বটিয়াঘাটায় প্রতারক নারী জৌলুস ইসহাক নাজমা দম্পতি গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

রেজাউল করিম-বিশেষ প্রতিনিধি
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা, মিথ্যা আশ্বাস, বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং নানা কৌশলে হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত ইসাহাক খাঁন অবশেষে আইনের জালে আটক হয়েছে। বটিয়াঘাটা থানার সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ শাহীন এর দিকনির্দেশনা ও দক্ষ অভিযানের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ থেকে ওয়ারেন্টভুক্ত এই আসামিকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, নবাবগঞ্জ থানাধীন শিকারপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসাহাক খাঁন দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পরিবার ও সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, গ্রামের বাড়িতে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় তিনি ফরিদপুরের সদর এলাকায় এসে আরেকটি পরিবারে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে শুশুর বাড়ির লোকজন অনেক ধারদিনা করে বিদেশে পাঠায়। বিদেশে ভালো সুযোগ পেয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেন এবং বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন, টাকা নেওয়ার পর তিনি তাদের বিদেশে পাঠাননি এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
এই প্রতারণার বোঝা গিয়ে পড়ে একটি নিরীহ ও সম্মানিত পরিবারের ওপর। ভুক্তভোগীদের মামলা, সামাজিক চাপ এবং সম্মান রক্ষার লড়াই করতে গিয়ে সেই পরিবারকে হারাতে হয়েছে নিজেদের বসতভিটা। একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার আজ নিঃস্ব হওয়ার পেছনে ইসাহাক খাঁনের প্রতারণাকেই দায়ী করছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ আরও রয়েছে, বিদেশে অবস্থানকালে নাজমা নামের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে তিনি নতুন জীবন শুরু করেন। পরে দেশে ফিরে খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায় বসবাস শুরু করে সেখানেও নানা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পূর্বের পরিবার ও সন্তানদের প্রতিও তিনি চরম দায়িত্বহীন আচরণ করেছেন বলে জানা যায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অভিযোগ হলো—নিজ সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার ঘটনাগুলো। অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদপুরে থাকা সন্তানদের কৌশলে খুলনায় নিয়ে গিয়ে দুই নাবালিকা কন্যাকে অল্প বয়সে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া হয়। একজনের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর, অন্যজনের ১২ বছর। অন্যদিকে ছোট ছেলে ইমনকে লেখাপড়া থেকে দূরে রেখে সংসারের কাজে লাগানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একটি মায়ের বুক খালি করে সন্তানদের দূরে সরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা এলাকাবাসীর মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ইসাহাক খাঁনের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মানুষ সামাজিক মাধ্যমে বটিয়াঘাটা থানার ওসি শাহীন ভাই ও অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের প্রশংসা করেছেন। ভুক্তভোগীদের অনেকেই বলেছেন—“আল্লাহ ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না। মজলুমের চোখের পানি কখনো বৃথা যায় না।”
সমাজের সচেতন মানুষ মনে করছেন, যারা সাধারণ মানুষের স্বপ্ন নিয়ে ব্যবসা করে, পরিবার ধ্বংস করে, শিশুদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে এবং প্রতারণার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে নিঃস্ব করে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ এমন অপরাধীদের কঠোর বিচার না হলে সমাজে প্রতারণা ও মানবিক বিপর্যয়ের এই চক্র কখনো থামবে না।
বিঃদ্রঃ ভুক্তভোগী পরিবারের সম্মান ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে ফরিদপুরের পরিবারের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

























