাপত্তার অধিকার একটি মানবিক দর্শনের পথে যাত্রা…

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাজী আশরাফুল হাসান 

নির্বাহী পরিচালক 

এসডিসি, ফরিদপুর 

 

নতুন বছর কেবল সময়ের পরিবর্তন নয় এটি মানুষের বিবেকের সামনে দাঁড় করানো এক নীরব প্রশ্ন।

আমরা কী ধরনের সমাজ গড়ে তুলছি?যেখানে মানুষ কেবল বেঁচে থাকে, নাকি যেখানে মানুষ নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সুস্থভাবে বাঁচার অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকে?

সুস্থভাবে বেঁচে থাকা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানব সভ্যতার ভিত্তি। আর নিরাপত্তা কোনো দান নয় এটি মানুষের জন্মগত অধিকার। তবুও বাস্তব জীবনে এই দুই অধিকারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে দারিদ্র্য, বৈষম্য, অনিশ্চয়তা ও অবহেলা।

এসডিসির পথচলা এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে নয়, বরং এই বাস্তবতার ভেতর দিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নীরব কিন্তু দৃঢ় অঙ্গীকার।

যখন একজন কৃষক নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেন, তখন সেটি শুধু তার আয়ের গল্প নয় এটি একটি পরিবারের সুস্থ ভবিষ্যতের গল্প।

যখন একজন নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন, তখন তা কেবল কর্মসংস্থান নয় তা প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস গঠনের সূচনা। যখন একজন কিশোর বা কিশোরী জীবনদক্ষতা ও সচেতনতা অর্জন করে, তখন সমাজ একটুখানি নিরাপদ হয়ে ওঠে।

এসডিসির প্রতিটি প্রকল্প আসলে একটি গভীর দর্শনের বহিঃপ্রকাশ।

যেখানে উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়,

উন্নয়ন মানে মানুষের ভয় কমে আসা,

অনিশ্চয়তার জায়গায় আস্থা তৈরি হওয়া।

পরিবেশবান্ধব কৃষি, নিরাপদ খাদ্য, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নারী উন্নয়ন, কিশোর-কিশোরী কর্মসূচি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এসব কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়। এগুলো একত্রে মিলে একটি মানবিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে, যেখানে মানুষ ধীরে ধীরে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে শেখে।

একটি সমাজ তখনই সত্যিকারের উন্নত হয়, যখন তার সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষটিও বলে…

আমি নিরাপদ। শুকরিয়া আমি ভালো আছি।”

নতুন বছরে আমাদের অঙ্গীকার তাই আরও গভীর।

আমরা চাই এমন একটি সমাজ…

যেখানে সুস্থতা মানে কেবল রোগমুক্ত শরীর নয়, বরং ভয়ের বাইরে থাকা হৃদয়

যেখানে নিরাপত্তা মানে কেবল আইন নয়, বরং ন্যায়ের উপস্থিতি।

এসডিসি বিশ্বাস করে মানবসম্পদের উন্নয়ন একটি চলমান দায়িত্ব। এটি শেষ হয় না প্রকল্প শেষ হলে, বরং শুরু হয় মানুষের জীবনে তার প্রভাব পড়লে।নতুন বছর আমাদের সেই দায়িত্ব আরও স্পষ্ট করে দেয়।যদি আমাদের কাজ একজন মানুষের জীবনেও সামান্য নিরাপত্তা যোগ করে,যদি একজন শিশুও একটু বেশি নিশ্চিন্তে ঘুমায়, তাহলেই এই পথচলা অর্থবহ।নতুন বছর হোক…

মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে সম্মান করার বছর।নিরাপত্তা বিলাসিতা নয়, ন্যায্য দাবি হিসেবে প্রতিষ্ঠার বছর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নতুন বছর : সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও নিরাপত্তার অধিকার একটি মানবিক দর্শনের পথে যাত্রা…

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

কাজী আশরাফুল হাসান 

নির্বাহী পরিচালক 

এসডিসি, ফরিদপুর 

 

নতুন বছর কেবল সময়ের পরিবর্তন নয় এটি মানুষের বিবেকের সামনে দাঁড় করানো এক নীরব প্রশ্ন।

আমরা কী ধরনের সমাজ গড়ে তুলছি?যেখানে মানুষ কেবল বেঁচে থাকে, নাকি যেখানে মানুষ নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সুস্থভাবে বাঁচার অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকে?

সুস্থভাবে বেঁচে থাকা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানব সভ্যতার ভিত্তি। আর নিরাপত্তা কোনো দান নয় এটি মানুষের জন্মগত অধিকার। তবুও বাস্তব জীবনে এই দুই অধিকারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে দারিদ্র্য, বৈষম্য, অনিশ্চয়তা ও অবহেলা।

এসডিসির পথচলা এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে নয়, বরং এই বাস্তবতার ভেতর দিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নীরব কিন্তু দৃঢ় অঙ্গীকার।

যখন একজন কৃষক নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেন, তখন সেটি শুধু তার আয়ের গল্প নয় এটি একটি পরিবারের সুস্থ ভবিষ্যতের গল্প।

যখন একজন নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন, তখন তা কেবল কর্মসংস্থান নয় তা প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস গঠনের সূচনা। যখন একজন কিশোর বা কিশোরী জীবনদক্ষতা ও সচেতনতা অর্জন করে, তখন সমাজ একটুখানি নিরাপদ হয়ে ওঠে।

এসডিসির প্রতিটি প্রকল্প আসলে একটি গভীর দর্শনের বহিঃপ্রকাশ।

যেখানে উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়,

উন্নয়ন মানে মানুষের ভয় কমে আসা,

অনিশ্চয়তার জায়গায় আস্থা তৈরি হওয়া।

পরিবেশবান্ধব কৃষি, নিরাপদ খাদ্য, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নারী উন্নয়ন, কিশোর-কিশোরী কর্মসূচি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এসব কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়। এগুলো একত্রে মিলে একটি মানবিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে, যেখানে মানুষ ধীরে ধীরে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে শেখে।

একটি সমাজ তখনই সত্যিকারের উন্নত হয়, যখন তার সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষটিও বলে…

আমি নিরাপদ। শুকরিয়া আমি ভালো আছি।”

নতুন বছরে আমাদের অঙ্গীকার তাই আরও গভীর।

আমরা চাই এমন একটি সমাজ…

যেখানে সুস্থতা মানে কেবল রোগমুক্ত শরীর নয়, বরং ভয়ের বাইরে থাকা হৃদয়

যেখানে নিরাপত্তা মানে কেবল আইন নয়, বরং ন্যায়ের উপস্থিতি।

এসডিসি বিশ্বাস করে মানবসম্পদের উন্নয়ন একটি চলমান দায়িত্ব। এটি শেষ হয় না প্রকল্প শেষ হলে, বরং শুরু হয় মানুষের জীবনে তার প্রভাব পড়লে।নতুন বছর আমাদের সেই দায়িত্ব আরও স্পষ্ট করে দেয়।যদি আমাদের কাজ একজন মানুষের জীবনেও সামান্য নিরাপত্তা যোগ করে,যদি একজন শিশুও একটু বেশি নিশ্চিন্তে ঘুমায়, তাহলেই এই পথচলা অর্থবহ।নতুন বছর হোক…

মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে সম্মান করার বছর।নিরাপত্তা বিলাসিতা নয়, ন্যায্য দাবি হিসেবে প্রতিষ্ঠার বছর।