ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বটিয়াঘাটায় প্রতারক নারী জৌলুস ইসহাক নাজমা দম্পতি গ্রেফতার ৮ নং ওয়ার্ডবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক নেতা মারুফ মোল্লা ফরিদপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কালিয়াকৈর ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুরাদ হোসেন মিয়া ফরিদপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে স্বজনরা পবিত্র ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে ঈদ যাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক ও দুর্ঘটনা মুক্ত ফরিদপুর জেলাবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন সাংবাদিক মোঃ ফজলুল হক ফরিদপুরে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা বিতরণ, উপকারভোগীদের মাঝে স্বস্তি

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ একই প্রতিষ্ঠানের পুনঃপুন কাজ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি জোরালো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯৭ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর আউটসোর্সিং কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও সহায়ক সেবা খাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকভাবে কাজ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, অতীত কয়েকটি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় একই প্রতিষ্ঠানের প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবারই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য যোগ্য প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও ওই প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে আসছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ টেন্ডারেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তাদের বাদ পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানান, “আমরা সব শর্ত পূরণ করেছি, তবুও অজানা কারণে আমাদের বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।”
অভিযোগ আরও রয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে একটি অঘোষিত প্রভাববলয় কাজ করছে, যেখানে আর্থিক লেনদেন বা প্রভাব খাটানোর বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও ধারাবাহিকভাবে একই প্রতিষ্ঠানের কাজ পাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
হাসপাতাল পরিচালকের বিরুদ্ধে অনানুষ্ঠানিকভাবে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি, যা বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ অবহেলা করার সুযোগ নেই। তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে—
গত কয়েক বছরের টেন্ডার নথি পর্যালোচনা
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই
—এই তিনটি বিষয় খতিয়ে দেখলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
সচেতন নাগরিকরা আরও বলেন, “যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিতর্কিত টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দরপত্র আহ্বান করতে হবে।”
ফরিদপুরবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাবমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ একই প্রতিষ্ঠানের পুনঃপুন কাজ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি জোরালো

আপডেট সময় : ১১:২৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর আউটসোর্সিং কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও সহায়ক সেবা খাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকভাবে কাজ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, অতীত কয়েকটি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় একই প্রতিষ্ঠানের প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবারই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য যোগ্য প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও ওই প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে আসছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ টেন্ডারেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তাদের বাদ পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানান, “আমরা সব শর্ত পূরণ করেছি, তবুও অজানা কারণে আমাদের বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।”
অভিযোগ আরও রয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে একটি অঘোষিত প্রভাববলয় কাজ করছে, যেখানে আর্থিক লেনদেন বা প্রভাব খাটানোর বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও ধারাবাহিকভাবে একই প্রতিষ্ঠানের কাজ পাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
হাসপাতাল পরিচালকের বিরুদ্ধে অনানুষ্ঠানিকভাবে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি, যা বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ অবহেলা করার সুযোগ নেই। তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে—
গত কয়েক বছরের টেন্ডার নথি পর্যালোচনা
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই
—এই তিনটি বিষয় খতিয়ে দেখলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
সচেতন নাগরিকরা আরও বলেন, “যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিতর্কিত টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দরপত্র আহ্বান করতে হবে।”
ফরিদপুরবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাবমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।