ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে ইয়াবা সেবনের গ্যাস লাইটার চাওয়া কে কেন্দ্র করে অসহায় বোতল সংগ্রহকারীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিলেন মাস্টারের ছেলে অসুস্থতার ছুটি না পেয়ে রাতের ডিউটিতে শ্রমিকের মৃত্যু, কারখানার সামনে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় পরিচালকের ১০ বছরের কারাদণ্ড কালিয়াকোরে বিশেষ অভিযানে অবৈধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়  কালিয়াকৈরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কথিত নৈরাজ্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অস্থিতিশীলতার বি এন পির প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল  ২৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি আটক ২৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি আটক সালথায় হাত- পা কাটা অবস্থায় যুবকের লাশ উদ্ধার কালিয়াকৈরে কাবিটা ও কাবিখার ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার চেক বিতরন

মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় পরিচালকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রেজাউল করিম, ফরিদপুর

ফরিদপুর শহরের একটি মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক মো. আশরাফ আলী (৪৬)-কে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আশরাফ আলী ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট এলাকার রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক। তিনি মাদ্রাসার একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরী ওই মাদ্রাসার আবাসিক হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিকেলে তাকে শ্রেণিকক্ষ থেকে পরিচালকের কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সে সময় পরিচালকের পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসায় অনুপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একান্তে পেয়ে আশরাফ আলী ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে মেয়েটি কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে পুরো ঘটনা জানায়।

পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগীর বাবা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করলেও তিনি পরে জামিনে মুক্তি পান।

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার বিচার কার্যক্রম চলাকালে যুক্তিতর্ক পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকে আসামি পলাতক রয়েছেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, আদালত অর্থদণ্ডের ৭০ হাজার টাকা আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের কঠোর অবস্থান সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় পরিচালকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০২:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

 

রেজাউল করিম, ফরিদপুর

ফরিদপুর শহরের একটি মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক মো. আশরাফ আলী (৪৬)-কে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আশরাফ আলী ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট এলাকার রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক। তিনি মাদ্রাসার একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরী ওই মাদ্রাসার আবাসিক হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিকেলে তাকে শ্রেণিকক্ষ থেকে পরিচালকের কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সে সময় পরিচালকের পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসায় অনুপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একান্তে পেয়ে আশরাফ আলী ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে মেয়েটি কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে পুরো ঘটনা জানায়।

পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগীর বাবা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করলেও তিনি পরে জামিনে মুক্তি পান।

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার বিচার কার্যক্রম চলাকালে যুক্তিতর্ক পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকে আসামি পলাতক রয়েছেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, আদালত অর্থদণ্ডের ৭০ হাজার টাকা আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের কঠোর অবস্থান সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে।