দৌলৎদিয়া ফেরিঘাটে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা: শোকে স্তব্ধ জনপদ, ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন শোকাহত পরিবারদের
- আপডেট সময় : ০১:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৯৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজবাড়ীর দৌলৎদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা যেন মুহূর্তেই নিভিয়ে দিয়েছে বহু প্রাণের প্রদীপ। এক বিভীষিকাময় ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে স্বজন হারানোর কান্না আর আহাজারিতে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাব। এক শোকবার্তায় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, “এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, পুরো জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তাদের জন্য জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করি।” একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয় এবং পরিচয় শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের হাসপাতালগুলোতে স্বজনদের ভিড়—কেউ খুঁজছেন হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মুখ, কেউবা নিশ্চিত হচ্ছেন না ফেরার দেশে পাড়ি জমানোর নির্মম সত্যটি।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষ—রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দা। নারী, পুরুষ ও নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু এই দুর্ঘটনাকে আরও বেশি বেদনাদায়ক করে তুলেছে। নিহতদের তালিকায় রেহেনা আক্তার, মর্জিনা খাতুন, রাজীব বিশ্বাস, জহুরা অন্তি, কাজী সাইফ, মর্জিনা আক্তার, ছোট্ট ইস্রাফিল, সাফিয়া আক্তার রিন্থি, ফাইজ শাহানূর, তাজবিদ এবং বাসের চালক আরমান খানসহ আরও অনেকে রয়েছেন।
প্রতিটি নামের পেছনে রয়েছে একটি গল্প, একটি পরিবার, অসংখ্য স্বপ্ন—যা এক মুহূর্তে থেমে গেছে নির্মম বাস্তবতার কাছে। অনেক পরিবারে নেমে এসেছে অসহনীয় শোক, কেউ হারিয়েছেন মা, কেউ সন্তান, কেউবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, যানবাহনের ত্রুটি কিংবা অসতর্কতা—যে কারণেই হোক না কেন, এমন দুর্ঘটনা আর যেন না ঘটে, সে জন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
দৌলৎদিয়া ফেরিঘাটের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও আমাদের সামনে প্রশ্ন তুলে ধরেছে—আমরা কতটা নিরাপদ আমাদের সড়কে?
শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে, ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি রোধে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

























